ঢাকা শুক্রবার, ০৫ জুন ২০২৬, ২২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ | বেটা ভার্সন

আল কোরআনের বৈজ্ঞানিক তত্ত্ব

আল কোরআনের বৈজ্ঞানিক তত্ত্ব

আল্লাহ সুবহানাহু ওয়াতায়ালা সুরা ইয়াসিনের শুরুতে শপথ করে বলেছেন, ‘বিজ্ঞানময় কোরআনের শপথ।’ আল কোরআনে বৈজ্ঞানিক অনেক গূঢ় তথ্য আছে বলে আল্লাহ তায়ালা কোরআনের নাম ‘হাকিম’ রেখেছেন। আল্লাহ তায়ালা পবিত্র কোরআনে সবকিছুর বর্ণনা দিয়েছেন। এজন্য আল্লাহ পাক এরশাদ করেছেন, ‘আমি এই কিতাবে কোনো কিছুই বাদ দেইনি।’ মহাগ্রন্থ আল কোরআনে আল্লাহ তায়ালা অনেক বৈজ্ঞানিক তত্ত্ব বর্ণনা করেছেন। যেমন আল্লাহ তায়ালা এরশাদ করেছেন, ‘যারা কুফুরি করে তারা কী ভেবে দেখে না যে, আকাশম-লী ও পৃথিবী মিশে ছিল ওতপ্রোতভাবে; অতঃপর আমি উভয়কে পৃথক করে দিলাম এবং প্রাণবান সব কিছু সৃষ্টি করলাম পানি থেকে; তবু কি তারা বিশ্বাস স্থাপন করবে না?’ (সুরা আম্বিয়া : ৩০)।

বর্তমানকালের আধুনিক বিজ্ঞান অতি সাম্প্রতিককালে যে তত্ত্বকে ‘বিগব্যাং তত্ত্ব’ বলে আবিষ্কার করেছে, সে তথ্য মহান আল্লাহ তায়ালা চৌদ্দশ’ বছর আগে পবিত্র কোরআনে বর্ণনা করে দিয়েছেন। আল্লাহ তায়ালা বলেছেন, আকাশম-লী ও পৃথিবী একসঙ্গে ওতপ্রোতভাবে মিশে ছিল আর এরপর আল্লাহ তা পৃথক করে দিয়েছেন। আধুনিক বিজ্ঞান দাবি করে, পৃথিবী, চন্দ্র, সূর্য, গ্রহ, নক্ষত্র সবকিছু একসঙ্গে জমাট বেঁধে ছিল। এরপর প্রচ- একটি বিস্ফোরণ হয় আর এ বিস্ফোরণের ফলে পৃথিবী এবং অন্যান্য গ্রহের সৃষ্টি হয়। বস্তুত তারা যদি কোরআনকে গবেষণা করত, তাহলে আরও অনেক আগেই এই ‘বিগব্যাং তত্ত্ব’ আবিষ্কার করতে পারত। কোরআনে বর্ণিত আল্লাহর এই সৃষ্টিতত্ত্ব সর্বকালের সব মানুষের জন্য একটি অনন্য উপমা।

আল্লাহ তায়ালা পবিত্র কোরআনে এরশাদ করেছেন, ‘তোমার রব মৌমাছির অন্তরে ইঙ্গিত দ্বারা নির্দেশ দিয়েছেন তুমি গৃহ নির্মাণ কর পাহাড়, বৃক্ষ এবং মানুষ যে গৃহ নির্মাণ করে তাতে। এরপর প্রত্যেক ফল থেকে কিছু কিছু আহার কর, অতঃপর তোমার রবের সহজ পথ অনুসরণ কর। ওর উদর থেকে নির্গত হয় বিবিধ বর্ণের পানীয়, যাতে মানুষের জন্য রয়েছে রোগের প্রতিষেধক। অবশ্যই এতে রয়েছে নিদর্শন চিন্তাশীল সম্প্রদায়ের জন্য।’ (সুরা আন নাহল : ৬৮-৬৯)।

মৌমাছির আচরণ ও যোগাযোগের ওপর গবেষণার জন্য ১৯৭৩ সালে নোবেল পান ভন-ফ্রিচ। কোনো নতুন বাগান বা ফুলের সন্ধান পাওয়ার পর একটি মৌমাছি আবার মৌচাকে ফিরে যায় এবং মৌমাছি নৃত্য নামক আচরণের মাধ্যমে তার সহকর্মী মৌমাছিদের সেখানে যাওয়ার সঠিক গতিপথ ও মানচিত্র বলে দেয়। অন্যান্য শ্রমিক মৌমাছিকে তথ্য দেওয়ার লক্ষ্যে এ ধরনের আচরণ আলোকচিত্র ও অন্যান্য পদ্ধতির সাহায্যে বৈজ্ঞানিকভাবে প্রমাণিত হয়েছে। আগে মানুষ ভাবত কর্মী মৌমাছিরা পুরুষ এবং ঘরে ফিরে এসে তাদের একটি রাজা মৌমাছির কাছে জবাবদিহিতা করতে হয়। কিন্তু এটা সত্য নয়, কারণ আল্লাহ তায়ালা কোরআনে স্ত্রীবাচক শব্দ ব্যবহার করেছেন, যা প্রমাণ করে শ্রমিক মৌমাছিরা স্ত্রী এবং তারা রাজা নয় বরং রানি মৌমাছির কাছে জবাবদিহিতা করে। মৌমাছিদের বোধশক্তি ও তীক্ষè বুদ্ধি তাদের শাসনব্যবস্থার মাধ্যমে সুন্দররূপে অনুমান করা যায়। এ দুর্বল প্রাণীর জীবন ব্যবস্থা মানুষের রাজনীতি ও শাসননীতির সঙ্গে চমৎকার মিল রয়েছে। সমগ্র আইনশৃঙ্খলা একটি বড় মৌমাছির হাতে থাকে এবং সে-ই হয় মৌমাছির শাসক। আল্লাহ তায়ালা এসব বর্ণনা করার পর বলছেন : এগুলোর মধ্যে নিদর্শন রয়েছে চিন্তাশীল ব্যক্তিদের জন্য। সুতরাং মানুষ যদি এ ছোট্ট প্রাণীকে নিয়ে চিন্তা করে তাহলে অনেক শিক্ষা অর্জন করতে পারবে। (তফসিরে ফাতহুল মাজিদ)।

বিজ্ঞানী ভন-ফ্রিচ মৌমাছি নিয়ে যে গবেষণা করে নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন, সে বিষয়ে মহান আল্লাহ তায়ালা চৌদ্দশ’ বছর আগে আল কোরআনে বলে দিয়েছেন। কোরআনের এসব বৈজ্ঞানিক তত্ত্ব বড় বড় বিজ্ঞানীদেরও অবাক করে। আল্লাহ তায়ালা আরও এরশাদ করেছেন, ‘সূর্যের পক্ষে সম্ভব নয় চাঁদের নাগাল পাওয়া এরং রাতের পক্ষে সম্ভব নয় দিনকে অতিক্রম করা এবং প্রত্যেকে নিজ নিজ কক্ষপথে সাঁতার কাটে।’ (সুরা ইয়াসিন : ৪০)।

সুরা ইয়াসিনের ওই আয়াতে আল্লাহ তায়ালা আরেকটি বৈজ্ঞানিক তত্ত্ব বর্ণনা করেছেন। তা হলো চাঁদ, সূর্য নিজ নিজ কক্ষপথে আবর্তন করে। এমনকি প্রতিটি গ্রহেরই একটি নির্দিষ্ট কক্ষপথ রয়েছে আর তারা সে কক্ষপথেই আবর্তিত হয়। সুতরাং মহান আল্লাহ তায়ালা বলে দিলেন, তিনিই এ ব্যবস্থা প্রবর্তন করেছেন এবং তার নির্দেশেই সৌরজগতের সব কিছু পরিচালিত হয়। যে তত্ত্ব বিজ্ঞানীরা আবিষ্কার করেছে অল্প কিছু কাল আগে। অথচ এ তত্ত্ব মহান আল্লাহ তায়ালা অনেক আগেই বলে দিয়েছেন। অতএব, একজন মোমিন মুসলমান কিংবা একজন বিজ্ঞানী যখন রবের দেওয়া এ কালাম গভীর মনোযোগ দিয়ে পড়বে, তখন রবের প্রতি কৃতজ্ঞতায় তার মাথা রবের সামনে সেজদায় নত করে দেবে।

লেখক : শিক্ষার্থী, আলিম ২য় বর্ষ

সুফিয়া নুরিয়া ফাজিল মাদ্রাসা, মিরসরাই, চট্টগ্রাম

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত