ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০২ এপ্রিল ২০২৬, ১৯ চৈত্র ১৪৩২ | বেটা ভার্সন

হরমুজে আটকা ২ হাজার জাহাজ ও ২০ হাজার নাবিক

হরমুজে আটকা ২ হাজার জাহাজ ও ২০ হাজার নাবিক

ইতোমধ্যে পঞ্চম সপ্তাহে গড়িয়েছে মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধ। ইরানের ক্রমাগত হুমকি আর হরমুজ প্রণালি অবরোধে আটকা পড়েছে ২,০০০ বাণিজ্যিক জাহাজ। এই জাহাজগুলোতে থাকা ২০,০০০ নাবিকের জীবন এখন চরম সংকটে।

ফুরিয়ে আসছে খাবার ও পানি। প্রতি মুহূর্তে মৃত্যুভয় তাদেরকে গ্রাস করছে। এক দিকে ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন হামলার ভয়, অন্যদিকে খাবার, পানি ও প্রয়োজনীয় সামগ্রী কমে আসতে থাকায় দিশেহারা এই নাবিকরা এখন বাঁচার জন্য আকুল আবেদন জানাচ্ছেন।

আন্তর্জাতিক বিভিন্ন নাবিক সহায়তা সংস্থা ও হেল্পলাইনগুলো জানিয়েছে, গত কয়েক সপ্তাহে তারা এই অঞ্চলে আটকে থাকা জাহাজের নাবিকদের কাছ থেকে হাজার হাজার সাহায্য প্রার্থনার বার্তা পেয়েছে।

অধিকাংশ নাবিকই জরুরি ভিত্তিতে দেশে ফেরাসহ বকেয়া বেতন এবং জীবনধারণের জন্য প্রয়োজনীয় রসদ সরবরাহের দাবি জানিয়েছেন।

ইন্টারন্যাশনাল ট্রান্সপোর্ট ওয়ার্কার্স ফেডারেশনের (আইটিএফ) কাছে পাঠানো এক বার্তায় বলা হয়েছে, “নাবিকদের বাঁচিয়ে রাখতে জরুরি ভিত্তিতে খাবার, পানি এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিস প্রয়োজন।”

আরব বিশ্ব ও ইরানের আইটিএফ নেটওয়ার্কে সমন্বয়ক মোহাম্মদ আরাচেদি জানান, পরিস্থিতি অত্যন্ত ভয়াবহ।

তিনি বলেন, নাবিকরা গভীর রাতে যখনই ইন্টারনেট পান, তখনই ফোন করেন। একজন নাবিক আতঙ্কে চিৎকার করে বলছিলেন, এখানে বোমা পড়ছে, আমরা মরতে চাই না। দয়া করে আমাদের বাঁচান’।

আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক সংস্থা নিশ্চিত করেছে যে, সংঘাত শুরুর পর থেকে এখন পর্যন্ত ১৯টি জাহাজ আক্রান্ত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে এবং এতে ১০ জন নাবিক প্রাণ হারিয়েছেন।

ইরান হুমকি দিয়েছে যে, হরমুজ প্রণালি পার হওয়ার চেষ্টা করলে যেকোনো জাহাজে হামলা চালানো হবে।

বিশ্বের এক-পঞ্চমাংশ তেল ও গ্যাস সরবরাহের এই রুটটি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ভারত ও চীনের মতো এশীয় দেশগুলোতে জ্বালানি নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।

এই অবরোধ বিশ্বজুড়ে মুদ্রাস্ফীতি বাড়িয়ে দিচ্ছে এবং গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের ওপর হামলা চালানো যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ওপর চাপ ক্রমেই বাড়ছে।

আবা/এসআর/২৬

হরমুজ,নাবিক,আটকা
আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত