
সুন্দরবনে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে মধু আহরণ মৌসুম। এ উপলক্ষ্যে আয়োজিত অনুষ্ঠানে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম বলেছেন, মধু হচ্ছে আল্লাহর নেয়ামত, এতে কোনোভাবেই ভেজাল দেয়া যাবে না। পাশাপাশি তিনি এই খাঁটি মধুকে ব্র্যান্ডিং করার ওপর জোর দেন।
বুধবার (১ এপ্রিল) সকাল সাড়ে ১০টায় সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার নীলডুমুর বুড়িগোয়ালিনী সরকারি প্রাইমারি স্কুল মাঠে মধু আহরণ মৌসুমের উদ্বোধন করা হয়। খুলনা অঞ্চলের বন সংরক্ষক ইমরান আহমেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে এ উদ্বোধন করেন পরিবেশ ও বন প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম।
অনুষ্ঠানে বিশেষ করে সুন্দরবনকে দস্যুমুক্ত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন বক্তারা। প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী বনদস্যুদের বিরুদ্ধে কঠোর অভিযান চালাতে পুলিশ, বিজিবিসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে নির্দেশ দেন।
তিনি বলেন, সুন্দরবনকে সম্পূর্ণ বনদস্যুমুক্ত করা হবে। তবে এর জন্য এলাকাবাসীকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাজে সার্বিক সহযোগিতা করতে হবে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম, জেলা প্রশাসক আফরোজা আক্তার, পুলিশ সুপার আরেফিন জুয়েল, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক রহমতুল্লাহ পলাশ এবং স্থানীয় মৌয়াল নজরুল প্রমুখ।
বন বিভাগের নির্ধারিত পরিকল্পনা অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে ১১০০ কুইন্টাল মধু এবং ৬০০ কুইন্টাল মৌমাছির মোম সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রতিবছরের মতো এবারও সুন্দরবনের বিভিন্ন রেঞ্জে পর্যায়ক্রমে মৌয়ালদের প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হবে। নির্ধারিত পারমিট নিয়ে দলবদ্ধভাবে তারা গভীর বনে প্রবেশ করে প্রাকৃতিক চাক থেকে মধু সংগ্রহ করবেন। সাধারণত এপ্রিল থেকে জুন পর্যন্ত এ কার্যক্রম চলে।