
বিশ্বের বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বন সুন্দরবন-এ আগামী ১ এপ্রিল (বুধবার) থেকে শুরু হতে যাচ্ছে বহুল প্রতীক্ষিত মধু আহরণ মৌসুম। এরই মধ্যে উপকূলের বিভিন্ন এলাকায় মৌয়ালদের নৌকা প্রস্তুত করা হচ্ছে।
নির্ধারিত পরিকল্পনা অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে ১১০০ কুইন্টাল মধু এবং ৬০০ কুইন্টাল মৌমাছির মোম সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে বন বিভাগ।
মৌয়ালরা জানান, সুন্দরবনে আগামী পহেলা এপ্রিল থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হতে যাচ্ছে মধু আহরণ মৌসুম। প্রতি বছর জীবনের ঝুঁকি নিয়েই মৌয়ালদের মধু সংগ্রহ করতে হয়।
বনের ভেতরে বাঘ, বিষধর সাপসহ নানা বন্যপ্রাণীর পাশাপাশি প্রতিকূল পরিবেশ মোকাবেলা করতে হয় তাদের। এর সঙ্গে রয়েছে নতুন আতঙ্ক—বনদস্যু।
তবে সব আতঙ্ক মাথায় রেখে প্রস্তুতি স্বরূপ মৌয়ালরা নৌকা সাজানোর কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন সুন্দরবন উপকূলীয় এলাকায়।
বন বিভাগ সূত্র জানায়, ২০২০-২১ অর্থবছরে সুন্দরবন থেকে মধু আহরণ করা হয়েছিল ৪ হাজার ৪৬৩ কুইন্টাল। ২০২১-২২ অর্থবছরে তা কমে দাঁড়ায় ৩ হাজার ৮ কুইন্টাল। ২০২২-২৩ অর্থবছরে আরও কমে দাঁড়ায় ২ হাজার ৮২৫ কুইন্টাল। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে কিছুটা বেড়ে ৩ হাজার ১৮৩ কুইন্টাল মধু আহরণ করা হয়েছিল। তবে চুরি করে আহরণ করা মধু বন বিভাগের হিসাবের বাইরে থাকে।
অন্যদিকে আগাম চাক কাটার কারণে মৌসুম শুরু হলে মধু কম পাওয়া যায়। এর ফলে বন বিভাগের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন না হওয়ার শঙ্কা দেখা দেয়।
প্রতিবছরের মতো এবারও সুন্দরবনের বিভিন্ন রেঞ্জে পর্যায়ক্রমে মৌয়ালদের (মধু সংগ্রহকারী) বন প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হবে। নির্ধারিত পাস (পারমিট) নিয়ে দলবদ্ধভাবে তারা গভীর বনে প্রবেশ করে প্রাকৃতিক চাক থেকে মধু সংগ্রহ করবেন বলে বন বিভাগ সূত্রে জানা যায়।
মধু আহরণ কার্যক্রম বিষয়ে গাবুরা ডুমুরিয়া গ্রামের মৌয়াল দলনেতা আব্দুর রাজ্জাক বলেন, আমি প্রতিবছর সুন্দরবনে মধু আহরণ করে থাকি। তারই ধারাবাহিকতায় এ বছরও ১২ জন মৌয়াল নিয়ে দল সাজিয়েছি। আগামী ১ এপ্রিল বনবিভাগ থেকে পাস নিয়ে সুন্দরবনে মধু আহরণে রওনা হব।
বুড়িগোয়ালিনী এলাকার মৌয়াল শাহাজান সরদার বলেন, সুন্দরবনের মধু প্রাকৃতিক ও ভেজালমুক্ত হওয়ায় দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে এর ব্যাপক চাহিদা রয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মৌয়াল বলেন, জন প্রতি আমাদের কাছে ১০ হাজার টাকা দাবি করা হয়েছে। এক একটি দলকে এভাবে ৩টি ডাকাত দলকে টাকা দিতে হবে। তবে এই কারণে অনেক মৌয়াল জানিয়েছেন, তারা এবার সুন্দরবনে মধু ভাঙতে যাবেন না।
এদিকে বন বিভাগ সূত্রে জানা যায়, মৌয়ালদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিভিন্ন নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে। পাশাপাশি বনজ সম্পদ রক্ষায় নির্ধারিত নিয়ম মেনে মধু সংগ্রহ করতে হবে। অপরিকল্পিতভাবে চাক ধ্বংস বা অতিরিক্ত আহরণ করলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও সতর্ক করা হয়েছে।
তবে সুন্দরবনে ডাকাত দলের অত্যাচার বৃদ্ধি পাওয়ায় অনেক মৌয়াল এবার মধু আহরণে সুন্দরবনে যাচ্ছে না বলে জানা গেছে।
সুন্দরবন সাতক্ষীরা রেঞ্জের রেঞ্জ কর্মকর্তা মশিউর রহমান জানান, এপ্রিল মাসের ১ তারিখ থেকে মধু সংগ্রহের পাস দেওয়া হবে। আমরা কঠোর নজরদারিতে আছি, যাতে সুন্দরবন থেকে কেউ মধু চুরি করতে না পারে। সুনির্দিষ্ট প্রমাণ পাওয়া গেলে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।