ঢাকা বৃহস্পতিবার, ১৩ আগস্ট ২০২৬, ২৯ শ্রাবণ ১৪৩৩ | বেটা ভার্সন

আজ অস্ট্রেলিয়ায় ‘লাল বলের’ পরীক্ষা শুরু বাংলাদেশের

আজ অস্ট্রেলিয়ায় ‘লাল বলের’ পরীক্ষা শুরু বাংলাদেশের

অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে বাংলাদেশের টেস্ট ফেরাটা যতটা দীর্ঘ অপেক্ষার, ডারউইনে সেই প্রত্যাবর্তনের মঞ্চটাও ততটাই কঠিন। ২৩ বছর পর অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে সাদা পোশাকে নামছে বাংলাদেশ। প্রতিপক্ষ টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের দুই চক্রের ফাইনালিস্ট অস্ট্রেলিয়া। তার ওপর টেস্ট শুরুর আগে প্রস্তুতি ম্যাচে ইনিংস ব্যবধানে হারের ধাক্কা। সব মিলিয়ে আজ সকাল থেকে মারারা স্টেডিয়ামে বাংলাদেশের সামনে কঠিন এক পরীক্ষা। তবে সেই পরীক্ষার আগে অন্তত একটি জায়গায় স্বস্তি পেয়েছে বাংলাদেশ। চোট কাটিয়ে পুরোপুরি ফিট হয়ে উঠেছেন লিটন দাস। অস্ট্রেলিয়ান এক সাংবাদিকের সরাসরি প্রশ্ন ছিল, ‘লিটন দাস কি খেলবেন?’ বাংলাদেশ অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্তর উত্তরও ছিল সরাসরি, ‘হ্যাঁ, সে এখন শতভাগ ফিট।’

প্রস্তুতি ম্যাচে লিটনকে না পাওয়ায় তার টেস্ট খেলা নিয়ে কিছুটা সংশয় তৈরি হয়েছিল। কিন্তু ম্যাচের আগে ফিট হয়ে ওঠায় বাংলাদেশের ব্যাটিংয়ে অভিজ্ঞতার পাশাপাশি আত্মবিশ্বাসও বাড়বে বলে মনে করছেন শান্ত। অস্ট্রেলিয়ার মতো শক্তিশালী পেস আক্রমণের বিপক্ষে লিটনের মতো অভিজ্ঞ ব্যাটারের উপস্থিতি যে বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ, সেটি আলাদা করে বলার অপেক্ষা রাখে না।

তবে লিটন ফিরলেও চ্যালেঞ্জের আকার ছোট হচ্ছে না। ২০০৩ সালে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে সর্বশেষ টেস্ট খেলেছিল বাংলাদেশ। সেই সফরের দুই ম্যাচেই ইনিংস ব্যবধানে হেরেছিল তারা। এবার ২৩ বছর পর ফিরে এসে সেই ইতিহাস বদলানোর সুযোগ বাংলাদেশের সামনে। সাম্প্রতিক সময়ে টেস্টে বেশ কিছু বড় সাফল্য পেলেও অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে তাদের মাটিতে সেই সামর্থ্য কতটা কাজে লাগানো যায়, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন। প্রস্তুতি ম্যাচের ফলও বাংলাদেশকে খুব বেশি স্বস্তি দেয়নি। তিন দিনের ম্যাচে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া একাদশের কাছে ইনিংস ব্যবধানে হেরেছে তারা। ফলে মূল টেস্টে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে লড়াই করার সামর্থ্য নিয়ে প্রশ্ন ওঠাটা স্বাভাবিক। কিন্তু এসব হিসাব-নিকাশে খুব বেশি মনোযোগ দিতে চান না নাজমুল। তার কাছে ম্যাচের আসল লড়াই শুরু হবে প্রথম বল থেকেই, আর সেখান থেকে প্রতিটি সেশন ধরে এগোতে হবে, ‘আমরা তো খেলোয়াড় হিসেবে পাঁচ দিন ভালো ক্রিকেট খেলতে চাই, প্রতিটা সেশন বাই সেশন খেলতে চাই, আমরা যেটা সব সময় বলি।’

ম্যাচটি তিন দিনেই শেষ হবে, নাকি পাঁচ দিন পর্যন্ত গড়াবে-এ নিয়ে আলোচনা থাকবেই। কিন্তু বাংলাদেশের অধিনায়কের কাছে সেই হিসাবের চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নিজেদের ক্রিকেট। নাজমুল বলেন, ‘একেকটা সেশন গুরুত্বপূর্ণ। চার দিন যাবে, পাঁচ দিন যাবে, নাকি তিন দিন যাবে-এ ধরনের আলোচনা থাকবেই। কিন্তু খেলোয়াড় হিসেবে আমাদের সব সময় লক্ষ্য থাকবে যে আমরা কত ভালো ক্রিকেট খেলতে পারি।’

অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে এই সিরিজে ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সকেও বড় অনুপ্রেরণা হিসেবে দেখছেন শান্ত। তার মতে, একজন ব্যাটারের বড় স্কোর কিংবা একজন বোলারের পাঁচ উইকেট শুধু ম্যাচের ফলের জন্য নয়, দলের ভবিষ্যতের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। তাই আলাদা করে কাউকে প্রেরণা দেওয়ার প্রয়োজন দেখছেন না তিনি, ‘কাউকে বাড়তি প্রেরণা দেওয়ার প্রয়োজন নেই। সবাই জানে এখানে একটা বড় স্কোর, ৫ উইকেট, দল হিসেবে ভালো করা-এসব আমাদের নিজেদের জন্য ও আমাদের দলের ভবিষ্যতের জন্য খুব ভালো কাজে দেবে। এ প্রেরণাই সবার ভেতর কাজ করছে। আমার দেখে মনে হচ্ছে, ভালো করতে সবাই অনেক আত্মবিশ্বাসী।’ ডারউইনে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় পরীক্ষা হতে পারে নতুন বল সামলানো। অস্ট্রেলিয়ার কন্ডিশনে সাধারণত পেসাররা বাড়তি সুবিধা পান। মারারা স্টেডিয়ামের ড্রপ-ইন পিচে নতুন বলে অস্ট্রেলিয়ার পেস আক্রমণ আরও কঠিন হয়ে উঠতে পারে। তাই বাংলাদেশের ব্যাটারদের শুরুটা সামলানোই হয়ে উঠতে পারে ম্যাচের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। শান্তর পরামর্শ, নিজের স্বাভাবিক খেলাটা খেলতে হবে এবং রান করার মানসিকতা রাখতে হবে। ‘আমার মনে হয়, নতুন বলে সব সময় সব জায়গায় চ্যালেঞ্জ থাকে, এখানে হয়ত একটু বেশি থাকবে। এখানে যতক্ষণে আমরা ব্যাটিং করব, যে-ই ব্যাটিং করবে, যার যার সহজাত খেলাটা খেলবে এবং রানের জন্য খেলবে।’

তবে শুধু শুরুটা সামলালেই হবে না। অস্ট্রেলিয়ার শক্তিশালী বোলিং আক্রমণের বিপক্ষে দীর্ঘ সময় ক্রিজে টিকে থাকার জন্য প্রয়োজন হবে অসীম ধৈর্য ও মনোযোগ। শান্তর মতে, ‘লম্বা সময় মনোযোগ ধরে রেখে ব্যাটিং করাটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, তারা খুবই ভালো বোলিং অ্যাটাক। তাই এই অ্যাটাককে ঠিকমতো সামলাতে হলে আমাদের অবশ্যই আরও অনেক বেশি মনোযোগ এবং ভালো চিন্তাভাবনা নিয়ে ব্যাটিং করতে হবে।’

অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টেস্ট সিরিজের আগে বাংলাদেশের সবচেয়ে আলোচিত নামগুলোর একটি ছিল নাহিদ রানা। অস্ট্রেলিয়ার কন্ডিশনে তার গতি যে বাংলাদেশের অন্যতম বড় অস্ত্র হতে পারে, সেটি নিয়ে আলোচনা ছিল দেশ-বিদেশের ক্রিকেটমহলে। অস্ট্রেলিয়ান গণমাধ্যমেও সিরিজের আগে বারবার উঠে এসেছিল এই তরুণ পেসারের নাম। কিন্তু প্রত্যাশার সেই গল্পটা শেষ পর্যন্ত আর মাঠে লেখা হচ্ছে না। চোটের কারণে সিরিজ থেকেই ছিটকে গেছেন নাহিদ।

নাহিদের অনুপস্থিতিতে অবশ্য বাংলাদেশের পেস আক্রমণ পুরোপুরি ভেঙে পড়ছে না বলেই বিশ্বাস শান্তর। বরং যারা দলে আছেন, তাদের ওপরই আস্থা রাখছেন অধিনায়ক। অস্ট্রেলিয়ার কন্ডিশনে পেসাররা যে বাড়তি সুবিধা পেতে পারেন, সেটিকে কাজে লাগানোর প্রত্যাশাও তার। শান্ত বলেছেন, ‘আমাদের যে পেস ইউনিট আছে, আমি বিশ্বাস করি তারাও এই কন্ডিশনটা ভালোভাবে ব্যবহার করতে পারবে। ব্যাটিং ইউনিট হিসেবে অবশ্যই চ্যালেঞ্জ থাকবে। আমরা সেসব নিয়ে কাজ করেছি। ছেলেরা এই চ্যালেঞ্জ নিতে মুখিয়ে আছে।’

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত