
অভাবনীয় একটি খবর ছড়িয়ে পড়েছে গত কয়েকদিনে। কিলিয়ান এমবাপ্পের ভুল হাঁটুতে নাকি পরীক্ষা করানো হয়েছিল এবং পরে তাকে চোট নিয়েও খেলে যেতে হয়েছে। এই যুগে এসে রিয়াল মাদ্রিদের মতো ক্লাবে এমন ব্যাপার তো চোখ কপালে ওঠার মতোই। তবে সেসব খবর সত্য নয় বলেই জানিয়েছেন ফরাসি এই ফরোয়ার্ড। ফরাসি একটি পত্রিকায় খবরটি প্রথম প্রকাশিত হয়েছিল। তবে স্পেনের বেশ কটি সংবাদমাধ্যমেও তা উঠে আসে। সূত্রের বরাত দিয়ে দাবি করা হয়, এমবাপ্পের বাঁ হাঁটুতে চোট থাকলেও গত ডিসেম্বরে রিয়াল মাদ্রিদের মেডিকেল টিম পরীক্ষা করায় তার ডান হাঁটুতে। স্বাভাবিকভাবেই সেখানে কিছু ধরা পড়েনি। এমবাপ্পে পরে আরও তিনটি ম্যাচ খেলেন ওই অবস্থায়।
পরে তার বাঁ হাঁটুতে চোট ধরা পড়ে এবং তিনি মাঠের বাইরে ছিটকে যান। পুনর্বাসন শেষে মাঠে ফিরে রিয়ালের সবশেষ দুটি ম্যাচে মাঠে নামেন তিনি বদলি হিসেবে। এখন তিনি ফ্রান্স জাতীয় দলের হয়ে ব্রাজিলের বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচে মাঠে নামার অপেক্ষায়।
ভুল হাঁটুতে চিকিৎসা ও চোট ভুলভাবে নির্ণয় করার খবর নিয়ে তোলপাড় পড়ে গেছে স্বাভাবিকভাবেই। তবে ব্রাজিলের বিপক্ষে ম্যাচের আগে ভুল হাঁটুর চিকিৎসার খবর উড়িয়ে দিলেন এমবাপ্পে নিজেই। ‘(রিয়াল মাদ্রিদ) ভুল হাঁটুতে পরীক্ষা করেছে, এই তথ্যটি সত্য নয়। সম্ভবত এই পরিস্থিতির জন্য আমি নিজেই পরোক্ষভাবে কিছুটা দায়ী। কারণ কী হয়েছে এবং কী ঘটছে, এসব নিজে থেকেই খোলাসা না করলে ভুল ব্যাখ্যার দুয়ার খুলে যায় এবং এভাবেই অনেকে উঠেপড়ে লাগে নিজেদের মতো করে সবকিছু তুলে ধরতে। রিয়াল মাদ্রিদের সঙ্গে আমাদের যোগাযোগ সবসময়ই বেশ স্পষ্ট ছিল, সেটা মাদ্রিদে আমার পুনর্বাসন শুরুর সময়েই হোক, বা প্যারিসে থাকার সময়েই হোক, যেখানে আমার সঙ্গে ডাক্তার, ফিজিও এবং ক্লাবের শারীরিক প্রশিক্ষক ছিলেন এবং আমরা প্যারিস থেকেই কাজ করেছি। এ নিয়ে তাই কোনো সমস্যা নেই।’
এমবাপ্পে যখন ছিটকে পড়লেন মাঠের বাইরে, রিয়ালের তখন চলছে চরম দুর্দশা। তিনি না থাকায় আরও বাজে অবস্থা হবে বলেই ধারণা করা হয়েছিল। কিন্তু এই সময়েই দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়িয়ে চ্যাম্পিয়ন্স লিগে ম্যানচেস্টার সিটিকে দুই লেগেই হারিয়েছে তারা, লা লিগায় জিতেছে মাদ্রিদ ডার্বিতে। তাকে ছাড়াই দলের দলের এমন পারফরম্যান্সে দারুণ খুশি ২৭ বছর বয়সী তারকা। ‘আমরা মৌসুমের একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে আছি। আমাকে ছাড়াই দল ভালো খেলছে। যখন আমি চোটে পড়লাম এবং দল আমাকে পাচ্ছিল না, তখন লোকে বলাবলি করছিল, আমাকে ছাড়া চলবেই না। কিন্তু ব্যাপারটা তেমন ছিল না। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার হলো দল।’
গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচগুলো খেলতে না পারায় আক্ষেপ নেই এমবাপ্পের। বরং তাকাচ্ছেন সামনে। ফ্রান্সের হয়ে শুরুর একাদশে খেলতেও তিনি প্রস্তুত বলে জানালেন। ‘ব্যক্তি হিসেবে এবং ফুটবলার হিসেবে, আমি এমন কেউ নই, যে আক্ষেপ ধরে রাখে।
আমার মনোযোগ থাকে বর্তমানে এবং নিকট ভবিষ্যতে। এই মুহূর্তে ভালো আছি, বিশেষ করে আমার দুটো হাঁটু নিয়ে, যা আমার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। এজন্য আমার ক্লাবকে অনেকটা ধন্যবাদ জানাতে চাই, আমার ফিটনেসের খুব ভালো যত্ন নিয়েছে তারা।
এখন এখানে থাকতে পেরে, খেলার জন্য প্রস্তুত এবং সম্পূর্ণ ফিট থাকায় খুব খুশি। (ব্রাজিলের বিপক্ষে) মাঠে নামার জন্য আমি প্রস্তুত এবং দল চাইলে আমাকে সেরা একাদশেও রাখতে পারে।’