ঢাকা বুধবার, ০৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ২১ মাঘ ১৪৩২ | বেটা ভার্সন

দেশকে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ করতে খাল খনন কর্মসূচির বিকল্প নেই: চসিক মেয়র

দেশকে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ করতে খাল খনন কর্মসূচির বিকল্প নেই: চসিক মেয়র

দেশকে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ করতে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের প্রবর্তিত খাল খনন কর্মসূচির বিকল্প নেই বলে মন্তব্য করেছেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন।

তিনি বলেন, কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি, সেচ সুবিধা সম্প্রসারণ এবং জলাবদ্ধতা নিরসনে খাল খনন একটি কার্যকর ও সময়োপযোগী উদ্যোগ।

মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) চট্টগ্রাম নগরীর উত্তর পাহাড়তলী ০৯ নম্বর ওয়ার্ডে কালীর ছড়া খাল খনন কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এ কর্মসূচির মাধ্যমে নগরীর জলাবদ্ধতা সমস্যা নিরসনের পাশাপাশি পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার উন্নতি হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান গ্রামবাংলার কৃষি উন্নয়ন ও খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে ব্যাপক খাল খনন কর্মসূচি গ্রহণ করেছিলেন। তার সেই দূরদর্শী উদ্যোগের ফলে এক সময় বাংলাদেশ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতার পথে এগিয়ে গিয়েছিল। বর্তমান বাস্তবতায় খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং কৃষি খাতকে আরও শক্তিশালী করতে সেই ঐতিহাসিক কর্মসূচি পুনরায় কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করা জরুরি।

তিনি আরও বলেন, খাল খননের মাধ্যমে একদিকে যেমন কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি সম্ভব, অন্যদিকে নগর ও গ্রামীণ এলাকায় জলাবদ্ধতা হ্রাস, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং পানি সংরক্ষণ কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে। বিশেষ করে জলবায়ু পরিবর্তনের এই সময়ে পানিসম্পদের সঠিক ব্যবস্থাপনা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

নগরীর জলাবদ্ধতা প্রসঙ্গে মেয়র বলেন, চট্টগ্রাম শহরের অন্যতম প্রধান সমস্যা এখন জলাবদ্ধতা। বর্ষা মৌসুম এলেই ফরিদার পাড়া, বহদ্দারহাট, চান্দগাঁও, বাকলিয়া, মুরাদপুরসহ বিভিন্ন এলাকা পানিতে তলিয়ে যায়। এই সমস্যা সমাধানে সিটি কর্পোরেশন খাল পুনরুদ্ধার, নালা পরিষ্কার এবং পানি প্রবাহের পথ উন্মুক্ত রাখতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।

তিনি জানান, চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ) বর্তমানে নগরীর ৩৬টি খালে উন্নয়ন কার্যক্রম পরিচালনা করছে এবং অবশিষ্ট ২১টি খাল পরিষ্কার ও খননের দায়িত্ব চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন গ্রহণ করবে। তবে শুধু খাল খনন করলেই হবে না— খাল রক্ষা, দখলমুক্ত রাখা এবং বর্জ্যমুক্ত রাখতে নাগরিকদের সচেতনতা অত্যন্ত জরুরি বলে তিনি উল্লেখ করেন।

মেয়র নগরবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, খাল ও নালায় পলিথিন, প্লাস্টিক এবং অন্যান্য আবর্জনা ফেলা বন্ধ করতে হবে। এসব বর্জ্যই জলাবদ্ধতার অন্যতম প্রধান কারণ। পলিথিনের কারণে অনেক স্থানে খালের পানি প্রবাহ বন্ধ হয়ে যাচ্ছে, যা নগরবাসীর দুর্ভোগ বাড়িয়ে তুলছে।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা ক্যাপ্টেন চৌধুরী ইখতিয়ার উদ্দিন চৌধুরী, উপ-প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা পর্ণব শর্মা, মশক ও ম্যালেরিয়া কর্মকর্তা শরিফুল হক মাহি, শাহরিয়ার খালেদ, আবু তাহের, আনু মিয়া, সিটি কর্পোরেশনের অন্যান্য কর্মকর্তা, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধি এবং স্থানীয় এলাকাবাসী।

স্বয়ংসম্পূর্ণ,খাল খনন,চসিক মেয়র
আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত