ঢাকা শুক্রবার, ০১ মে ২০২৬, ১৮ বৈশাখ ১৪৩৩ | বেটা ভার্সন

শুধু সাকিব নয়, মাশরাফি ও নাঈমুরকে নিয়েও প্রশ্ন করুন

প্রশ্ন কর্তাদের উদ্দেশে তামিম ইকবাল
শুধু সাকিব নয়, মাশরাফি ও নাঈমুরকে নিয়েও প্রশ্ন করুন

দেশের ক্রিকেটের সর্বকালের অন্যতম সেরা তারকা সাকিব আল হাসান। বিশ্বের অন্যতম সেরা এই অলরাউন্ডার অবসর না নিয়েও জাতীয় দলের বাহিরে রয়েছেন। চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের পর থেকেই বিদেশে বিদেশে ঘুরছেন ফ্র্যাঞ্জাইজি ক্রিকেট খেলতে। তার দেশে ফেরা ও দেশের ক্রিকেটে ফেরার আলোচনা গত বছর দেড়েক ধরেই চলছে। বিসিবি সভাপতি তামিম ইকবাল মনে করিয়ে দিলেন, আরও দুজন ক্রিকেটার ও সাবেক অধিনায়কও একই রকমের পরিস্থিতিতে আছে। সাকিবের পাশাপাশি তাদের নামও উল্লেখ করার অনুরোধ করলেন তিনি। তবে এই তিনজনের আইনগত ব্যাপারে বোর্ডের কিছু করার নেই বলেও জানিয়ে রাখলেন সাবেক এই অধিনায়ক।

অন্য দুজনের সঙ্গে সাকিবের একটি বড় পার্থক্য, তিনি এখনও খেলছেন। মাশরাফিও অবশ্য ঘরোয়া ক্রিকেটে সক্রিয় ছিলেন, তবে তার জাতীয় দলের অধ্যায় শেষ হয়ে গিয়েছিল আগেই। নাঈমুরের খেলোয়াড়ী জীবন শেষ বহু আগেই। মানিকগঞ্জ-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য নাঈমুরকে গত জুলাইয়ে গ্রেপ্তার করা হয়। মানিকগঞ্জের দৌলতপুর ও মানিকগঞ্জ সদর থানায় দুটি মামলায় তাকে তখন গ্রেপ্তার দেখানো হয়। ২০২৪ সালের ৫ অগাস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর থেকেই লোকচক্ষুর অন্তরালে আছেন নড়াইল-২ আসনের দুইবারের সাংসদ ও সর্বশেষ সংসদের হুইপ মাশরাফি।

৫ অগাস্টের পালাবদলের পর ওই সরকারের সংসদ সদস্য সাকিব আর দেশে ফিরতে পারেননি। ওই বছরের অক্টোবরে দেশের মাঠে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে টেস্ট খেলে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে বিদায় জানানোর কথা ছিল তার। সেই ম্যাচ খেলতে দেশের পথে থাকলেও পরে নিরাপত্তা শঙ্কায় তাকে থমকে যেতে হয় মাঝপথেই। সেই থেকে দেশের সর্বকালের সেরা ক্রিকেটারের ক্যারিয়ার অনিশ্চয়তার দোলাচলে দুলছে। পরবর্তীতে নানা সময়ে বিভিন্ন সাক্ষাৎকারে এই অলরাউন্ডার বলেছেন, দেশের মাঠ থেকেই তিনি ক্রিকেট ক্যারিয়ারের ইতি টানতে চান।

ফারুক আহমেদ ও আমিনুল ইসলাম বুলবুল বিসিবি সভাপতি থাকার সময় ব্যাপারটি নিয়ে আলোচনা ছিল তুমুল। একটা সময় তা কিছুটা স্তিমিত হয়ে আসে। গত ২৪ জানুয়ারি বোর্ড সভা শেষে সংবাদ সম্মেলনে হুট করেই জানানো হয়, শর্ত সাপেক্ষে আবার জাতীয় দলে বিবেচনা করা হবে সাকিবকে। এরপর বোর্ডের পক্ষ থেকে নানা উদ্যোগের কথা বলা হলেও দৃশ্যমান কিছু দেখা যায়নি। এই মাসের শুরুতে আবার বিসিবিতে পালাবদলের পথ ধরে অ্যাড-হক কমিটির সভাপতির দায়িত্ব পান তামিম। এরপর সাকিবের ফেরার প্রসঙ্গ আবার মিইয়ে যায় অনেকটা। তামিম দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথম উন্মুক্ত সংবাদ সম্মেলনটি হলো গতকাল বৃহস্পতিবার বিকালে। সেখানেই সাকিবকে নিয়ে প্রশ্নে তিনি বললেন অন্য দুজনের কথা। ‘আমি আমার অবস্থান থেকে একটা জিনিস আপনাদের অনুরোধ করতে চাই যে, গত এক-দেড়-দুই বছর ধরে একজন নির্দিষ্ট ক্রিকেটরকে ক্রিকেটারকে নিয়েই, যদি নাম বলতে হয়, সাকিবকে নিয়েই আমরা কথা বলছি। আমার অনুরোধ, যখন এই প্রশ্নটা করেন আমাদের তিনজন ক্রিকেটার, তিনজন সাবেক অধিনায়ক, সাকিবের সঙ্গে মাশরাফি বিন মুর্তজা ও নাঈমুর রহমান দুর্জয়ও একই ধরনের পরিস্থিতিতে আছে। কাজেই শুধু একজন ক্রিকেটারকে নিয়ে কথা বলা আমার জায়গা থেকে ঠিক নয়। আমার কাছে মনে হয় যে, আমরা যখন প্রশ্ন করব, আপনারাও যখন প্রশ্ন করবেন, দয়া করে নিশ্চিত করবেন যে, অন্য দুজন অধিনায়কের নামও উল্লেখ করছেন।’

বোর্ডের আইনগত সীমাবদ্ধতার কথা জানিয়ে বিসিবি সভাপতি বললেন, ক্রিকেটীয় দিক থেকে তিনজনকেই আলিঙ্গন করে নিতে তারা তৈরি। ‘আমাদের তরফ থেকে ক্রিকেটীয় কোনো সুযোগ-সুবিধা বা যে কোনো কিছু করার, আমরা তাদের দু হাত বাড়িয়ে স্বাগত জানাব। আইনগত যে জিনিসগুলো আছে, আমাদের মন্ত্রী সাহেবও বলেছেন যে, এটার প্রতি আমরা নমনীয় হব, উনার তরফ থেকে বলেছেন। ক্রিকেট বোর্ড হিসেবে আমাদের তরফ থেকে ক্রিকেটীয় যেসব জিনিসে আমরা সহায়তা করতে পারি, আমরা সবসময়ই তাদের খোলা মনে স্বাগত জানাতে তৈরি, যদি উনাদের ওই সমস্যাগুলো উনারা সমাধান করে আসেন।’

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত