
অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে প্রথম টেস্ট জয়-বাংলাদেশ ক্রিকেটের জন্য এমন একটি মুহূর্তের সাক্ষী হতে অপেক্ষা করতে হয়েছে ২৩ বছর! সেই অপেক্ষার অবসান যখন এলো, সেটিও এল দারুণ দাপটের সঙ্গে। ডারউইনের মারারা স্টেডিয়ামে অস্ট্রেলিয়াকে ৯ উইকেটে হারানোর পর মাঠে বাংলাদেশের উৎসবের মধ্যেই যোগ হলো আরও একটি বিশেষ মুহূর্ত। জয় নিশ্চিত হওয়ার পরপরই ক্রিকেটারদের ফোন করেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান!
দলের ম্যানেজার নাফিস ইকবালের ফোনে ভিডিও কলে ক্রিকেটারদের সঙ্গে কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। অভিনন্দন জানান ঐতিহাসিক জয় এনে দেওয়া দলকে। শুধু জয়ের জন্য শুভেচ্ছাই নয়, ক্রিকেটাররা শারীরিকভাবে কেমন আছেন, সেটিও জানতে চান তিনি। ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে সেই কথোপকথনের বিষয়টি তুলে ধরেন অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত।
অধিনায়ক শান্ত বলছিলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আমাদের কথা হয়েছে। আমাদের অভিনন্দন জানিয়েছেন। আমাদের শরীরের কী অবস্থা, ওটারও খোঁজখবর রেখেছেন যে আমরা ভালো আছি কি না। ২৩ বছর পর অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে খেলতে নেমে এমন জয় বাংলাদেশের জন্য এমনিতেই বড় ঘটনা। কিন্তু ডারউইনের জয়কে আলাদা করেছে এর ধরন। সাড়ে তিন দিন ধরে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে রেখে অস্ট্রেলিয়াকে শেষ পর্যন্ত ৯ উইকেটে হারিয়েছে বাংলাদেশ। অস্ট্রেলিয়ার দেওয়া মাত্র ৫৭ রানের লক্ষ্য এক উইকেট হারিয়েই পেরিয়ে যায় সফরকারীরা। বাংলাদেশের এই জয় আরও বড় হয়ে উঠেছে এশিয়ার ক্রিকেটের প্রেক্ষাপটে। এই শতাব্দীতে ভারত ছাড়া আর কোনো এশীয় দল অস্ট্রেলিয়াকে তাদের নিজেদের মাটিতে হারাতে পারেনি। সেই বিরল তালিকায় এবার জায়গা করে নিল বাংলাদেশ।
এমন একটি জয়ের পর অভিনন্দন এসেছে দেশের ক্রিকেটের শীর্ষ মহল থেকেও। প্রধানমন্ত্রীর পাশাপাশি বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের সভাপতি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ফোন করে দলকে অভিনন্দন জানিয়েছেন। শান্ত বলেন, আমাদের বোর্ড সভাপতি ফোন করেছেন, অভিনন্দন জানিয়েছেন, উনি অনেক খুশি। পাশাপাশি আমাদের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীও ফোন করেছিলেন, উনার সঙ্গে কথা হয়েছে। অভিনন্দন জানিয়েছেন।
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ঐতিহাসিক জয়কে বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসের সবচেয়ে বড় সাফল্য বলছেন শান্ত। এর আগে ম্যাচ শেষে তিনি জানিয়েছিলেন, যে কোনো ফরম্যাটেই এটিকে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় জয় মনে করেন তিনি।