ঢাকা মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ২৯ আশ্বিন ১৪৩৩ | বেটা ভার্সন

বাংলাদেশের লক্ষ্য ৭ উইকেট আফগানিস্তানের ৩৪৭ রান

বাংলাদেশের লক্ষ্য ৭ উইকেট আফগানিস্তানের ৩৪৭ রান

একই টেস্টে ব্যাট হাতে সেঞ্চুরি, উইকেটের পেছনে রেকর্ড- লিটন কুমার দাসের জন্য আবুধাবি টেস্টের চতুর্থ দিনটি হয়ে থাকল বিশেষ কিছু।

তার দুর্দান্ত ব্যাটিংয়ে আফগানিস্তানের সামনে ৪৭৯ রানের লক্ষ্য দিয়েছে বাংলাদেশ। এরপর বল হাতে আঘাত হেনে জয়ের পথটাও কিছুটা সহজ করেছেন পেসাররা। দিন শেষে তাই স্বস্তিতে বাংলাদেশ। আজ শেষ দিনের সমীকরণে জিততে হলে দরকার আর সাতটি উইকেট। আফগানিস্তান অবশ্য এখনও লড়াই ছাড়েনি। চতুর্থ দিনের খেলা শেষে দ্বিতীয় ইনিংসে তাদের সংগ্রহ ৫০ ওভারে ৩ উইকেটে ১৩২ রান। হাশমতউল্লাহ শহীদি ১৯ ও সেদিকুল্লাহ আতাল ৩৫ রানে অপরাজিত আছেন। জয়ের জন্য মঙ্গলবার শেষ দিনে তাদের করতে হবে আরও ৩৪৭ রান। অন্যদিকে বাংলাদেশের প্রয়োজন সাতটি উইকেট। বড় লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুটা ভালো হয়নি আফগানদের। ২৮ রানেই হারায় দুই উইকেট। তবে এরপর সেদিকুল্লাহ আতাল ও অধিনায়ক রহমত শাহর ব্যাটে প্রতিরোধ গড়ে ওঠে। দুজন মিলে ৮২ রানের জুটি গড়ে বাংলাদেশকে কিছুটা চাপে ফেলেছিলেন। বিশেষ করে চা বিরতির পর বেশ কিছু সময় ধরে উইকেটের জন্য অপেক্ষা করতে হয়েছে বাংলাদেশের বোলারদের।

অবশেষে সেই অপেক্ষার অবসান ঘটান ইবাদত হোসেন। রহমত শাহকে ফিরিয়ে গুরুত্বপূর্ণ জুটি ভেঙে দেন তিনি। ১২৪ বলে পাঁচটি চার ও একটি ছক্কায় ৫১ রান করে সাজঘরে ফেরেন আফগান অধিনায়ক।

এর আগে ওপেনার আবদুল মালিককেও ফিরিয়েছিলেন ইবাদত। দিন শেষে তার শিকার দুটি উইকেট। অন্য উইকেটটি পেয়েছেন হাসান মাহমুদ। তবে বাংলাদেশের বড় স্বস্তির জায়গা লিটনের ব্যাটিং। আগের দিনের ৬ উইকেটে ২২৩ রান নিয়ে চতুর্থ দিনের খেলা শুরু করেছিল বাংলাদেশ।

লিটন ও মেহেদী হাসান মিরাজ মিলে সপ্তম উইকেটে গড়েন ২০১ বলে ১৪৯ রানের জুটি। তাদের ব্যাটেই দ্বিতীয় ইনিংসে ৭ উইকেটে ৩৭২ রানের সংগ্রহ পায় বাংলাদেশ। মিরাজ ৫২ রানে অপরাজিত থাকেন।

লিটনের ইনিংসটি ছিল অন্যরকম। শুরুতে দুবার জীবন পেলেও পরে সেটিকে কাজে লাগিয়ে ১১৭ বলে ১৪টি চারে করেন ১০২ রান। ১১৫ বলে পূর্ণ করেন ক্যারিয়ারের সপ্তম টেস্ট সেঞ্চুরি।

ব্যাট ও হেলমেট উঁচিয়ে দর্শকদের অভিনন্দনের জবাব দিয়ে হেলমেটে চুমু খেয়ে উদ্?যাপন করেন তিনি। আফগানিস্তানের বিপক্ষে তিন টেস্টে এটি তার প্রথম শতক।

একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ৯ হাজার রানের মাইলফলকও স্পর্শ করেছেন বাংলাদেশের এই ব্যাটার।

সেঞ্চুরির পর অবশ্য ইনিংস বড় করতে পারেননি লিটন।

মোহাম্মদ সেলিমের বাউন্সারে পুল করতে গিয়ে উইকেটরক্ষক ইকরাম আলী খিলের হাতে ক্যাচ তুলে দেন। তার বিদায়ের পরপরই ইনিংস ঘোষণা করেন অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত। বাংলাদেশের ইনিংস থামে ৩৭২ রানে। ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি উইকেটের পেছনেও দারুণ সময় কাটাচ্ছেন লিটন। প্রথম ইনিংসে চারটি ক্যাচ ও একটি স্টাম্পিংয়ের পর দ্বিতীয় ইনিংসে নিয়েছেন আরও তিনটি ক্যাচ। সব মিলিয়ে এই টেস্টে তার ডিসমিসাল আটটি। এর মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের হয়ে এক টেস্টে সর্বোচ্চ ডিসমিসালের রেকর্ড গড়েছেন তিনি।

২০০৪ সালে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে হারারে টেস্টে সাতটি ডিসমিসাল নিয়ে আগের রেকর্ডটি ছিল খালেদ মাসুদের! লিটনের এই পারফরম্যান্স বাংলাদেশের জন্য বাড়তি প্রেরণা। তবে ম্যাচের ফল নির্ধারণে এখন সবচেয়ে বড় ভূমিকা রাখতে হবে বোলারদের। কারণ, আফগানিস্তানকে জিততে হলে টেস্ট ইতিহাসের সর্বোচ্চ রান তাড়ার রেকর্ড ভাঙতে হবে। চতুর্থ ইনিংসে সর্বোচ্চ ৪১৮ রান তাড়া করে জয়ের কীর্তি ওয়েস্ট ইন্ডিজের। ২০০৩ সালে অ্যান্টিগায় অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে তিন উইকেটে জিতেছিল তারা।

আফগানিস্তানের নিজেদের সর্বোচ্চ সফল রান তাড়া করে জয়ের রেকর্ডও মাত্র ১৪৯ রান। সেই দলকে এখন করতে হবে ৪৭৯ রান। তার ওপর পঞ্চম দিনের উইকেটে ব্যাট করা সাধারণত কঠিন হয়ে পড়ে। পিচে ফাটল তৈরি হলে স্পিনাররা বাড়তি সুবিধা পেতে পারেন।

বলের আচরণেও পরিবর্তন আসতে পারে। আবুধাবিতে জয়ের পাল্লা বাংলাদেশের দিকেই ঝুঁকে আছে। তবে ক্রিকেটে শেষ কথা বলে কিছু নেই!

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত