
কয়েকদিন ধরে চলা গুঞ্জনই সত্যি হয়েছে। স্টিভেন ফ্লেমিংকে টেস্ট দলের নতুন প্রধান কোচ হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে ইংল্যান্ড। আর দীর্ঘ পরিসরের সংস্করণের নেতৃত্বে ব্যাটিং গ্রেট জো রুটকে ফিরিয়েছে তারা। নিউজিল্যান্ডের সাবেক অধিনায়ক ফ্লেমিংয়ের সঙ্গে চার বছরের চুক্তি করেছে ইংল্যান্ড অ্যান্ড ওয়েলস ক্রিকেট বোর্ড (ইসিবি)। ২০৩০ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে তাকে। চলতি মাসের শুরুর দিকে ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টির দায়িত্বে রেখে, ব্রেন্ডন ম্যাককালামকে টেস্ট দলের প্রধান কোচের পদ থেকে সরিয়ে দেয় ইসিবি। জাতীয় দলের সাবেক সতীর্থ ও ঘনিষ্ঠ বন্ধুর স্থলাভিষিক্ত হলেন ফ্লেমিং। তারা দুজনে আবার ব্যবসায়িক অংশীদারও।
কিছুদিন আগে আইপিএল ফ্র্যাঞ্চাইজি চেন্নাই সুপার কিংসের সঙ্গে সুদীর্ঘ ১৮ বছরের সম্পর্কের ইতি টানেন ফ্লেমিং। দারুণ অভিজ্ঞতা সম্পন্ন এই কোচ এর আগে ইংলিশ ক্রিকেটেও কাজ করেন। ইংল্যান্ডের একশ বলের টুর্নামেন্ট দা হান্ড্রেডে সাউদার্ন ব্রেভের কোচ ছিলেন তিনি। টেস্ট দলের কোচ হিসেবে শুরুতে জিম্বাবুয়ের ব্যাটিং গ্রেট অ্যান্ডি ফ্লাওয়ারকে ফেরাতে চেয়েছিল ইংল্যান্ড। ২০০৯ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত ইংলিশদের দারুণ সব সাফল্য এনে দেওয়া এই কোচ এবার আর ‘রাজি হননি।’ এরপর থেকেই মূলত জোরেশোরে শোনা যায় ফ্লেমিংয়ের নাম। আলোচনায় ছিলেন অস্ট্রেলিয়ার জাস্টিন ল্যাঙ্গারও।
এখনই অবশ্য ইংলিশদের দায়িত্ব নিচ্ছেন না ফ্লেমিং। আগামী ডিসেম্বরে দক্ষিণ আফ্রিকা সফরের আগে কাজ শুরু করবেন তিনি। আর আগামী মাসে ঘরের মাঠের পাকিস্তান সিরিজে অন্তর্বর্তীকালীন কোচের দায়িত্ব পালন করবেন মার্কাস ট্রেসকোথিক। গত মাসে নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজ চলার মাঝে হুট করে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে বিদায় বলে দেন বেন স্টোকস। চলতি গ্রীষ্মের বাকি সময়ের জন্য রুটকে স্বল্পমেয়াদে অধিনায়ক করার আলোচনা চলছিল। ইসিবির প্রধান নির্বাহী রিচার্ড গুল্ড কিছুদিন আগে বলেছিলেন, নতুন কোচ এসে নতুন টেস্ট অধিনায়ক বেছে নেবেন। দায়িত্ব নেওয়ার আগেই বড় সিদ্ধান্তটি নিয়ে ফেলেছেন ফ্লেমিং।
ইসিবি জানিয়েছেন, ২০১৭ থেকে ২০২২ সালের রেকর্ড ৬৪টি টেস্টে নেতৃত্ব দেওয়া রুটই আবার পূর্ণকালীন অধিনায়ক হিসেবে ফিরছেন। ইংল্যান্ড টেস্ট দলের কোচের দায়িত্ব পেয়ে উচ্ছ্বসিত ফ্লেমিং মুখিয়ে আছেন রুটের সঙ্গে কাজ শুরু করতে। ‘অধিনায়ক জো রুটের সঙ্গে কাজ করার জন্য বিশেষভাবে মুখিয়ে আছি। সে প্রজন্মের অনন্য প্রতিভার একজন, যে ইতোমধ্যেই অনেক কিছু অর্জন করেছে। তবু তার কাছ থেকে আরও অনেক কিছু পাওয়ার আছে। আগের বারের তুলনায় এবার পরিস্থিতি ভিন্ন, তাই তাকে এই ভূমিকায় আনন্দ নিয়ে সফল হতে সহায়তা করতে চাই।’ টেস্ট অধিনায়ক হিসেবে গত মেয়াদের শেষটা একদমই ভালো কাটেনি রুটের। পরে নিজেই সরে দাঁড়ান দায়িত্ব থেকে। তার জায়গায় নেতৃত্বভার নিয়ে ইংল্যান্ডের টেস্ট ক্রিকেটকে ভিন্ন এক স্তরে নিয়ে যান স্টোকস। যেখানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন কোচ ম্যাককালামও। তাদের জুটিতে টেস্টেও আগ্রাসী ক্রিকেট খেলে আলোড়ন ফেলে দেয় ইংলিশরা। আর তাদের এই ঘরানার ক্রিকেটকে বলা হয় ‘বাজবল’; যা ম্যাককালামের ডাক নাম ‘বাজ’ এর সঙ্গে মিলিয়ে রাখা হয়।
গত কয়েকটি সিরিজ অবশ্য ভালো কাটেনি ইংল্যান্ডের। ভারতের বিপক্ষে ঘরের মাঠে ড্র করার পর অস্ট্রেলিয়ায় গিয়ে নাস্তানাবুদ হয়েছে তারা। সবশেষ অ্যাশেজ হেরেছে ৪-১ ব্যবধানে। আর গত মাসে নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে নিজেদের আঙিনায় হেরেছে ২-১ ব্যবধানে। দলকে আবারও পথে ফেরানোর দায়িত্ব এখন রুটের কাঁধে। পুরনো দায়িত্বে নতুন করে ফিরতে পারায় সম্মানিত বোধ করছেন তিনি। ‘আবারও ইংল্যান্ডের টেস্ট অধিনায়কের দায়িত্ব পাওয়া আমার জন্য বিরাট সম্মান ও সৌভাগ্যের। টেস্ট অধিনায়কত্ব কঠিন, তবে দারুণ তৃপ্তিদায়কও। গত মাসে বাজ ম্যাককালামের সঙ্গে অল্প সময়ের জন্য আবার নেতৃত্ব দেওয়ার অভিজ্ঞতা উপভোগ করেছি। এখন নতুন প্রজন্মের এই দলকে নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য উন্মুখ হয়ে আছি।’