ঢাকা বুধবার, ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১২ ফাল্গুন ১৪৩২ | বেটা ভার্সন

পাবনায় আখের গুড় তৈরির ব্যস্ততা, ন্যায্য দাম পাচ্ছেন না কৃষক

পাবনায় আখের গুড় তৈরির ব্যস্ততা, ন্যায্য দাম পাচ্ছেন না কৃষক

পাবনায় পবিত্র রমজান মাসে রোজাদারদের ইফতার ও সেহরিতে প্রাকৃতিক মিষ্টির চাহিদা মেটাতে আখের গুড় তৈরির ব্যস্ততা বেড়েছে। রাত-দিন কাজ করছেন গুড় কারিগররা। আখের রস জ্বাল দিয়ে তৈরি হয় খাঁটি গুড়। গ্রাম থেকে শহরে সবখানেই বাড়ছে গুড়ের চাহিদা। ইফতারের শরবত, পায়েস কিংবা বিভিন্ন পিঠাপুলিতে গুড় যেন রমজানের অবিচ্ছেদ্য অংশ।

এদিকে ভেজালের ভিরে গুড়ের ন্যায্য দাম পাচ্ছেন না বলে দাবি করেছেন কৃষকরা।

আখ চাষি কৃষকরা জানান, বছরের অন্য সময়ের তুলনায় রমজানে গুড়ের চাহিদা কয়েকগুণ বেড়ে যায়। কিন্তু বাড়তি চাহিদার মাঝেও ন্যায্য মূল্য পাচ্ছেন না তারা। কিছু অসাধু ব্যবসায়ী গুড়ে চিনি, কেমিক্যাল ও রং মিশিয়ে ভেজাল গুড় তৈরি করছেন। এতে কম দামে বাজারে ভেজাল গুড় ছড়িয়ে পড়ছে। ফলে আখের খাঁটি গুড়ের ন্যায্য দাম পাওয়া যাচ্ছে না।

পাবনা সদর উপজেলার চরতারাপুরের কৃষক মজিদ মোল্লা জানান, বর্তমান আখ চাষ খুবই ব্যয়বহুল। আমাদের এখানে মিল নেই, এজন্য আমরা গুড় তৈরি করছি। কিন্তু গুড় তৈরি করতে আখ উৎপাদন ও শ্রমিক মজুরির জন্য যে পরিমাণ খরচ হয়, তা উঠানো কষ্টকর। কারণ ভেজাল ও আসল গুড়ের দাম অনেক প্রার্থক্য রয়েছে। কিন্তু মানুষ দাম কম-বেশি হলে ক্ষেপে যায় এবং কম দামে ভেজালটাই কিনে নেয়।

পাবনা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, পাবনা জেলায় মিল জোন এবং নন-মিল জোন হিসেবে দুটি জোনে আখ চাষ হয়। এর মধ্যে চলতি বছরে মিল জোনে ১,০৩০ হেক্টর জমি এবং নন-মিল জোনে ১৫৫ হেক্টর জমিতে আখ চাষ হয়েছে। মিল জোনের আখগুলো চিনি উৎপাদনের জন্য চিনিকলে পাঠানো হয় এবং নন-মিল জোনের আখ গুড় তৈরিতে ব্যবহৃত হয়। এবার নন-মিল জোনের আখ থেকে ৯২২ মেট্রিক টন গুড় উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর পাবনার উপ-পরিচালক জাহাঙ্গীর আলম প্রামাণিক জানান, চলতি বছরের আমাদের লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও নন-মিল জোনে আখ চাষ হয়েছে। কৃষি বিভাগ থেকে আখ উৎপাদনে সব কলাকৌশল ও দিকনির্দেশনা কৃষকদের দেওয়া হয়েছে। খাঁটি গুড়ের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করতেও কৃষি বিভাগ কাজ করছে।

ন্যায্য দাম পাচ্ছেন না কৃষক,গুড় তৈরির ব্যস্ততা,পাবনায় আখের গুড়
আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত