
রংপুর কৃষি অঞ্চলের আট জেলায় ৫ লাখ ৯ হাজার ৯৪ হেক্টর জমিতে বোরো চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে কৃষি বিভাগ। চলতি মৌসুমে রংপুর বিভাগের রংপুর, গাইবান্ধা, কুড়িগ্রাম, নীলফামারী, লালমনিরহাট, ঠাকুরগাঁও, দিনাজপুর ও পঞ্চগড় জেলায় এ লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ধান উৎপাদন বাড়ানো এবং জাতীয় খাদ্য নিরাপত্তা আরও শক্তিশালী করতে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরসহ সংশ্লিষ্ট কৃষি প্রতিষ্ঠানগুলো কৃষকদের আধুনিক প্রযুক্তি সহায়তা দিচ্ছে।
চলতি মৌসুমে রংপুর অঞ্চলে ৫ লাখ ৯ হাজার ৯৪ হেক্টর জমি থেকে ২৩ লাখ ৮ হাজার ৭১৫ টন বোরো চাল (৩৪ লাখ ৬৩ হাজার ৬৭২ টন ধান) উৎপাদনের রেকর্ড লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে সরকার।
এর মধ্যে কৃষকরা ২ লাখ ৩০ হাজার ৩১৬ হেক্টর জমি থেকে ১১ লাখ ১৩ হাজার ৯০৯ টন হাইব্রিড বোরো, ২ লাখ ৭৭ হাজার ৭৫৩ হেক্টর জমি থেকে ১১ লাখ ৭৫ হাজার ৮৬৭ টন উচ্চফলনশীল জাতের ধান এবং ১ হাজার ২৫ হেক্টর জমি থেকে ১ হাজার ৯৩৯ টন স্থানীয় জাতের বোরো উৎপাদন করবেন।
বোরো চাষ নির্বিঘ্ন করতে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান, নর্দান ইলেকট্রিসিটি সাপ্লাই কোম্পানি লিমিটেড এবং বাংলাদেশ গ্রামীণ বিদ্যুতায়ন বোর্ড কৃষকদের সার ও বিদ্যুতের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করেছে।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের প্রেরণায় কৃষকরা সেচের পানি সাশ্রয় এবং কম খরচে উৎপাদন বাড়াতে অলটারনেট ওয়েটিং অ্যান্ড ড্রাইং (এডব্লিউডি) পদ্ধতিসহ সংরক্ষণশীল কৃষি প্রযুক্তি গ্রহণ করেছেন।
এদিকে, নিম্নাঞ্চল, চর ও নদীতীরবর্তী এলাকায় বোরো চারা রোপণ শেষ হয়েছে। কৃষকরা আরও বেশি নিম্নাঞ্চল, চর, বিল ও নদীতীরবর্তী জমি বোরো চাষের আওতায় এনেছেন এবং বর্ষা মৌসুম শুরু হওয়ার আগেই ফসল ঘরে তুলতে ধান গাছের পরিচর্যা করছেন।
কম খরচে সর্বোচ্চ ফলন পেতে এবং ভূগর্ভস্থ পানি সংরক্ষণে কৃষকদের সংরক্ষণশীল কৃষি প্রযুক্তি, বিশেষ করে এডব্লিউডি পদ্ধতি এবং সুষম ও জৈব সার ব্যবহার করা উচিত।
রংপুর অঞ্চলের বিভিন্ন গ্রামের কৃষক লোকমান হোসেন, নুরুন নবী, আইয়ুব আলী, নুরুল আলম, আরিফুল হক ও সেকেন্দার আলী জানান, তারা ইতোমধ্যে নিজেদের জমিতে বোরোর চারা রোপণ শেষ করেছেন।
রংপুর অঞ্চলের কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক মো. সিরাজুল ইসলাম বলেন, সরকারের প্রয়োজনীয় সহায়তা পেয়ে কৃষকরা নিবিড় বোরো আবাদ কর্মসূচি সফল করতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করছেন।
তিনি জানান, এ পর্যন্ত ৩৩ হাজার ১১২ হেক্টরের লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে ২ লাখ ৫৯ হাজার ২৯৭ হেক্টর জমিতে জৈব সার এবং ১ লাখ ৯৮ হাজার ৬৭১ হেক্টরের লক্ষ্যের বিপরীতে ২ লাখ ৬৬ হাজার হেক্টর জমিতে সুষম সার প্রয়োগ করা হয়েছে। এ কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, সরকারের প্রয়োজনীয় সহায়তা পেয়ে কৃষকরা নিবিড় বোরো আবাদ কর্মসূচি সফল করতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করছেন।
বিনা রংপুর অঞ্চলের পরিচালক ডক্টর মো. রফিকুল ইসলাম জানান, বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব নিউক্লিয়ার এগ্রিকালচার (বিনা) রংপুর অঞ্চলের ৮ জেলায় ১০ টন বীজ কৃষকদের মাঝে বিতরণ করেছে।
তিনি জানান, বিনা-২৪, বিনা-২৫ ও বিনা-১৪ ধানবীজের সঙ্গে কৃষি প্রণোদনা হিসেবে সার বিতরণ করা হয়েছে ৬১৫ জন কৃষকের মধ্যে। তিনি আরও বলেন, কৃষকদের নিয়মিত হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে।