
জাতীয় দলের ক্রিকেটার নাঈম হাসানকে ডিবি পরিচয়ে হেনস্তা ও মারধরের ঘটনায় অভিযুক্ত চট্টগ্রামের খুলশী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিফুর রহমানকে প্রত্যাহার করে লাইনওয়ারে সংযুক্ত করা হয়েছে।
শনিবার (১৩ জুন) চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি) কমিশনার হাসান মো. শওকত আলীর সই করা এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানা গেছে।
মূলত সোনা চোরাচালানের তথ্য ছিল পুলিশের কাছে। যা চট্টগ্রাম নগরীর খুলশী থানার ওসি থেকে নিয়ে ঊর্ধ্বতন অনেক পুলিশ কর্মকর্তাই জানতেন। কিন্তু ভুল করে ফেলেন খুলশী থানার এস আই শফিকুল। তিনি ক্রিকেটার নাঈম হাসানকে সন্দেহভাজন মনে করে হেনস্থা ও মারধর করে ফেঁসে গেছেন। এতে পুলিশের ভাবমুর্তি ক্ষুণ্ন হয়েছে। এ ঘটনায় নাঈমের ভাই বাদী হয়ে খুলশী থানায় মামলা করেন।
মামলায় খুলশী থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) শফিকুল ইসলাম, কনস্টেবল রাসেল ও পুলিশের সোর্স সোহেলকে আসামি করা হয়। অভিযোগের পর অভিযুক্ত তিন পুলিশ সদস্যকে প্রত্যাহার করা হয়।
পরে নাঈমের অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত শুরু করে সিএমপি। প্রাথমিকভাবে পুলিশ জানিয়েছে, সোনা চোরাচালান সংক্রান্ত তথ্যের ভিত্তিতে ওই এলাকায় অভিযান চালানো হয়েছিল। তবে অভিযানের প্রক্রিয়া, তথ্যের উৎস এবং পুলিশের আচরণ—সব বিষয় খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
সিএমপির একাধিক সূত্র জানায়, ২০১৯-২০ সালের দিকে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন সরকারের আমলে পরিদর্শক আরিফুর রহমান দলটির সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের এলাকায় কোম্পানিগঞ্জ থানার ওসির দায়িত্বে ছিলেন। তার অত্যন্ত আশীর্বাদপুষ্ট এই পুলিশ কর্মকর্তা ওইসময়ে চট্টগ্রাম রেঞ্জের শ্রেষ্ঠ ওসি নির্বাচিত হয়েছিলেন। ২০২১-২০২২ সালে কুমিল্লার দেবিদ্বার থানার ওসি ছিলেন আরিফুর। ওইসময় ওই এলাকার চেয়ারম্যান প্রার্থী মো. জসিম উদ্দিন সরকারের কাছ থেকে স্ত্রীর অ্যাকাউন্টে ১ লাখ টাকা ঘুষ নিয়েছিলেন। বিষয়টি পরবর্তীতে জানাজানি হলে পুলিশ সদরদপ্তর তার বিরুদ্ধে প্রাথমিক ব্যবস্থা নেয়। পরবর্তীতে সিএমপির বিশেষ শাখায়ও কাজ করেন তিনি।
আবা/এসআর/২৬