ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৯ এপ্রিল ২০২৬, ২৬ চৈত্র ১৪৩২ | বেটা ভার্সন

ভুয়া সনদে চাকরির অভিযোগ, এখন ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক

ভুয়া সনদে চাকরির অভিযোগ, এখন ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক

শিক্ষকতার মতো পবিত্র পেশায় যোগ দিতে যেখানে মেধা, যোগ্যতা ও সততা থাকা প্রধান শর্ত, সেখানে জাল বা ভুয়া সনদ ব্যবহার করে দীর্ঘ ২২ বছর যাবত সরকারি বেতন-ভাতা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে নীলফামারীর জলঢাকা উপজেলার বালাপাড়া দ্বি-মুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক বিজয় চন্দ্র রায়ের বিরুদ্ধে।

তার জমা দেওয়া কম্পিউটার প্রশিক্ষণ সনদের সত্যতা নিয়ে লিখিত অভিযোগ করায় সাম্প্রতিক সরকারি নিরীক্ষায় ওই সনদকে জাল বা ভুয়া হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

জানা যায়, উপজেলার বালাপাড়া দ্বি-মুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক অনাথ চন্দ্র রায় চলতি বছরের ২ ফেব্রুয়ারি অবসর গ্রহণ করেন।

তার অবসরজনিত কারণে প্রতিষ্ঠান প্রধানের পদটি শূন্য হওয়ায় সিনিয়র শিক্ষক (কম্পিউটার) বিজয় চন্দ্র রায়কে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব প্রদান করে একটি অফিস আদেশ জারি করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও বালাপাড়া দ্বি-মুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি জাহিদ ইমরুল মোজাক্কিন।

এর আগে, গত ১১/০১/২৬ ইং তারিখে সিনিয়র সহকারী শিক্ষক বিজয় চন্দ্র রায়ের কম্পিউটার ও বিএড সনদ জাল উল্লেখ করে তদন্তের দাবি জানিয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার, মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসারসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন একই বিদ্যালয়ের সিনিয়র সহকারী শিক্ষক গোলাম মোস্তফা।

লিখিত অভিযোগের প্রেক্ষিতে ১৫/০১/২৬ ইং ৩ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার।

বিষয়টি সঠিক যাচাই-বাছাইয়ের জন্য জাতীয় কম্পিউটার প্রশিক্ষণ ও গবেষণা একাডেমি (সাবেক নট্রামস) কেন্দ্রে বিজয় চন্দ্র রায়ের কম্পিউটার সনদটি প্রেরণ করেন তদন্ত কমিটি। পরবর্তীতে ১২/০৩/২৬ ইং জাতীয় কম্পিউটার প্রশিক্ষণ ও গবেষণা একাডেমির (নেকটার) সিনিয়র ইন্সট্রাক্টর (আইসিটি) আবু মুসা স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে বিজয় চন্দ্র রায়ের ১৯৪৫৬ সিরিয়ালের ২৩৮০ নং রেজিস্ট্রেশন কম্পিউটার প্রশিক্ষণ সনদটি ভুয়া/জাল উল্লেখ করে সংশ্লিষ্ট তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অফিসার মিজানুর রহমানের নিকট সনদ যাচাই প্রতিবেদন প্রেরণ করা হয়।

সর্বশেষ ৩০/০৩/২৬ ইং বিজয় চন্দ্র রায়ের কম্পিউটার প্রশিক্ষণ সনদটি জাতীয় কম্পিউটার প্রশিক্ষণ ও গবেষণা একাডেমির (নেকটার) ইস্যুকৃত সনদ নয় এবং তাদের প্রতিবেদন অনুযায়ী উক্ত সনদটি জাল/ভুয়া—অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া যায় উল্লেখ করে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের নিকট তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন গঠিত তদন্ত কমিটি।

তবে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার পরও এখন পর্যন্ত ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করছেন বিজয় চন্দ্র রায়। তার ইনডেক্স নম্বর-১০২৭৯৩৪। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর শিক্ষা প্রশাসন, স্থানীয় শিক্ষাঙ্গন এবং সচেতন মহলে তীব্র আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে।

অফিস সূত্রে জানা যায়, বিজয় চন্দ্র রায় সহকারী শিক্ষক (কম্পিউটার) হিসেবে ৩১/১২/২০০২ ইং সালে বালাপাড়া দ্বি-মুখী উচ্চ বিদ্যালয়ে যোগদান করেন এবং ২০০৫ সালের ১ সেপ্টেম্বর এমপিওভুক্ত হন। তখন থেকে প্রায় ২২ বছর যাবত ভুয়া সনদে চাকরি করছেন তিনি। বর্তমানে ৮ম গ্রেডে বেতন-ভাতাসহ সকল সুযোগ-সুবিধা ভোগ করছেন বিজয় চন্দ্র।

মুঠোফোনে জানতে চাইলে বালাপাড়া দ্বি-মুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক বিজয় চন্দ্র রায় বলেন, “এটি আমাদের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের বিষয়, তারা এটি দেখবেন। আপনি স্কুলে আসেন, স্বাক্ষাতে কথা হবে,” বলে ফোন কেটে দেন তিনি।

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার আশরাফুজ্জামান সরকার বলেন, “একেবারে চূড়ান্ত পর্যায়ের তদন্তে প্রমাণিত হলে ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তবে জাল বা ভুয়া সনদে কেউ চাকরি করে থাকলে এবং তা প্রমাণিত হলে তার চাকরি চলে যাবে।”

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও বালাপাড়া দ্বি-মুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি জাহিদ ইমরুল মোজাক্কিন বলেন, “এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট অফিসারের নিকট মতামত চাওয়া হয়েছে, মতামতের প্রেক্ষিতে পরবর্তীতে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক,চাকরির অভিযোগ,ভুয়া সনদ
আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত