ঢাকা শুক্রবার, ০৯ জানুয়ারি ২০২৬, ২৫ পৌষ ১৪৩২ | বেটা ভার্সন

চট্টগ্রামে ৩৬ জনের বিরুদ্ধে মামলায় আদালতে অভিযোগপত্র গ্রহণ

চট্টগ্রামে ৩৬ জনের বিরুদ্ধে মামলায় আদালতে অভিযোগপত্র গ্রহণ

ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক লিমিটেড (ইউসিবিএল) থেকে প্রায় ২৫ কোটি টাকা আত্মসাৎ ও বিদেশে পাচারের অভিযোগে সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদসহ ৩৬ জনের বিরুদ্ধে দুদকের দেওয়া অভিযোগপত্র গ্রহণ করেছেন আদালত।

বুধবার (৭ জানুয়ারি) চট্টগ্রামের সিনিয়র স্পেশাল জজ মো. হাসানুল ইসলামের আদালত এ আদেশ দেন।

এর আগে, গত ৫ জানুয়ারি চট্টগ্রাম মহানগর সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালতে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও দুদকের প্রধান কার্যালয়ের উপপরিচালক মো. মশিউর রহমান অভিযোগপত্র জমা দেন। মামলায় জাবেদ ছাড়াও তাঁর স্ত্রী রুকমিলা জামান, ছোট ভাই আসিফুজ্জামান, বোন রোকসানা জামান এবং ইউসিবিএল ব্যাংক ও আরামিট গ্রুপের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ মোট ৩৬ জনকে আসামি করা হয়েছে। সাবেক মন্ত্রী জাবেদের বিরুদ্ধে এটিই দুদকের দেওয়া প্রথম অভিযোগপত্র।

দুদকের আইনজীবী রেজাউল করিম রনি জানান, আদালত অভিযোগপত্র গ্রহণের পাশাপাশি পলাতক ৩৪ জন আসামির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন। মামলার অপর দুই আসামি বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন।

এর আগে, গত ২৪ জুলাই জাবেদ ও তাঁর স্ত্রীসহ ৩১ জনের বিরুদ্ধে চট্টগ্রাম জেলা কার্যালয়-১-এ মামলা দায়ের করেন মো. মশিউর রহমান। ওই মামলার আসামিদের মধ্যে ব্যাংক কর্মকর্তা আবদুল আওয়াল এবং জাবেদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা কাজী মো. দিলদার মারা যাওয়ায় তাদের বিচারিক কার্যক্রম থেকে অব্যাহতির সুপারিশ করা হয়েছে। তদন্তে আরও সাতজনের সংশ্লিষ্টতা পাওয়ায় তাদেরও অভিযোগপত্রে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। ফলে মোট আসামির সংখ্যা দাঁড়ায় ৩৬ জনে। অভিযোগপত্রে ৯২ জনকে সাক্ষী করা হয়েছে।

অভিযোগপত্র অনুযায়ী, আরামিট গ্রুপের প্রটোকল অফিসার ফরমান উল্লাহ চৌধুরীকে ব্যবসায়ী হিসেবে দেখিয়ে ভুয়া তথ্যের মাধ্যমে ‘ভিশন ট্রেডিং’ নামে একটি প্রতিষ্ঠানের ট্রেড লাইসেন্স নেওয়া হয়। ২০১৯ সালের ১৩ অক্টোবর ইউসিবিএল ব্যাংকের চট্টগ্রাম পোর্ট শাখায় ওই প্রতিষ্ঠানের নামে একটি চলতি হিসাব খোলা হয়। পরবর্তীতে ২০২০ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি গম, হলুদ, ছোলা ও মটর আমদানির কথা উল্লেখ করে ১৮০ দিনের জন্য টাইম লোনের আবেদন করা হয়। ঋণ প্রস্তাবে নেতিবাচক মতামত থাকা সত্ত্বেও ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ কোনো ধরনের যথাযথ যাচাই-বাছাই ছাড়াই ঋণ অনুমোদন করে। ঋণের অর্থ চারটি নামসর্বস্ব প্রতিষ্ঠান— আলফা ট্রেডার্স, ক্লাসিক ট্রেডার্স, মডেল ট্রেডিং ও ইম্পেরিয়াল ট্রেডিংয়ের হিসাবে পে-অর্ডারের মাধ্যমে স্থানান্তর করা হয়। পরে এসব অর্থ নগদ উত্তোলন ও বিভিন্ন হিসাবে সরিয়ে নেওয়া হয়।

তদন্তে আরও জানা যায়, আত্মসাৎ করা অর্থ হুন্ডির মাধ্যমে বিদেশে পাচার করে সেখানে সম্পত্তি কেনা হয় এবং জাবেদের মালিকানাধীন আরামিট সিমেন্ট ও আরামিট থাই অ্যালুমিনিয়াম লিমিটেডের হিসাবে জমা দিয়ে দায় সমন্বয় করা হয়। ২০১৯ সালের ১৩ অক্টোবর থেকে ২০২০ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারির মধ্যে এসব অনিয়ম সংঘটিত হয়। আসামিদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৪০৬, ৪০৯, ৪২০, ৪৬৭, ৪৬৮, ৪৭১ ও ১০৯ ধারা এবং দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন ও মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইনের সংশ্লিষ্ট ধারায় শাস্তিযোগ্য অপরাধের অভিযোগ আনা হয়েছে।

চট্টগ্রাম,মামলা,আদালত,অভিযোগপত্র
আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত