ঢাকা বুধবার, ১৩ মে ২০২৬, ৩০ বৈশাখ ১৪৩৩ | বেটা ভার্সন

রংপুর বিভাগে কোরবানির পশু ২০ লাখ: জমে উঠছে বেচা-কেনা

রংপুর বিভাগে কোরবানির পশু ২০ লাখ: জমে উঠছে বেচা-কেনা

রংপুর বিভাগে ঈদুল আজহা উপলক্ষে কোরবানির জন্য ২০ লাখ পশু প্রস্তুত রয়েছে। পশুর হাটগুলোতে কেনা-বেচা জমে উঠছে। এবার কোরবানির পশুর দাম কেমন হবে তা নিয়ে চলছে হিসেব-নিকেশ।

প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের তথ্য মতে— বিভাগের রংপুর জেলায় আছে ৩ লাখ ৬৬ হাজার ৫৯১টি আর চাহিদা আছে ২ লাখ ২৬ হাজার ৯৯৯টি; গাইবান্ধায় পশু আছে ১ লাখ ৭৭ হাজার ৯০০টি, চাহিদা ১ লাখ ৩৭ হাজার ৫০০টি; কুড়িগ্রামে পশু ৩ লাখ ৩৬ হাজার ৯১৯টি, চাহিদা ২ লাখ ৬১ হাজার ২৪৬টি; নীলফামারীতে পশু ২ লাখ ৮২ হাজার ৮৫০টি, চাহিদা ২ লাখ ৩২ হাজার ৬৭৬টি; লালমনিরহাটে পশু ২ লাখ ৬ হাজার ৪৬২টি, চাহিদা ১ লাখ ৫২ হাজার ৮৮৪টি; দিনাজপুরে পশু ৪ লাখ ২৬ হাজার ৫২৩টি, চাহিদা ২ লাখ ৭৩ হাজার ২৬২টি; ঠাকুরগাঁওয়ে পশু ৯৫ হাজার ৪৩৬টি, চাহিদা ৭৮ হাজার ৮৪৩টি; পঞ্চগড়ে পশু রয়েছে ১ লাখ ৩০ হাজার ৩০৩টি এবং চাহিদা রয়েছে ১ লাখ ৩ হাজার ৬৫০ পশুটি।

কোরবানির পশুর দাম কমবে না, বেশি হবে এ নিয়ে চলছে বিশ্লেষণ। এবার আগেভাগেই ইজারাদাররা হাট প্রস্তুত করে রেখেছেন। খামারি ও গৃহস্থরা আশা করছেন, গোখাদ্যের দাম যে হারে বেড়েছে তাতে এবার গত বছরের চেয়ে গরুর দাম বেশি হবে। অপরদিকে ক্রেতারা মনে করছেন, এবার উদ্বৃত্ত গরু রয়েছে তাই দাম কিছুটা কমতে পারে।

সূত্রে জানা গেছে, রংপুরের বড় বড় পশুর হাটগুলো হচ্ছে— লালবাগ, বুড়িরহাট, তারাগঞ্জ, পাগলাপীরহাট, বড়াইবাড়িহাট, চৌধুরানির হাট, নজিরেরহাট, পাওটানাহাট, কান্দিরহাট, সৈয়দপুরহাট, দেউতি, মিঠাপুকুর, বৈরাতি, জায়গিরহাট, শঠিবাড়ি, বালুয়াহাট, মাদারগঞ্জহাট, ভেন্ডাবাড়িহাট ইত্যাদি। এসব হাটে প্রচুর গরু-খাসি বিক্রি হয়ে থাকে। তবে এখন পর্যন্ত এসব হাটে কেনা-বেচা জমে উঠেনি।

ক্রেতাদের মধ্যে অনেকে আগেভাগে কিছুটা কম দামে কোরবানির গরু কিনতে চান। অপরদিকে পশু মালিকরা বেশি দাম পাওয়ার আশায় বসে রয়েছেন। তাদের মতে, ঈদের আগে আরও অনেক হাট পাওয়া যাবে। ওই সময় বেশি দামে বিক্রি করতে পারবেন। তবে বিক্রেতাদের কেউ কেউ আশঙ্কা করছেন, ঈদের আগে পশুর দাম কমে যেতে পারে। কারণ গত বছর শেষ সময়ে গরুর দাম কিছুটা কমেছিল।

জানা গেছে, কয়েক বছর আগে রংপুরে কোরবানির ঈদ উপলক্ষে অনলাইনে ১১টি পশুর হাট চালুর উদ্যোগ নিয়েছিল প্রাণিসম্পদ বিভাগ। ‘পশুরহাট’ নামে একটি অনলাইন পেজ খুলে এই হাট চালু করা হয়েছিল। কিন্তু অনলাইনে গরুর হাট খুব একটা সারা ফেলতে পারেনি।

এদিকে ছোট বড় অনেক খামার মালিক তাদের নিজেদের গরু খাসি বিক্রির উদ্দেশ্যে বিভিন্নভাবে প্রচারণা চালাচ্ছেন। এদের মধ্যে কেউ কেউ ছোট বড় পোস্টার বিভিন্ন জায়গায় লাগিয়ে দিয়েছেন। কেউ লিফলেট ছেড়েছেন, ব্যানার টাঙিয়েছেন। আবার ফেসবুকসহ বিভিন্ন সামাজিক মাধ্যমে প্রচারণাও চালাচ্ছে। কেউ আবার আগাম বুকিং ছাড়ের ঘোষণা দিয়েছেন। যেহেতু অনেক মানুষ তাদের পছন্দের গবাদি পশু কেনার জন্য এখন আর হাটে যেতে চান না কিংবা বাসায় কুরবানির পশু রাখার জায়গা নেই তাদের জন্য তারা বিভিন্নভাবে সুবিধা দেওয়ার কথা বলছেন।

বেশ কয়েকজন খামারি জানান, গরু বিক্রি করতে পারলেও ন্যায্য দাম পাবেন কিনা এ নিয়ে চিন্তিত রয়েছেন। গরুর দাম বেশি হবে না কমে যাবে তারা তা বুঝতে পারছেন না। একই অবস্থা ক্রেতাদের বেলায়। তাদের অনেকেই আগাম গরু কেনার ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিলেও, অনেকে অপেক্ষা করছেন দাম কমার।

রংপুর জেলা প্রাণী সম্পদ অফিসার ডাক্তার মো. নাজমুণ হুদা জানান রংপুর জেলায় কোরবানির পশুর চাহিদা নির্ধারণ করা হয়েছে সোয়া দুই লাখের কিছু বেশি। সেখানে প্রস্তত করা হয়েছে ৩ লাখ ৬৩ হাজারের বেশি। এই জেলায় চাহিদার চেয়ে উদ্বৃত্ত রয়েছে ১ লাখ ৪০ হাজারের বেশি পশু। একইভাবে বিভাগের অন্যান্য জেলায় চাহিদা মিটিয়ে উদ্বৃত্ত থাকবে কোরবানির পশু।

তিনি জানান রংপুর বিভাগের আট জেলায় গত বছর পশু কোরবানি হয়েছে প্রায় ১৫ লাখ পশু। এ বছর এই বিভাগে কোরবানির উপযুক্ত গরু-খসি প্রস্তুত রয়েছে আরও সাড়ে ৫ লাখের বেশি। এর মধ্যে ছাগল ও ভেড়া রয়েছে তিন লাখের ওপর। কোরবানিতে দেশি জাতের ও শংকর জাতের গরুর চাহিদা বেশি থাকায় কয়েক মাস আগে খামারিরা এ ধরনের গরু স্বাস্থ্যসম্মতভাবে মোটাতাজাকরণ শুরু করেছেন।

রংপুর বিভাগ,কোরবানির পশু,বেচা-কেনা,রংপুর
আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত