
এক ম্যাচের পারফরম্যান্সেই নিজের শ্রেষ্ঠত্বের ব্যবধান আরও বাড়িয়ে নিলেন রশিদ খান। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে বল হাতে ঝড় তুলে ওয়ানডে বোলারদের র্যাংকিংয়ে শীর্ষস্থান আরও শক্ত করেছেন আফগানিস্তানের এই স্পিন জাদুকর।
তবে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের (আইসিসি) সর্বশেষ র্যাংকিংয়ে বাংলাদেশের জন্যও রয়েছে আনন্দের উপলক্ষ। ক্যারিয়ারে প্রথমবারের মতো ওয়ানডে বোলারদের তালিকায় নিজেদের সর্বোচ্চ অবস্থানে পা রাখলেন তাসকিন আহমেদ ও শরীফুল ইসলাম। গতকাল বুধবার প্রকাশিত আইসিসির হালনাগাদ র্যাংকিংয়ে রশিদের নামের পাশে এখন ৭৪২ রেটিং পয়েন্ট। আগের সপ্তাহে তার পয়েন্ট ছিল ৭১৪। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে মাত্র ১৭ রান দিয়ে চার উইকেট শিকার করেই এই বড় অগ্রগতি অর্জন করেছেন তিনি।
ফলে দ্বিতীয় স্থানে থাকা পাকিস্তানের আবরার আহমেদের চেয়ে ৮০ পয়েন্টে এগিয়ে গেছেন আফগান তারকা।
রশিদের শ্রেষ্ঠত্বের জায়গাটা আরও বিস্তৃত। ওয়ানডের পাশাপাশি টি-টোয়েন্টি বোলারদের র্যাংকিংয়েও শীর্ষে রয়েছেন তিনি। শুধু বোলিং নয়, অলরাউন্ডার হিসেবেও এগিয়েছেন দুই ধাপ। ওয়ানডে অলরাউন্ডারদের তালিকায় এখন তার অবস্থান ষষ্ঠ। ব্যাট-বল দুই বিভাগেই নিজের কার্যকারিতা প্রমাণ করে চলেছেন এই আফগান ক্রিকেটার!
এদিকে রশিদের সাফল্যের দিনে বাংলাদেশের পেস আক্রমণের দুই পরিচিত মুখও পেয়েছেন সুখবর।
শরীফুল ইসলাম দুই ধাপ এগিয়ে উঠে এসেছেন ১১ নম্বরে। তাসকিন আহমেদের অগ্রগতি আরও চোখে পড়ার মতো। নয় ধাপ পেরিয়ে এখন তাঁর অবস্থান ১২তম। দুজনের জন্যই এটি ওয়ানডে বোলারদের র্যাংকিংয়ে ক্যারিয়ারের সেরা অর্জন। র্যাংকিংয়ের এই অগ্রগতি এসেছে এমন এক সময়ে, যখন ত্রিদেশীয় সিরিজে বাংলাদেশের সামনে গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ। বিশেষ করে আফগানিস্তানের বিপক্ষে লড়াইয়ে রশিদের মতো বোলারের মুখোমুখি হতে হবে বাংলাদেশকে। ফলে একদিকে প্রতিপক্ষের সেরা বোলারের দুর্দান্ত ফর্ম, অন্যদিকে নিজেদের দুই পেসারের র্যাঙ্কিংয়ে উন্নতি-দুই বিপরীত চিত্রই এখন আলোচনায়। আফগানিস্তানের ব্যাটিং বিভাগ থেকেও এসেছে সুখবর। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে সেঞ্চুরি করে র্যাংকিংয়ে বড় লাফ দিয়েছেন সেদিকউল্লাহ আতাল। ১১০ বলে ১০২ রানের ইনিংস খেলা এই তরুণ ব্যাটসম্যান ৩২তম স্থান থেকে উঠে এসেছেন ২০ নম্বরে। ওয়ানডেতে এটি তার তৃতীয় শতক। আফগানিস্তানের ১৫৮ রানের বিশাল জয়ে তার এই ইনিংস ছিল অন্যতম বড় অবদান। অন্যদিকে ওয়ানডে ব্যাটসম্যানদের তালিকায় পাকিস্তানের সালমান আগা এক ধাপ এগিয়ে ১২তম এবং ইংল্যান্ডের বেন ডাকেট দুই ধাপ এগিয়ে ১৩তম স্থানে জায়গা করে নিয়েছেন। পাকিস্তানের হারিস রউফও বোলারদের তালিকায় উন্নতি করেছেন। দুই ধাপ এগিয়ে যৌথভাবে ২০তম স্থানে রয়েছেন তিনি। টি-টোয়েন্টি র্যাংকিংয়েও ক্যারিবীয়দের অগ্রগতি লক্ষণীয়। ভারতের বিপক্ষে পাঁচ ম্যাচের সিরিজ শেষে ব্যাটসম্যানদের তালিকায় দুই ধাপ এগিয়ে নবম স্থানে উঠেছেন ওয়েস্ট ইন্ডিজ অধিনায়ক শাই হোপ। ছয় ধাপ এগিয়ে ১৮তম স্থানে রয়েছেন শেরফান রাদারফোর্ড। আর বোলারদের তালিকায় ১০ ধাপ এগিয়ে ২৬তম হয়েছেন গুদাকেশ মোতি। র্যাংকিংয়ের এই হালনাগাদে তাই দুই ধরনের গল্প উঠে এসেছে। একদিকে রশিদ খান নিজের শ্রেষ্ঠত্বকে আরও সুসংহত করছেন, অন্যদিকে বাংলাদেশের দুই পেসার ধীরে ধীরে উঠে আসছেন বিশ্বসেরাদের কাতারে!