ঢাকা শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৭ ভাদ্র ১৪৩৩ | বেটা ভার্সন

বাংলাদেশকে নিয়ে ফিফার বড় পরিকল্পনা

বাংলাদেশকে নিয়ে ফিফার বড় পরিকল্পনা

বাংলাদেশের ফুটবল যখন নিজেদের অবস্থান শক্ত করার লড়াইয়ে, তখনই সামনে এসেছে এমন এক মঞ্চ, যেখানে অংশ নেওয়া শুধু আরেকটি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলার সুযোগ নয়। সেপ্টেম্বরের শেষ দিকে ইন্দোনেশিয়া ও হংকংয়ে শুরু হতে যাওয়া ফিফা আসিয়ান কাপ বাংলাদেশের জন্য খুলে দিয়েছে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার ফুটবলে প্রবেশের নতুন দরজা। আর এই টুর্নামেন্টকে ঘিরে ফিফার বার্তায় পরিষ্কার, তাদের চোখে এটি নিছক একটি প্রতিযোগিতা নয়! দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার ফুটবলে নতুন একটি অধ্যায়ের শুরু হতে যাচ্ছে। সেপ্টেম্বরের শেষ সপ্তাহে ইন্দোনেশিয়া ও হংকংয়ের যৌথ আয়োজনে মাঠে গড়াবে প্রথম ফিফা আসিয়ান কাপ। ২৪ সেপ্টেম্বর থেকে ৫ অক্টোবর পর্যন্ত চলা এই প্রতিযোগিতায় অংশ নেবে ১৪টি দল। আর এই নতুন ফুটবল উদ্যোগে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বাইরে থেকে জায়গা পাওয়া তিন অতিথি দলের একটি বাংলাদেশ।

শুধু একটি আঞ্চলিক প্রতিযোগিতা হিসেবে নয়, ফুটবলের উন্নয়ন ও জাতীয় দলগুলোর জন্য আরও বেশি প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচ নিশ্চিত করার একটি মাধ্যম হিসেবেই আসিয়ান কাপকে দেখছে ফিফা। টুর্নামেন্ট শুরুর আগে দেওয়া বিশেষ বার্তায় ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর বক্তব্যেও উঠে এসেছে সেই দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার কথা। ফিফার সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে তিনি বলেন, 'ছেলেদের আন্তর্জাতিক ম্যাচ ক্যালেন্ডারের মধ্যেই জাতীয় দলগুলোকে প্রতিযোগিতামূলক ফুটবলে সুযোগ দিতেই চালু করা হয়েছে ফিফা আসিয়ান কাপ। এর মাধ্যমে ফুটবলাররা প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ এই আঞ্চলিক লড়াইয়ে নিজেদের দেশের প্রতিনিধিত্ব করার সুযোগ পাবে। এই টুর্নামেন্টে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে ফুটবলীয় সম্পর্ক আরও শক্তিশালী হবে। ভক্ত-সমর্থকদের স্মরণীয় মুহূর্ত ও দারুণ ফুটবল উপহার দেবে।' এই বক্তব্যের মধ্যেই আসরটির উদ্দেশ্যটা পরিষ্কার। আন্তর্জাতিক ফুটবল ক্যালেন্ডারে জাতীয় দলগুলোর ম্যাচ থাকলেও অনেক দলের জন্য নিয়মিত উচ্চমানের প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচ পাওয়ার সুযোগ সীমিত। সেই জায়গায় আঞ্চলিক প্রতিদ্বন্দ্বিতাকে ব্যবহার করে ফুটবলারদের আরও বেশি ম্যাচ খেলার সুযোগ করে দিতে চায় ফিফা।

২০২৬ আসরের প্রথম ডিভিশনে খেলবে আট দল। আয়োজক ইন্দোনেশিয়ার সঙ্গে রয়েছে বাংলাদেশ, মালয়েশিয়া, ফিলিপাইন, সিঙ্গাপুর, থাইল্যান্ড, ভিয়েতনাম ও পাকিস্তান। দ্বিতীয় ডিভিশনে খেলবে হংকং, ব্রুনেই দারুসসালাম, কম্বোডিয়া, লাওস, মিয়ানমার ও তিমুর-লেস্তে।

বাংলাদেশের এই টুর্নামেন্টে অন্তর্ভুক্তিও এসেছে বিশেষ পরিস্থিতিতে। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার ১১ দেশের সঙ্গে চীন, ভারত ও হংকংকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। পরে ভারত ও চীন নাম প্রত্যাহার করে নেওয়ায় তাদের জায়গায় সুযোগ পায় বাংলাদেশ ও পাকিস্তান। ফলে ভৌগোলিকভাবে আসিয়ানের অংশ না হয়েও বাংলাদেশের সামনে খুলে গেছে নতুন একটি আন্তর্জাতিক মঞ্চ।

অংশগ্রহণকারী ১৪ দেশের সম্মিলিত জনসংখ্যা ২০০ কোটিরও বেশি। বিপুলসংখ্যক তরুণ ফুটবলপ্রেমীকে কেন্দ্র করে এই অঞ্চলে ফুটবলের বাণিজ্যিক ও সাংস্কৃতিক বিস্তারের সম্ভাবনাও দেখছে ফিফা। ফলে বাংলাদেশের মতো দেশের অংশগ্রহণ কেবল মাঠের ফলাফলের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; নতুন দর্শক ও ফুটবল বাজারের সঙ্গেও যুক্ত হওয়ার সুযোগ তৈরি করছে।

প্রতিযোগিতার কাঠামোটিও রাখা হয়েছে সরাসরি লড়াইভিত্তিক। দুই ডিভিশনকে ভাগ করা হবে দুটি করে গ্রুপে। গ্রুপের প্রতিটি দল একে অন্যের বিপক্ষে একবার করে খেলবে। এরপর গ্রুপের শীর্ষ দল উঠবে নিজ নিজ ডিভিশনের ফাইনালে। প্রথম ডিভিশনে রানার্স-আপদের জন্য থাকছে তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচও।

বাংলাদেশের মাঠের পরীক্ষা অবশ্য শুরু হবে ২৫ সেপ্টেম্বর। জাকার্তার গেলোরা বুং কার্নো স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ সময় বিকেল ৩টায় মালয়েশিয়ার বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে শুরু হবে তাদের অভিযান। ২৮ সেপ্টেম্বর একই ভেন্যু ও সময়ে সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে খেলবে বাংলাদেশ। গ্রুপপর্বের শেষ ম্যাচে ১ অক্টোবর সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় স্বাগতিক ইন্দোনেশিয়ার মুখোমুখি হবে হামজা চৌধুরী-জামাল ভূঁইয়ারা।

একই ভেন্যুতে তিন ম্যাচ-বাংলাদেশের জন্য এটি যেমন ভ্রমণজনিত স্বস্তি, তেমনি প্রতিপক্ষের মানের কারণে বড় পরীক্ষা। বিশেষ করে স্বাগতিক ইন্দোনেশিয়ার বিপক্ষে শেষ ম্যাচটি হতে পারে সবচেয়ে কঠিন চ্যালেঞ্জ!

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত