
থাইল্যান্ডের ব্যাংককে এশিয়া কাপ আর্চারির মঞ্চে দারুণ এক প্রতিশোধের গল্প লিখেছে বাংলাদেশ। আগের দিন আন্তর্জাতিক প্রীতি ফুটবল ম্যাচে ভিয়েতনামের কাছে হতাশার হার, সেই হারের জবাব যেন তীর-ধনুকেই দিলেন দেশের আর্চাররা। গতকাল শুক্রবার (২৭ মার্চ) সকালে অনুষ্ঠিত কম্পাউন্ড পুরুষ দলগত ইভেন্টের ফাইনালে দুর্দান্ত নৈপুণ্যে ভিয়েতনামকে ২৩১-২২৫ স্কোরে হারিয়ে স্বর্ণ পদক জিতেছে বাংলাদেশ। হিমু বাছাড়, ঐশ্বর্য রহমান ও রাকিব নেওয়াজ আহমেদের জুটি শুরু থেকেই ছিলেন আত্মবিশ্বাসী ও ছন্দে। ফাইনালের প্রতিটি এন্ডে তাদের শট ছিল স্থির, নিয়ন্ত্রিত এবং লক্ষ্যভেদে প্রায় নিখুঁত। স্কোরলাইনই তার প্রমাণ। প্রতিপক্ষকে বড় ব্যবধানে পেছনে ফেলে স্বর্ণ নিশ্চিত করেছে তারা। এই সাফল্যের পথটিও ছিল লড়াইমুখর। সেমিফাইনালে ভুটানকে ২৩২-২২৮ ব্যবধানে হারিয়ে ফাইনালে ওঠে বাংলাদেশ। তার আগে মালয়েশিয়াকে হারিয়ে শেষ চারে জায়গা করে নেয় দলটি। পুরো টুর্নামেন্ট জুড়েই ধারাবাহিক পারফরম্যান্স ছিল বাংলাদেশের অন্যতম বড় শক্তি।
পরিসংখ্যানেও এগিয়ে ছিল বাংলাদেশ। দলের গড় স্কোর ৯.৬২। যা আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে বেশ প্রতিযোগিতামূলক। ব্যক্তিগতভাবে হিমু বাছাড় ছিলেন সবচেয়ে উজ্জ্বল; তার গড় স্কোর ৯.৭৫, যা দলের জয়ের ভিত গড়ে দেয় অনেকটাই।
তবে সব বিভাগে সমান সাফল্য আসেনি। কম্পাউন্ড নারী দল সেমিফাইনালে উঠতে না পেরে অল্পের জন্য হেরে যায় স্বাগতিক থাইল্যান্ডের কাছে (২৩০-২২৯)। রিকার্ভ পুরুষ দলও ভালো শুরু করেও থেমে যায় কোয়ার্টার ফাইনালে। আর গত আসরের সোনাজয়ী আবদুর রহমান আলিফ এবার ব্যক্তিগত রিকার্ভ ইভেন্টে শেষ ষোলো থেকেই বিদায় নেন।
সব মিলিয়ে, কিছু আক্ষেপ থাকলেও কম্পাউন্ড পুরুষ দলের এই সোনা জয় বাংলাদেশের আর্চারিতে নতুন আত্মবিশ্বাসের বার্তা দিচ্ছে।