
হাসান মাহমুদ এখন বলতেই পারেন, ‘এলাম, দেখলাম, জয় করলাম!’ কাউন্টি চ্যাম্পিয়নশিপে তার গল্পটা যে এখন এমনই! ইংল্যান্ডের ঐতিহ্যবাহী এই ক্রিকেট আসরে অভিষেকেই অসাধারণ বোলিং করে দলকে জেতালেন বাংলাদেশের পেসার। কেন্টের হয়ে ল্যাঙ্কাশায়ারের বিপক্ষে ম্যাচের শেষ ইনিংসে ৬৯ রানে ৬ উইকেট শিকার করেন হাসান। প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে এই প্রথম তিনি পেলেন ইনিংসে ৬ উইকেটের স্বাদ।
প্রথম ইনিংসে স্রেফ ছয় ওভার হাত ঘুরিয়েই ৩ উইকেট নিয়েছিলেন তিনি। ম্যাচে তার প্রাপ্তি ১০১ রানে ৯ উইকেট। ইনিংস সেরার মতো ম্যাচেও তার ক্যারিয়ার সেরা পারফরম্যান্স এটি।
হাসানের প্রাপ্তির শেষ নয় এখানেই। দ্বিতীয় ইনিংসের পারফরম্যান্সের পথে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে উইকেটের সেঞ্চুরিও পূর্ণ করেন তিনি। ৩৫ ম্যাচে তার উইকেট এখন ১০৪টি। হাসানের দারুণ পারফরম্যান্সে ল্যাঙ্কাশায়ারকে ১৪০ রানে হারিয়ে তিন দিনেই ম্যাচ জিতে নেয় কেন্ট। ব্ল্যাকপুলের স্ট্যানলি পার্কে প্রথম ইনিংসে ৩২ রানে ৩ উইকেট নিয়েছিলেন হাসান। ল্যাঙ্কাশায়ারকে ৮৭ রানে গুটিয়ে ৯১ রানের লিড পেয়েছিল কেন্ট। তৃতীয় দিনে কেন্টের দ্বিতীয় ইনিংস শেষ হয় ৩৩২ রানে। ৫ ছক্কায় ৮৫ বলে ১০৪ রানের ইনিংস খেলেন কিপার-ব্যাটার ক্রিস বেঞ্জামিন। ওপেনার হ্যারি ফিঞ্চ করেন ৮৬। শেষ ব্যাটসম্যান হিসেবে ক্রিজে গিয়ে ৪ রানে আউট হন হাসান।
ল্যাঙ্কাশায়ারের অধিনায়ক জিমি অ্যান্ডারসন উইকেট নেন তিনটি। ম্যাচে পাঁচ উইকেট নিয়ে ৪৩ বছর বয়সী কিংবদন্তির উইকেট এখন প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে ১ হাজার ১৭৯টি। ল্যাঙ্কাশায়ারের লক্ষ্য দাঁড়ায় ৪২৪। প্রথম আট ওভার নিরাপদে কাটিয়ে দেন দুই ওপেনার কিটন জেনিংস ও হ্যারি সিং। নবম ওভারে আক্রমণে আসেন হাসান। ওভারের শেষ বলেই দলকে এনে দেন উইকেট। তার অফ স্টাম্প ঘেঁষা ডেলিভারিতে আউট হন হ্যারি। প্রথম স্লিপে দারুণ ক্যাচ নেন বেন ডকিন্স।
প্রথম ইনিংসেও প্রথম ওভারে উইকেট নিয়েছিলেন হাসান। তিনে নেমে বেশ আগ্রাসী ব্যাট করছিলেন জশ বোহানন। নিজের পঞ্চম ওভারে তাকেও ফেরান হাসান। আবার অফ স্টাম্প ঘেঁষা ডেলিভারিতে ল্যাঙ্কাশায়ারের ব্যাটসম্যান ধরা পড়েন প্রথম স্লিপে। তৃতীয় ইনিংসে শতরানের জুটি গড়েন জেনিংস ও মার্কাস হ্যারিস। দ্বিতীয় স্পেলে ফিরে এই জুটি ভাঙেন হাসান। সুইং সামলাতে ক্রিজ ছেড়ে বেরিয়ে সুবিধে করতে পারেননি জেনিংস, রাউন্ড দা উইকেটে করা ডেলিভারিতে ক্যাচ দেন তিনি লেগ স্টাম্পের বাইরে। বাঁ দিকে ঝাঁপিয়ে ভালো ক্যাচ নেন কিপার বেঞ্জামিন। পরের ওভারেই শূন্য রানে আউট হয়ে যান অস্ট্রেলিয়ান ব্যাটসম্যান বেন ম্যাকডারমট।
পঞ্চম উইকেটে প্রতিরোধ গড়েন হ্যারিস ও লিয়াম লিভিংস্টোন।