
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের যোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের উদ্যোগে ‘সোশ্যাল ইমোশনাল লার্নিং অ্যান্ড মিডিয়া লিটারেসি’ শীর্ষক এক আন্তর্জাতিক কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বুধবার (৬ মে) বিভাগের সেমিনার কক্ষে এ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়।
সকাল ৯টায় শুরু হওয়া এ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আল্-ফোরকান।
কর্মশালায় সভাপতিত্ব করেন চবি যোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের চেয়ারম্যান ও সহযোগী অধ্যাপক শাহাব উদ্দিন নীপু।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে চবি উপাচার্য প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আল্-ফোরকান সবাইকে শুভেচ্ছা জানান।
তিনি বলেন, আজকের ‘সোশ্যাল ইমোশনাল লার্নিং অ্যান্ড মিডিয়া লিটারেসি’ টপিকটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও সময়োপযোগী। বর্তমান সময়ে ইমোশনাল লার্নিং এবং মিডিয়া সম্পর্কে জানার খুবই প্রয়োজন রয়েছে।
উপাচার্য বলেন, আমাদের জীবন পুষ্পশোভিত নয়। নানা সমস্যার মধ্য দিয়ে আমাদের জীবন অতিবাহিত হয়। এসব সমস্যাগুলোর মধ্যে কিছু সমস্যা আবেগপ্রবণ হয়ে আবার কিছু সমস্যা কার্যকরভাবে সমাধান করতে হয়। অপরদিকে জীবনের সব সিদ্ধান্ত যেমন ইমোশনাল হয়ে নেওয়া ঠিক নয় তেমনি ইমোশনকে বাদ দিয়েও সব করা যায় না।
উপাচার্য যেকোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে উপযুক্ত ব্যক্তি, সঠিক কাজ এবং উপযুক্ত সময় নির্ধারণের ওপর গুরুত্ব দেওয়ার পরামর্শ দেন।
উপাচার্য আরও বলেন, জীবনে অনেক সমস্যা থাকতে পারে, সেটা আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করতে হবে। কোনো সমস্যা মানুষের জীবনের কাজের গতিকে থামিয়ে দিতে পারে না। আশা করি, আজকের কর্মশালায় ইমোশন, সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে করণীয়, জীবনচর্যা এবং আধুনিক মিডিয়া সম্পর্কে আলোচনা হবে এবং প্রশিক্ষণার্থীরা সেসব শিখে উপকৃত হবে।
তিনি আগত অতিথি, বিভাগের সভাপতিসহ উপস্থিত সবাইকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান।
অনুষ্ঠানে বিশেষজ্ঞ প্রশিক্ষক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ভারতের নয়াদিল্লির সাউথ এশিয়ান ইউনিভার্সিটির আর্টস এন্ড ডিজাইন অনুষদের প্রফেসর ড. অম্বরীশ সাক্সেনা এবং ইউনেস্কো এমজিআইইপি এর ন্যাশনাল প্রজেক্ট অফিসার (এসইএল ইয়ুথ প্রোগ্রাম) ড. রিচা বানসাল।
কর্মশালায় সঞ্চালনা করেন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক রাজীব নন্দী।
কর্মশালায় বক্তারা বর্তমান সময়ে আবেগীয় বুদ্ধিমত্তা এবং মিডিয়া লিটারেসির গুরুত্ব তুলে ধরেন। তারা বলেন, বর্তমান তথ্যপ্রযুক্তির যুগে তথ্যের সঠিক যাচাই-বাছাই এবং মানসিকভাবে স্থিতিশীল থেকে সংবাদ ও মাধ্যম ব্যবহারের দক্ষতা অর্জন করা শিক্ষার্থীদের জন্য অপরিহার্য। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের মাঝে নৈতিক সাংবাদিকতা এবং দায়িত্বশীলতার চর্চা ছড়িয়ে দিতে এ ধরনের আন্তর্জাতিক আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
আয়োজিত এ কর্মশালায় বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং সংশ্লিষ্ট গবেষকরা অংশগ্রহণ করেন।
সাউথ এশিয়ান ইউনিভার্সিটি (এসএইউ), নয়াদিল্লি এবং ইউনেস্কো মহাত্মা গান্ধী ইনস্টিটিউট অফ এডুকেশন ফর পিস অ্যান্ড সাসটেইনেবল ডেভেলপমেন্টের (MGIEP) সহযোগিতায় এ কর্মশালার আয়োজন করা হয়।