ঢাকা বুধবার, ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ২৮ মাঘ ১৪৩২ | বেটা ভার্সন

সাফ অনূর্ধ্ব-১৯ নারী চ্যাম্পিয়নশিপ

ফাইনালে বাংলাদেশ, প্রতিপক্ষ সেই ভারত

ফাইনালে বাংলাদেশ, প্রতিপক্ষ সেই ভারত

আগের ম্যাচে ভারতকে হারিয়ে টানা দ্বিতীয় জয়ে শিরোপা লড়াইয়ের মঞ্চে এক পা দিয়ে রেখেছিল বাংলাদেশ। তৃতীয় ম্যাচে নেপালকে হারিয়ে সাফ অনূর্ধ্ব-১৯ নারী চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনাল নিশ্চিত নিশ্চিত করেছে লাল-সবুজের মেয়েরা। গতকাল বুধবার পোখরা রঙ্গশালায় রাউন্ড রবিন লিগে নিজেদের তৃতীয় ও শেষ ম্যাচে স্বাগতিকদের ৪-০ গোলে হারিয়েছে পিটার বাটলারের শিষ্যরা। এদিন ম্যাচের শুরুতেই বাংলাদেশকে এগিয়ে নেন প্রতিমা মুন্দা। পরে বদলি নেমে হ্যাটট্রিকের আলো ছড়ান আলপি আক্তার।

এ পর্বের সবগুলো ম্যাচ জিতে ৯ পয়েন্ট নিয়ে সেরা হলো বাংলাদেশ। ৬ পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয় ভারত। এই দুই দল আগামী শনিবার মুখোমুখি হবে শিরোপা লড়াইয়ে।

রাউন্ড রবিন লিগে ভারতকে ২-০ গোলে হারিয়েছিল বাংলাদেশ। ওই ম্যাচে জালের দেখা পেয়েছিলেন অধিনায়ক অপির্তা বিশ্বাস ও আলপি। বেঞ্চের শক্তি পরখ করে নিতে নেপালের বিপক্ষে শুরুর একাদশে আলপি, শান্তি মার্দি, অর্পিতাদের রাখেননি পিটার জেমস বাটলার। তবুও তৃতীয় মিনিটেই এগিয়ে যায় বাংলাদেশ। মামনি চাকমার কর্নারে দূরের পোস্টে প্রতিমা মুন্দা হেডে লক্ষ্যভেদ করেন। ১৯তম মিনিটে বর্ষার হেড অনায়াসে গ্লাভসে জমান ইয়ারজান বেগম। এর আগে-পরে পোস্টে তার কাটে অলস সময়।

আক্রমণের ধার বাড়াতে ৩৪তম মিনিটে দুটি পরিবর্তন আনেন বাটলার। মীরা খাতুন ও পুর্ণিমা মারমাকে তুলে শান্তি মার্দি ও আলপিকে নামান কোচ।

প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে ব্যবধান হয় দ্বিগুণ। বক্সের একটু বাইরে ফ্রি কিক পেয়েছিল বাংলাদেশ। মামনি ‘ডামি’ করার পর, আলপি দারুণ শটে লাফিয়ে ওঠা গোলরক্ষকের মাথার ওপর দিয়ে জাল খুঁজে নেন। ৬১তম মিনিটে ব্যবধান বাড়তে পারত আরও। শান্তির চিপ শট গোলকিপারকে ফাঁকি দেওয়ার পর গোললাইন থেকে ফেরান এক ডিফেন্ডার। একটু পরই ব্যক্তিগত দ্বিতীয় গোলটি করেন আলপি। সতীর্থের থ্রু পাস অফসাইডের ফাঁদ ভেঙে নিয়ন্ত্রণে নিয়ে, আগুয়ান গোলকিপারের পাশ দিয়ে নিচু শটে লক্ষ্যভেদ করেন এই ফরোয়ার্ড। সৌভাগ্যের ছোঁয়ায় ৮২তম মিনিটে হ্যাটট্রিক পূরণ হয় আলপির। ডান দিক থেকে আসা বল নেপালের এক ডিফেন্ডারের পা হয়ে চলে যায় আলিজার কাছে, কিন্তু তিনি তালগোল পাকান। বল ক্লিয়ার করতে শট নিয়েছিলেন আলিজা, কিন্তু সংযোগ ঠিকঠাক না হওয়ায় বল ছুটতে থাকে পোস্টের দিকে। গোলকিপার ঝর্না ডুমরাকোটি গ্লাভস ছোঁয়ালেও আটকাতে পারেনি, সেই সুযোগে কাজে লাগান আলপি। ফাইনালে ওঠার স্বপ্ন গুঁড়িয়ে যাওয়া নেপালের হতাশা আরও বাড়ে দ্বিতীয়ার্ধের যোগ করা সময়ে। আলপিকে পেছন থেকে টেনে ধরে লাল কার্ড দেখেন মায়া মাসকি।

এই ম্যাচে নেপালের বিপক্ষে বেঞ্চের শক্তি পরখ করে নিতে সেরা একাদশে সাতটি পরিবর্তন আনেন বাটলার। তৃতীয় মিনিটে প্রতিমা মুন্দার গোলে এগিয়ে যায় দল। এরপর অবশ্য খেলায় গতি ও আক্রমণের ধার কমে। সেটা বাড়াতে আলপি আক্তার, শান্তি মার্দি, সুরভি আকন্দ প্রীতিদের নামান তিনি। আলপির হ্যাটট্রিকে মেলে প্রত্যাশিত জয়। সব মিলিয়ে রাউন্ড রবিন লিগে দলের পারফরম্যান্সে খুশি কোচ বাটলার। ‘নেপালের বিপক্ষে যখনই খেলি, আমাদের লড়াই করতে হয়। কেননা, তারা যোদ্ধা এবং সমান প্রচেষ্টা ও কমিটমেন্ট নিয়ে তাদের বিপক্ষে আমাদের লড়তে হয়। আমার মনে হয়, মেয়েরা সেটা খুবই ভালোভাবে করতে পেরেছে, বিশেষ করে শুরুর ১৫-২০ মিনিট। এরপর আমাদের গতি কিছুটা কমেছিল।’

বাংলাদেশের কোচ বলেন, ‘সাতটি পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম কয়েকজনকে বিশ্রাম দেওয়ার জন্য। কেননা, আমার মনে হয়, আপনি ততটাই শক্তিশালী দল, যতটা আপনার বেঞ্চ শক্তিশালী। মৌমিতা ছিল অসাধরণ, সুরভি রানী আসলেই ভালো করেছে। আজকের ম্যাচ থেকে অনেক ইতিবাচক দিক এবং শিক্ষণীয় বিষয় আছে আমাদের।’

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত