ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৮ জানুয়ারি ২০২৬, ২৪ পৌষ ১৪৩২ | বেটা ভার্সন

চট্টগ্রামে নির্বাচন কমিশনার

‘আসন্ন নির্বাচনে কোনো গোষ্ঠী অপকর্ম করার সুযোগ পাবে না’

‘আসন্ন নির্বাচনে কোনো গোষ্ঠী অপকর্ম করার সুযোগ পাবে না’

নির্বাচন কমিশনার (ইসি) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ বলেছেন, আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে কোনো দল বা গোষ্ঠী অপকর্ম করার সুযোগ পাবে না। বস্তুত, এমন কাজ করার কোনো সুযোগই নেই। আমরা সর্বোচ্চটুকু দিয়ে নির্বাচন সুষ্ঠু করার চেষ্টা করব।

মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) সকালে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে আইনশৃঙ্খলা সেলের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এ মন্তব্য করেন।

এসময় সানাউল্লাহ সাংবাদিকদের বলেন, আপনারা যে অপারেশনগুলো করছেন, অপারেশনের পরে তা মিডিয়ায় দিয়ে দেবেন। কোনো গোষ্ঠী বা দল যদি অপকর্ম করে পার পেয়ে যেতে চায় তাহলে তারা যেন উৎসাহিত বোধ না করে। কারণ তারা জানবে, অপকর্ম করলে ধরা পড়তে হবে এবং অপকর্ম লোকালি থাকবে না জাতীয় বিষয় হয়ে যাবে। লোকাল ক্ষতির পাশাপাশি জাতীয় ক্ষতি হবে। আমরা চাই রাজনৈতিক দলগুলো আইন মেনে উৎসবমুখর পরিবেশে নির্বাচন করুক।

ইসি আরও বলেন, নির্বাচনকে কেন্দ্র করে এক ধরনের গান (অস্ত্র) রানিং হয়। অস্ত্রের একটা সঞ্চালন দেখা দেয়। সন্ত্রাসীদের কদর বেড়ে যায়। জুলাই অভ্যুত্থানের পর এখনো উল্লেখযোগ্যসংখ্যক অস্ত্র উদ্ধার হয়নি। ৮৫ শতাংশের কাছাকাছি অস্ত্র উদ্ধার হলেও এখনও আনুমানিক ১৫ শতাংশ অস্ত্র উদ্ধার করা যায়নি। এগুলো খুঁজে পেতে হবে। শতভাগ খুঁজে পাবেন তা আশা করা যায় না। তবে যারা এগুলো নিয়েছে, তাদের চিহ্নিত করতে বা উদ্ধার করতে পারলে মানুষের মধ্যে আস্থা বাড়বে। এছাড়া হারিয়ে যাওয়া অস্ত্র-গোলাবারুদের একটি বড় অংশ এখনো উদ্ধার হয়নি। আনুমানিক ৭০-৭৫ শতাংশ উদ্ধার করা গেছে। বাকিটা এখনও মাঠে আছে। এটাকেও খুঁজে পেতে হবে।

নির্বাচনকে ঘিরে কোনো স্বার্থান্বেষী মহল যেন সংখ্যালঘুদের ব্যবহার করতে না পারে সেদিকে লক্ষ্য রাখার পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন, এ এলাকায় (চট্টগ্রাম) সংখ্যালঘুদের আবাস আছে। নির্বাচনকে ঘিরে কোনো স্বার্থান্বেষী মহল সংখ্যালঘুদের মাঝে বিভিন্ন ঘটনা ঘটানোর প্রয়াস চালাতে পারে। অতীতেও এমন ঘটনা ঘটেছে। সেদিকে লক্ষ্য রাখতে হবে।

নির্বাচনের আগে রোহিঙ্গা ক্যাম্প ও সীমান্ত বন্ধ রাখা জরুরি উল্লেখ করে আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ বলেন, রোহিঙ্গাদের ক্যাম্প ও সীমান্ত অবশ্যই বন্ধ করতে হবে। রোহিঙ্গাদের একটি অংশ সমাজে ছড়িয়ে পড়েছে বলে আমাদের ধারণা। রোহিঙ্গা ক্যাম্পভিত্তিক কিছু কর্মকাণ্ড নিরাপত্তা বিঘ্নিত করছে। কেউ যদি একটি অস্ত্র সীমান্তের ওপার থেকে এনে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ঢুকিয়ে ফেলে সহজে এটাকে খুঁজে পাওয়া যায় না। সুতরাং রোহিঙ্গাদের চলাচলে অবশ্য নিয়ন্ত্রণ আপোর করতে হবে।

মত বিনিয়ম সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রামের বিভাগীয় কমিশনার ড. জিয়াউদ্দীন, চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি আহসান হাবিব পলাশ, চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক জাহিদুল ইসলাম মিঞা, জেলা পুলিশ সুপার নাজির আহমদ খাঁন প্রমুখ।

চট্টগ্রাম,নির্বাচন কমিশনার,নির্বাচন
আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত