ঢাকা বুধবার, ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১২ ফাল্গুন ১৪৩২ | বেটা ভার্সন

দিনাজপুরে রসুনের বাম্পার ফলন, লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়েছে

দিনাজপুরে রসুনের বাম্পার ফলন, লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়েছে

ধান, গম, আলু, ভুট্টা ও লিচু নয়, এবার দিনাজপুরে সাদা সোনা খ্যাত রসুনের বাম্পার ফলন হয়েছে। এই অঞ্চলের রসুন জেলার চাহিদা মিটিয়ে চলে যায় বিভিন্ন জেলায়। ব্যাপক আমদানির কারণে এবার রসুনের দাম কম থাকায় ভালো ফলন হলেও কৃষকদের লোকসানের আশঙ্কা রয়েছে। রসুন আবাদকে লাভজনক করতে সংরক্ষণের ব্যবস্থা করা জরুরি হয়ে পড়েছে।

অপরদিকে উৎপাদনের দিকে খেয়াল রেখে উৎপাদন মৌসুমে আমদানী কার্যক্রম বন্ধ রাখতে হবে।

জেলার প্রতিটি উপজেলায় রসুন আবাদ হলেও, সাদা সোনাখ্যাত রসুন খানসামা, চিরিরবন্দর ও বীরগঞ্জ উপজেলায় সবচেয়ে বেশি চাষ হয়। রসুনের ফলন দেখে অন্যান্য উপজেলাতেও এর আবাদ বৃদ্ধি পেয়েছে। ব্যাপক উৎপাদনের কারণে এই অঞ্চলের রসুন জেলার চাহিদা মিটিয়ে রাজধানীসহ বিভিন্ন জেলায় সরবরাহ করা হচ্ছে।

গতবছর আকস্মিক মূল্য বৃদ্ধির কারণে কৃষক এবার বেশি পরিমাণ রসুন আবাদ করেছেন। ফিতা কাটা অর্থাৎ গাছ থেকে রসুন কেটে নেয়া আগাম জাতের এসব রসুনের গাছ এখন মাঠজুড়ে শোভা পাচ্ছে। ফিতা কাটা এসব রসুন ওঠার সময় গ্রামের মহিলাদের কর্মসংস্থান হয়ে থাকে। সকাল থেকে মাত্র দুই-তিন ঘন্টা ক্ষেতে বসে বটি দিয়ে গাছ থেকে রসুন কেটে নেওয়া হয়। ১৫ টাকা ডালি হিসেবে মজুরীর বিনিময়ে বাড়ির কাজের ফাঁকে তারা বাড়তি আয় করেন।

আগাম জাতের এসব রসুন ইতিমধ্যেই বাজারে উঠতে শুরু করেছে। দিনভর কেটে বস্তায় করে বাজারে নিয়ে আসছেন কৃষক। এবার ভালো ফলন ও কাঙ্খিত দাম পেয়ে খুশি চাষিরা।

তারা বলেন, গত বছর প্রতিকেজি রসুন এই সময় ৫০-৬০ টাকা বিক্রি হয়েছে। এবার হাট-বাজারে নতুন রসুন ৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। খানসামা উপজেলার কাচিনিয়া বাজার থেকে সপ্তাহে দু’দিন শত শত টন রসুন দেশের বিভিন্ন স্থানে যাচ্ছে।

ফড়েয়া বা আড়তদারদের মতে, মৌসুমের কথা বিবেচনায় রেখে আগে থেকেই আমদানী বন্ধ করলে ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করা যাবে। একইসাথে সংরক্ষণের জন্য সরকারিভাবে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবী স্থানীয়দের। খানসামা উপজেলার বাসিন্দা সফিউল আজম বলেন, সংরক্ষণের পাশাপাশি পরনির্ভরশীলতা কমিয়ে দেশীয় কৃষকদের উৎপাদিত রসুনের ন্যায্য দাম নিশ্চিত করা হলে এর আবাদ বৃদ্ধি পাবে এবং রসুনে দেশ স্বনির্ভর হওয়ার পাশাপাশি ভবিষ্যতে রফতানিও সম্ভব।

এদিকে, দিনাজপুর জেলা কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের অতিরিক্ত উপ-পরিচালক কৃষিবিদ মো. আফজাল হোসেন বলেন, রসুন লাভজনক ফসল হওয়ায় দিন দিন চাষ বৃদ্ধি পাচ্ছে। পাশাপাশি উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে কৃষকদের বিভিন্ন পরামর্শ দেয়া হচ্ছে। দিনাজপুর জেলায় মোট ৩,৯৮৫ হেক্টর জমিতে রসুনের চাষের লক্ষ্যমাত্রা থাকলেও এবার ৪,০৩৭ হেক্টর জমিতে চাষাবাদ করা হয়েছে। অতিরিক্ত ৫২ হেক্টর জমিতে চাষ হয়েছে, যা থেকে প্রতি উৎপাদন হবে প্রায় ৫০ হাজার মেট্রিক টন রসুন।

লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়েছে,রসুনের বাম্পার ফলন,দিনাজপুর
আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত