ঢাকা সোমবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৬, ৩০ চৈত্র ১৪৩২ | বেটা ভার্সন

স্বর্ণজয়ী ভারোত্তোলক মাবিয়া নিষিদ্ধ

স্বর্ণজয়ী ভারোত্তোলক মাবিয়া নিষিদ্ধ

দেশসেরা ভারোত্তোলক মাবিয়া আক্তার সীমান্ত। ২০১০ সালে ক্রীড়াঙ্গণে পা রাখলেও তিনি পরিচিতি পান ২০১৬ সালে গুয়াহাটি এসএ গেমসে। পদক মঞ্চে লাল-সবুজের পতাকা জড়িয়ে মাবিয়ার সেই কান্নার ছবিটা আজও ক্রীড়াপ্রেমীদের হৃদয়ে অমলিন। স্বর্ণ পদক গলায় ঝুলিয়ে মাবিয়া যখন পদক মঞ্চে দাঁড়িয়েছিলেন, তখন তিনি হয়ে উঠেছিলেন অদম্য ইচ্ছাশক্তির প্রতীক। সেই সোনালি ক্যারিয়ারের আকাশে এখন ঘন কালো মেঘ। নিষিদ্ধ শক্তিবর্ধক ওষুধ সেবনের দায়ে দুই বছরের জন্য নিষিদ্ধ হয়েছেন স্বর্ণ পদক জয়ী এ ভারোত্তোলক। সাউথ এশিয়া রিজিওনাল অ্যান্টি ডোপিং অর্গানাইজেশন (সারাদো) তাদের রেজাল্ট ম্যানেজমেন্ট কমিটির সভায় বিশ্ব ডোপবিরোধী সংস্থা (ওয়াডা) কোড অনুযায়ী এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

ঘটনার শুরু গত বছরের সৌদি আরবের রিয়াদে অনুষ্ঠিত ইসলামিক সলিডারিটি গেমসে। গেমস শুরুর আগে ঢাকার বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশন (বিওএ) ভবনে মাবিয়ার নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছিল।

পরীক্ষায় তার শরীরে নিষিদ্ধ ‘ফুরোসেমাইড’ এবং ‘ক্যানরেনোন’-এর উপস্থিতি পাওয়া যায়, যা মূলত শরীর থেকে অতিরিক্ত পানি বের করে দেয়ার কাজ করে। সাউথ এশিয়া রিজিওনাল অ্যান্টি ডোপিং অর্গানাইজেশনের প্রতিবেদনের ভিত্তিতে বিশ্ব ডোপবিরোধী সংস্থা (ওয়াডা) গত বৃহস্পতিবার তাকে দুই বছরের নিষেধাজ্ঞার চিঠি পাঠিয়েছে। শাস্তির খবরে ভেঙে পড়লেও নিজেকে নির্দোষ দাবি করছেন মাবিয়া। দেশসেরা এই ভারোত্তোলক বলেন, ‘টুর্নামেন্টের আগে পায়ে পানি জমতে শুরু করেছিল। এমনও হয়েছে, সিরিঞ্জ দিয়ে সেই পানি বের করতে হতো।

আমাদের ভারোত্তোলকদের আর্থিক অবস্থা তো সবাই জানেন। যাদের সামর্থ্য আছে, তারা দেশের বাইরে চিকিৎসা নিতে যায়, কিন্তু আর্থিক কারণেই আমি দেশে চিকিৎসা নিয়েছি। আমি তো আর জানি না, কোন ওষুধ নিষিদ্ধ। যে ডাক্তারের কাছ থেকে ওষুধ নিয়েছি সব প্রেসক্রিপসন আমার কাছে আছে। আমি বিওএ’তে (বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশন) সেগুলো আগেও দিয়েছি।’ মাবিয়া বলেন, ‘আমাদের যে এন্টি ডোপিং সেমিনার হয়, সেখানেও আমাদের সবসময় বলা হয়, ডাক্তারের প্রেসক্রিপসনের বাইরে ওষুধ না খেতে। আমিও সেটা অনুসরণ করেছি।

কেননা, আমার তো জানার কথা নয়, কোনটাতে কোন সমস্যায় পড়তে পারি। আমি লুকিয়ে কোনো ওষুধ খাইনি। অথচ, এখন আমার উপরেই নিষেধাজ্ঞা এলো।’

নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে আপিল করা নিয়েও দোটানায় মাবিয়া। আন্তর্জাতিক মঞ্চে দেশেকে দারুণ সব মুহূর্ত এনে দেওয়া এই ভারোত্তোলক এখন তাকিয়ে আছেন বিওএর দিকে। তিনি বলেন, ‘আপিল করার কথা ভেবেছি, কিন্তু আর্থিক দিকও ভাবতে হচ্ছে। আপিল লড়ে যাওয়া ব্যয়বহুল বলে জানি। এখন এই খরচ যদি বিওএ দেয়, তাহলে আমার পক্ষে লড়ে যাওয়া সম্ভব। আমার তো এত আর্থিক সামর্থ্য নেই। যদি আমাকে সব খরচ বহন করতে হয়, তাহলে হয়তো আপিল করতে পারব না। সেক্ষেত্রে শাস্তি বহন করা ছাড়া আর কোনো উপায় থাকবে না আমার।’

মাদারীপুরের সে সাধারণ টংঘর থেকে উঠে এসে দক্ষিণ এশিয়ার ভারোত্তোলনে রাজত্ব করেছিলেন মাবিয়া। ২০১৬ এসএ গেমসের পোডিয়ামে দাঁড়িয়ে যখন দেশের জাতীয় সংগীত শুনছিলেন, মাবিয়া আক্তার সীমান্তের সে অশ্রুসজল চোখ নাড়িয়ে দিয়েছিল পুরো বাংলাদেশকে। চরম দারিদ্র্য আর প্রতিকূলতা জয় করা সে অদম্য অ্যাথলেটের ক্যারিয়ারে এবার নেমে এল বড় এক ধাক্কা। ২০১০ সালে মামার হাত ধরে ভারোত্তোলনের আঙিনায় পা রাখা মাবিয়া ২০১৩ সাল থেকেই ঘরোয়া আসরে ছিলেন অপ্রতিদ্বন্দ্বী।

২০১৬ এসএ গেমসে ৬৩ কেজি বিভাগে স্বর্ণ জয়, ২০১৯ এসএ গেমসে টানা দ্বিতীয়বারের মতো স্বর্ণ পদক জয় এবং ২০১৮ কমনওয়েলথ গেমসে ১৮০ কেজি ওজন তুলে ষষ্ঠ হয়েছিলেন। সাম্প্রতিক সময়ে মাবিয়ার ক্যারিয়ার খুব একটা ভালো যাচ্ছিল না। কোচদের সঙ্গে দ্বন্দ্ব ও ফেডারেশনের অবহেলা নিয়ে বেশ কিছুদিন ধরেই তিনি ছিলেন আলোচনার কেন্দ্রে। কদিন আগেই সংবাদমাধ্যমে জোর গলায় বলেছিলেন, আমি শেষ হয়ে যাইনি। কিন্তু ২৬ বছর বয়সী একজন ভারোত্তোলকের জন্য দুই বছরের নিষেধাজ্ঞা ক্যারিয়ারের বড় এক অনিশ্চয়তা তৈরি করল। এ লম্বা বিরতি কাটিয়ে তিনি আবার আগের ফর্মে ফিরতে পারবেন কি না, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন।

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত