
জাতীয় দলের দায়িত্বকে প্রাধান্য দিয়ে লঙ্কা প্রিমিয়ার লিগ (এলপিএল) মাঝপথেই ছেড়ে দেশে ফিরছেন পেসার হাসান মাহমুদ। অস্ট্রেলিয়া সফরের প্রস্তুতির জন্য এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি। দীর্ঘদিন জাতীয় দলের বাইরে থাকার পর কাউন্টি ক্রিকেট ও ভাইটালিটি ব্লাস্টে কেন্টের হয়ে ধারাবাহিক পারফরম্যান্স করে আবারও আলোচনায় আসেন এই ডানহাতি পেসার। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে হারারে টেস্টে সুযোগ পাওয়ার পর এবার অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজেও জায়গা পেয়েছেন তিনি। নাহিদ রানা চোটে ছিটকে যাওয়ায় পেস আক্রমণে তার ওপর বাড়তি দায়িত্বও থাকছে। জাতীয় দলের ডাককে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার কথা স্পষ্টভাবেই জানান হাসান। তিনি বলেন, ‘দেখুন, সবার আগে বাংলাদেশ টিম। আগে নিজের দেশ তারপর অন্য খেলা। অবশ্যই আমাকে যেতে হবে। কয়েকজন ফাস্ট বোলার ইনজুরিতে আছে। সামনে অনেক বড় সুযোগ, অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টেস্ট ম্যাচ। আমরা খুবই পজিটিভ, খুব ভালো খেলার ব্যাপারে। আমাদের সেরাটা দিব।’ কাউন্টি ক্রিকেটে কেন্টের হয়ে সফল সময় কাটানোকে নিজের পরিশ্রমের ফল বলেই মনে করেন ২৬ বছর বয়সি এই পেসার। ইনজুরি কাটিয়ে নিয়মিত কাজ করে যাওয়ার মানসিকতাই তাকে নতুন করে ছন্দে ফিরিয়েছে বলে জানান তিনি, ‘আলহামদুলিল্লাহ। আমি সবসময় নিজের মতো থাকি। চোট থাকা অবস্থায় অনেক কাজ করি এবং সেরে উঠে নিজেও পারফর্ম করার চেষ্টা করি। চেষ্টা থাকে সবসময় কাজের মধ্যে থাকার যাতে সুযোগ এলে মিস না করি।’
জাতীয় দলের হয়ে টেস্ট খেলতে ফিরতে পারছেন বলেই এলপিএল ছাড়ার সিদ্ধান্তে তার মধ্যে কোনো আক্ষেপ নেই। বরং এটিকে বড় সুযোগ হিসেবেই দেখছেন তিনি। হাসান বলেন, ‘অবশ্যই যাচ্ছি টেস্ট খেলতে, ইনশাআল্লাহ নিজের সেরাটা দেওয়ার চেষ্টা করব।’ ইংল্যান্ডের কন্ডিশনে খেলার অভিজ্ঞতা অস্ট্রেলিয়ায় কাজে লাগবে বলেও বিশ্বাস এই পেসারের। তার মতে, ডারউইনের আবহাওয়া ও উইকেটের বৈশিষ্ট্য পেসারদের জন্য সহায়ক হতে পারে। তিনি বলেন, ‘কন্ডিশন খুব কাছাকাছি। ডারউইনের আবহাওয়া বাংলাদেশের মতো অনেকটা। একটু গরম আছে। পিচ থেকে হেল্প পাব। ফাস্ট বোলার হিসেবে মুভমেন্ট, বাউন্স পাব। ফাস্ট বোলারদের জন্য অনেক কিছু আছে যদি আমাদের প্রসেসে থাকি এবং ভালো শুরু করি।’
আসন্ন সিরিজটিকে নিজের ক্যারিয়ারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ হিসেবেও দেখছেন তিনি, ‘অনেক দিন পর আবার অস্ট্রেলিয়ার সাথে টেস্ট। এবার আবার ওদের মাটিতে। আমার জন্য অনেক ইম্পরট্যান্ট ম্যাচ। সবার স্বপ্ন থাকে দেশের বাইরের টেস্ট ভালো পারফর্ম করা, জয় নিয়ে আসা। সেটা সবার স্বপ্ন থাকবে, চেষ্টা থাকবে, টুর্নামেন্ট আমাদের করে নেওয়ার।’ আগামী ১৩ আগস্ট ডারউইনে শুরু হবে বাংলাদেশ-অস্ট্রেলিয়া প্রথম টেস্ট। দ্বিতীয় টেস্ট ২২ আগস্ট থেকে শুরু ম্যাকেতে।