
উত্তর আমেরিকা বিশ্বকাপের সেমিফাইনালের লাইনআপ চূড়ান্ত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে নতুন ইতিহাস সৃষ্টি হয়েছে। প্রথমবারের মতো ফিফা বিশ্ব র্যাংকিংয়ের শীর্ষ চার দল শেষ চারে খেলছে। গতকাল রোববার কানসাসে শেষ কোয়র্টার ফাইনালে সুইজারল্যান্ডকে ৩-১ গোলে হারিয়ে শেষ দল হিসেবে সেমিফাইনাল নিশ্চিত করেছে আর্জেন্টিনা। প্রথম কোয়ার্টার ফাইনালে মরক্কোকে ২-০ গোলে হারিয়ে সেমির টিকেট নিশ্চিত করে শীর্ষ র্যাংকধারী ফ্রান্স। তারা ফিফা র্যাংকিংয়ের তিনে থেকে বিশ্বকাপ শুরু করেছিলো। দ্বিতীয় কোয়াটার ফাইনালে বেলজিয়ামকে ২-১ গোলে হারিয়ে শেষ চার নিশ্চিত করে স্পেন। তারা বর্তমানে র্যাংককিংয়ে তিনে রয়েছে। স্প্যানিশরা র্যাংকিংয়ের দুই নম্বরে থেকে বিশ্বকাপ শুরু করেছিলো।
তৃতীয় কোয়ার্টার ফাইনালে ইংল্যান্ড ২-১ গোলে নরওয়েকে পরাজিত করে সেমিফাইনালে উঠে। চার নম্বরে থেকে তারা বিশ্বকাপ খেলতে নেমেছিলো। বর্তমানে সেখানেই রয়েছে ইংলিশরা। সর্বশেষ চতুর্থ কোয়ার্টার ফাইনালে সুইজারল্যান্ডকে ৩-১ গোলে হারিয়ে শেষ দল হিসেবে শেষ চারের টিকেট নিশ্চিত করেছে আর্জেন্টিনা। আলবিসেলেস্তেরা বর্তমানে ফিফা র্যাংকিংয়ে দুই নম্বরে রয়েছে। সেমিফাইনালিস্ট চার দলের বিশ্বকাপ ইতিহাসও সমৃদ্ধ। আর্জেন্টিনা তিনবার, ফ্রান্স দুবার, স্পেন একবার এবং ইংল্যান্ড একবার বিশ্বকাপ জিতেছে। সব মিলিয়ে তাদের ঝুলিতে রয়েছে সাতটি বিশ্বকাপ শিরোপা। এবার সে সংগ্রহ আরও সমৃদ্ধ করার সুযোগ পাচ্ছে চার দলই।
বিশ্বকাপের সেমিফাইনালকে তাই অনেকেই ‘ড্রিম সেমিফাইনাল’ বলছেন। একদিকে স্পেন-ফ্রান্সের ইউরোপিয়ান মহারণ, অন্যদিকে আর্জেন্টিনা-ইংল্যান্ডের ঐতিহাসিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা—দুটি ম্যাচই বিশ্ব ফুটবলপ্রেমীদের জন্য হতে যাচ্ছে বিশেষ আকর্ষণের।
২০২৬ বিশ্বকাপের জন্য ফিফার নিয়মে একটি পরিবর্তনের কারণে স্পেন, আর্জেন্টিনা, ফ্রান্স ও ইংল্যান্ডের জন্য এ পথটি সহজ হয়েছিলো। তাদের ড্রয়ের আলাদা আলাদা কোয়াড্রেন্টে রাখা হয়েছিলো। যাতে সেমিফাইনালের আগে তারা একে অপরের মুখোমুখি না হতে পারে। সেটা ঘটার জন্য তাদের প্রত্যেককে নিজ নিজ গ্রুপে চ্যাম্পিয়ন হতে হতো, হয়েছেও।