
উত্তর আমেরিকা বিশ্বকাপে যেন রুপকথার গল্প লিখে চলেছে মরক্কো। প্রথম ম্যাচেই পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলের সঙ্গে সোয়ানে সোয়ানে লড়াই করে ১-১ গোলে ড্র। তৃতীয় ম্যাচে দুইবার পিছিয়ে পড়েও হাল ছাড়েনি তারা। হাইতির চোখ রাঙানিকে উপেক্ষা করে দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তনের গল্প লিখে রোমাঞ্চকর এক জয় তুলে নিয়েছে কাতার বিশ্বকাপের সেমিফাইনালিস্টরা। ম্যাচজুড়ে আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলে প্রতিপক্ষের প্রতিরোধ ভেঙে শেষ পর্যন্ত নকআউট পর্বের টিকিট নিয়েই মাঠ ছেড়েছে উত্তর আফ্রিকার দলটি। বাংলাদেশ সময় বৃহস্পতিবার ভোরে আটলান্টায় ‘সি’ গ্রুপে নিজেদের শেষ ম্যাচে হাইতিকে ৪-২ গোলে হারিয়েছে মরক্কো। তিন ম্যাচে এক জয় ও দুই ড্রয়ে ৫ পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপ রানার্সআপ হয়েছে তারা। অন্য ম্যাচে স্কটল্যান্ডকে ৩-০ গোলে হারিয়ে, ৭ পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপ সেরা হয়েছে ব্রাজিল।
৩ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলে তৃতীয় স্থানে থাকা স্কটল্যান্ডের এখনও সুযোগ আছে গ্রুপ পর্ব পেরুনোর।
গ্রুপের শীর্ষস্থান দখলের লক্ষ্যে মরক্কোর বড় ব্যবধানে জয় প্রয়োজন ছিল। পাশাপাশি নজর ছিল ফ্লোরিডায় স্কটল্যান্ড ও ব্রাজিলের ম্যাচের দিকেও। কারণ গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হলে নকআউট পর্বে তুলনামূলক সহজ প্রতিপক্ষ পাওয়ার সুযোগ ছিল। মরক্কোর কোচ ওয়াহবি তার সেরা একাদশই মাঠে নামান। ব্রাহিম দিয়াজ ও আজেদিন উনাহির সঙ্গে আক্রমণভাগে ছিলেন ইন-ফর্ম ইসমাইল সাইবারি। তবে ম্যাচের শুরুতেই চমকে দেয় হাইতি। ১০ মিনিটের আগেই মরক্কোর গোলকিপার ইয়াসিন বোনোর আত্মঘাতী গোলে এগিয়ে যায় ক্যারিবীয় দলটি।
গোল হজমের পর মরক্কো আক্রমণের তীব্রতা বাড়ালেও হাইতির গোলরক্ষক প্লাসিদে দুর্দান্ত কয়েকটি সেভ করে দলকে এগিয়ে রাখেন। প্রথমার্ধের শেষ দিকে ম্যাচে নাটকীয়তা শুরু হয়। গোলরক্ষকের ভুলে আশরাফ হাকিমি সমতা ফেরান মরক্কোর হয়ে।
তবে মাত্র দুই মিনিট পরই ইসিদোর প্রায় ৩০ মিটার দূর থেকে অসাধারণ এক গোল করে আবারও হাইতিকে এগিয়ে দেন। টুর্নামেন্টের অন্যতম সেরা গোল হিসেবে এগিয়ে থাকবে গোলটি। তবে বিরতির ঠিক আগে সাইবারি গোল করে ম্যাচে ২-২ সমতা ফিরিয়ে আনেন। দ্বিতীয়ার্ধে মরক্কো পুরোপুরি ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নেয়। একের পর এক আক্রমণে হাইতির রক্ষণভাগকে চাপে রাখে তারা।
ঘণ্টাখানেক খেলার পর থেকেই তৃতীয় গোলের জন্য মরিয়া হয়ে ওঠে আফ্রিকার দলটি।
অবশেষে শেষ ১৫ মিনিটে বদলি হিসেবে নামা রাহিমি মরক্কোকে এগিয়ে দেন।
শাদি রিয়াদের পাস থেকে গোল করে তিনি দলকে প্রথমবারের মতো লিড এনে দেন। ম্যাচের শেষ দিকে রাহিমিই আরেকটি সুযোগ তৈরি করে দেন ইয়াসিন গেসিমের জন্য। এ তরুণ ফরোয়ার্ড সহজ সুযোগ কাজে লাগিয়ে মরক্কোর চতুর্থ গোল করেন। অতিরিক্ত সময়ে হাইতির দাকেন্স নাজনের শট অসাধারণ ডাইভ দিয়ে ঠেকিয়ে দেন গোলরক্ষক বোনো। এটি টুর্নামেন্টের অন্যতম সেরা সেভ হিসেবে থাকবে। জয় পেলেও গ্রুপের শীর্ষস্থান নিশ্চিত করতে পারেনি মরক্কো। ফলে নকআউট পর্ব খেলতে তাদের মেক্সিকোর মনতেরেতে যেতে হবে, যেখানে গ্রুপ ‘এফ’-এর শীর্ষ দলের মুখোমুখি হবে তারা।