ঢাকা বুধবার, ১৩ মে ২০২৬, ৩০ বৈশাখ ১৪৩৩ | বেটা ভার্সন

সাটুরিয়ায় নিজেদের অর্থায়নে সেতু তৈরি করল গ্রামবাসী

স্বস্তিতে ১২ গ্রামের হাজারো মানুষ 
সাটুরিয়ায় নিজেদের অর্থায়নে সেতু তৈরি করল গ্রামবাসী

সাটুরিয়া উপজেলার কান্দাপাড়া গ্রামে গাজীখালী নদীর ওপর নির্মিত হয়েছে একটি সেতু, তাও আবার সরকারি সহায়তা ছাড়াই। গ্রামবাসীর নিজস্ব অর্থায়নে নির্মিত হয়েছে ৮০ ফুট দৈর্ঘ্য ও ৮ ফুট প্রস্থের এই সেতুটি। ৩৫ থেকে ৪০ লাখ টাকা ব্যয়ে এই সেতু নির্মিত হয়েছে ফলে কান্দাপাড়া, নয়াপাড়া, ভগনপুর কেষ্টি, গাঙ্গুটিয়া ও ধানকোড়াসহ প্রায় ১২টি গ্রামের ১০ হাজার মানুষের দীর্ঘদিনের কষ্টের অবসান ঘটলো।

সাটুরিয়া উপজেলার ধানকুড়া ইউনিয়নের কান্দাপাড়া গ্রামে ২০২৫ সালের মার্চে শুরু হওয়া এই সেতুর নির্মাণকাজ চলতি বছরের এপ্রিলের প্রথম সপ্তাহের দিকে শেষ হয় এবং জন সাধারণের জন্য চলাচলের উপযোগী হয়। বর্তমানে সেতুটি দিয়ে নানা ধরনের ছোট বড় যানবাহন অনায়াসে চলাচল করছে। সেতুটি নির্মাণ হওয়াতে বাজারের মতো গুরুত্বপূর্ণ ও বাণিজ্য কেন্দ্রে যাতায়াত সহজ হওয়ার পাশাপাশি স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের ঝুঁকি কমেছে ও সময় সাশ্রয় হচ্ছে।

কান্দাপাড়া গ্রামের বয়োজ্যেষ্ঠ বাসিন্দা জানু মিয়া (৮০) স্বস্তি প্রকাশ করে বলেন, এবারের বর্ষায় আল্লাহ রহমতে তাদের আর কোনো সমস্যা হবে না। আগে প্রতি বছর বর্ষার সময় নৌকায় নদী পার হতে হতো এবং বাকি সময়ে বাঁশের সাঁকো ব্যবহার করতে হতো। নৌকা ডুবে যাওয়া বা সাঁকো থেকে পড়ে আহতের ঘটনা প্রায়ই ঘটত যা এখন ইতিহাস হয়ে গেল।

স্থানীয় মধ্যবয়সী অটোচালক মো. আব্দুল করিম আক্ষেপ করে বলেন, আগে মালামাল নিয়ে নদী পার হতে পারতাম না, ভ্যান এপারে রেখে ডিঙি নৌকায় করে ওপারে যেতে হতো অথবা ৪ কিলোমিটার পথ ঘুরে আসতে হতো। এখন সরাসরি ভ্যান চালিয়ে এপার থেকে ওপারে যেতে পারছেন বলে তিনি আনন্দ প্রকাশ করেন।

প্রাথমিক বিদ্যালয় পড়ুয়া দশ বছর বয়সী ছাত্র মো. আকাশ জানায়, আগে বাঁশের সাঁকো দিয়ে পার হতে খুব ভয় লাগত কিন্তু এখন সে নিরাপদে হেঁটে তার স্কুলে যেতে পারছে।

সেতুটি নির্মাণের প্রেক্ষাপট তুলে ধরেন স্থানীয় বাসিন্দা নুরুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘সরকারি দপ্তরে বহুবার আবেদন করেও সেতু না হওয়ায় তারা নিজেরা উদ্যোগী হন। সামর্থ্য অনুযায়ী কেউ ৫ হাজার আবার কেউ ৩ হাজার টাকা দিয়ে এই তহবিল গঠন করেন। সেতুটির পিলার ও ভিম ঢালাইয়ের কাজ গ্রামবাসীর টাকায় সম্পন্ন হলেও ওপরের স্টিলের পাটাতনের খরচ বহন করেছেন বর্তমান স্থানীয় সংসদ সদস্য ও বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী আফরোজা খানম রিতা।’

সেতু বাস্তবায়ন কমিটির অন্যতম সদস্য মো. শরিফুল ইসলাম জানান, ২০২৫ সালের রোজার ঈদের সময় গ্রামবাসী বৈঠক করে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। বর্তমানে সেতুর পাটাতন ৬ ফুট করা হলেও তা ৮ ফুটে উন্নীত করার কাজ দ্রুতই শুরু করা হবে এবং এতে আরও কয়েক লাখ টাকা ব্যয় হতে পারে বলে তার ধারণা।

এই সেতুর নির্মাণের ফলে এখন অসুস্থ রোগীকে দ্রুত সময়ে মধ্যে হাসপাতালে নিতে বা বাজার থেকে পণ্য পরিবহনে অতিরিক্ত ভাড়া ও দীর্ঘ পথের ভোগান্তি থেকে মুক্তি পেলেন এই ১২ গ্রামের প্রায় ১০ হাজার মানুষ।

সাটুরিয়া,নিজেদের অর্থায়ন,সেতু তৈরি
আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত