
বাংলাদেশের নারী ফুটবল ইতিহাসে রচিত হতে যাচ্ছে এক নতুন অধ্যায়। প্রথমবারের মতো এশিয়ান কাপের মূল মঞ্চে নামতে যাচ্ছে লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। অস্ট্রেলিয়ায় মেয়েদের এই টুর্নামেন্ট মাঠে গড়াবে ১ মার্চ থেকে। টুর্নামেন্টে অংশ নিতে গত শুক্রবার রাতে সিডনি পৌঁছেছে বাংলাদেশ নারী ফুটবল দল। অস্ট্রেলিয়ান সময় রাত সাড়ে বারোটায় ভ্যালেন্টাইন স্পোর্টস পার্কে পৌঁছান ঋতুপর্ণারা।
মাত্র সাত ঘণ্টা বিশ্রাম নিয়ে স্থানীয় সময় গতকাল শনিবার সকাল আটটায় অনুশীলন শুরু করান কোচ পিটার বাটলার। সকাল আটটা থেকে দশটা দুই ঘণ্টা অনুশীলন হয়েছে বাংলাদেশ দলের। ভ্রমণক্লান্তি থাকলেও অনুশীলন ভালোই হয়েছে এমনটাই জানিয়েছেন বাফুফের ভিডিও বার্তায় গোলরক্ষক কোচ মাসুদ আহমেদ উজ্জ্বল বলেন, ভ্রমণজনিত ক্লান্তি খেলোয়াড়দের মধ্যে থাকলেও তেমন কোনো ইনজুরি শঙ্কা নেই। সবাই ফিট রয়েছে। আমরা চেষ্টা করছি আবহাওয়ার সঙ্গে মানিয়ে নিতে।
আমাদের ট্রেনিং ভালোই হয়েছে। ২৭ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ এএফসির অফিসিয়িাল টিম হোটেলে উঠবে। তার আগে আগামী ২৬ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ভ্যালেন্টাইন স্পোর্টস পার্কেই থাকবেন ঋতুপর্ণারা। গত শুক্রবার রাতে সেখানে থেকে ও গতকাল শনিবার অনুশীলনের পর এই স্পোর্টস পার্কের সুযোগ সুবিধা নিয়ে বাংলাদেশের গোলরক্ষক কোচ বলেন, প্রপার ফুটবল টিমের জন্য যা সুযোগ-সুবিধা দরকার সবই রয়েছে। সিডনির আবহাওয়া সকাল-দুপুরে গরম। সকালে ঘণ্টা দুইয়েক অনুশীলনের পর বিকালে ঋতুপর্ণারা জিম করেছেন। আজ সকালে আবার অনুশীলন সূচি রয়েছে। ২৫ ফেব্রুয়ারি ভ্যালেন্টাইন স্পোর্টস ক্লাবে স্থানীয় এক ক্লাবের সঙ্গে একটি প্রীতি ম্যাচ খেলবে।
আগামী ৩ মার্চ প্রতিযোগিতার ৯ বারের চ্যাম্পিয়ন চীনের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে গ্রুপ পর্বে যাত্রা শুরু করবে বাংলাদেশ।
‘বি’ গ্রুপে বাংলাদেশের অপর দুই প্রতিপক্ষ এশিয়ান কাপের তিনবারের চ্যাম্পিয়ন উত্তর কোরিয়া ও উজবেকিস্তান। চীন ও উত্তর কোরিয়ার বিপক্ষে সিডনিতে এবং উজবেকিস্তানের বিপক্ষে পার্থে খেলবে বাংলাদেশ। অস্ট্রেলিয়ার কন্ডিশনের সঙ্গে মানিয়ে নিতে এবং সেখানকার স্থানীয় একটি দলের বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচ খেলে প্রস্তুতি শানিয়ে নিতে একটু আগেভাগেই দেশটিতে গিয়েছে বাংলাদেশ দল। প্রথমবারের মতো উইমেনস এশিয়ান কাপ খেলতে যাওয়া বাংলাদেশ দলকে শুভকামনা জানিয়েছেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক।
‘বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গনের ইতিহাসে এক সোনালি অধ্যায় সূচিত করে আমাদের নারী ফুটবল দল প্রথমবারের মতো এশিয়ার এই সর্বোচ্চ মঞ্চে লড়াই করতে যাচ্ছে। এই গৌরবময় মুহূর্তে আমি বাংলাদেশ সরকারের যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে দলের সব খেলোয়াড়, কোচ এবং সবাইকে আন্তরিক অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানাই।’ তিনি বলেন, ‘আমাদের মেয়েরা বারবার প্রমাণ করেছে, অদম্য ইচ্ছা আর পরিশ্রম থাকলে যেকোনো বাধা জয় করা সম্ভব। দক্ষিণ এশিয়ার গণ্ডি পেরিয়ে আজ তারা এশিয়ার সেরা দলগুলোর মুখোমুখি হতে যাচ্ছে। এটি শুধু নারী ফুটবলের উন্নয়নই নয়, বরং ক্রীড়াবান্ধব বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়ে আমাদের নারীশক্তির অগ্রযাত্রার এক অনন্য প্রতিফলন।’
মন্ত্রণালয়ের অফিসিয়াল ফেইসবুকে দেওয়া বার্তায় সাবেক এ তারকা ফুটবলার আশাবাদী অস্ট্রেলিয়াতেও উড়বে লাল-সবুজের পতাকা। ‘আমি বিশ্বাস করি, অস্ট্রেলিয়ার মাঠেও আপনারা লাল-সবুজের পতাকার মর্যাদা অক্ষুণ্ণ রাখবেন। জয়-পরাজয় ছাপিয়ে আপনাদের লড়াকু মানসিকতা সারা বিশ্বের কাছে বাংলাদেশের আত্মপরিচয় তুলে ধরবে। আপনারা খেলবেন হৃদয়ের গভীর থেকে, সেরা নৈপুণ্য দিয়ে, আমাদের দেশের জন্য। আপনাদের এই অগ্রযাত্রা অব্যাহত থাকুক।