ঢাকা বুধবার, ১৩ মে ২০২৬, ৩০ বৈশাখ ১৪৩৩ | বেটা ভার্সন

রেললাইন সম্প্রসারণে বদলে যেতে পারে দুর্গাপুরের অর্থনীতি

রেললাইন সম্প্রসারণে বদলে যেতে পারে দুর্গাপুরের অর্থনীতি

নেত্রকোণা জেলার দুর্গাপুর উপজেলায় জারিয়া-ঝাঞ্জাইল থেকে দুর্গাপুর বিজয়পুর পর্যন্ত রেললাইন চালু হলে এ অঞ্চলের অর্থনীতি, যোগাযোগ ব্যবস্থা ও শিল্পখাতে আমূল পরিবর্তন আসবে বলে আশা করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। দীর্ঘদিনের প্রত্যাশিত ওই রেলসংযোগ বাস্তবায়িত হলে দুর্গাপুর উত্তরাঞ্চলের একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক করিডোরে রূপ নিতে পারে বলে মনে করছেন সচেতন মহল।

নেত্রকোণা-১ আসনের সংসদ সদস্য ও জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল জনমানুষের প্রত্যাশার কথা বিবেচনা করে দুর্গাপুর পর্যন্ত রেললাইন সম্প্রসারণের উদ্যোগ গ্রহণ করায় উপজেলার তৃণমূল মানুষের মাঝে আনন্দের উচ্ছ্বাস দেখা গেছে।

বর্তমানে দুর্গাপুরের সঙ্গে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থা তুলনামূলক দুর্বল হওয়ায় ব্যবসা-বাণিজ্য, শিল্পায়ন ও পর্যটন খাত কাঙ্ক্ষিত গতিতে এগোতে পারছে না। রেললাইন চালু হলে এই সীমাবদ্ধতা অনেকাংশে দূর হবে এবং সৃষ্টি হবে নতুন সম্ভাবনার দ্বার।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, রেল সংযোগ চালু হলে দুর্গাপুরের বিল এলাকায় উৎপাদিত মিষ্টি কুমড়া, করলা, মরিচ, মিষ্টি আলু, আলু, সরিষা, পেঁয়াজ, রসুন, চিনাবাদাম, ডিম, ভুট্টা ও হস্তশিল্পজাত পণ্য সহজে এবং স্বল্প খরচে ঢাকা ও দেশের অন্যান্য অঞ্চলে পরিবহন করা সম্ভব হবে। এতে স্থানীয় কৃষক ও ব্যবসায়ীরা ন্যায্যমূল্য পাবেন এবং বাজার সম্প্রসারণের সুযোগ সৃষ্টি হবে।

প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ঘেরা দুর্গাপুরের পাহাড়, নদী, টিলা ও পর্যটন কেন্দ্রগুলোতে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে পর্যটকদের আগমন বাড়বে। রেল যোগাযোগ সহজ হলে পর্যটননির্ভর হোটেল, মোটেল, অবকাশকেন্দ্র, পরিবহন ও ক্ষুদ্র ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান গড়ে উঠবে, যা স্থানীয় অর্থনীতিকে আরও গতিশীল করবে।

যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতির ফলে দুর্গাপুরে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পকারখানা স্থাপনের সম্ভাবনা তৈরি হবে। বিশেষ করে কৃষিভিত্তিক শিল্প, খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্প ও হস্তশিল্প খাত নতুন বিনিয়োগ আকর্ষণ করতে পারে। এর মাধ্যমে স্থানীয় তরুণদের জন্য কর্মসংস্থানের নতুন ক্ষেত্র সৃষ্টি হবে।

দুর্গম ও নদীবেষ্টিত এলাকার কারণে বর্তমানে পণ্য পরিবহনে অতিরিক্ত সময় ও ব্যয় হয়। রেলপথ চালু হলে পরিবহন খরচ কমবে এবং ব্যবসায়ীরা প্রতিযোগিতামূলক বাজারে আরও এগিয়ে যেতে পারবেন।

স্থানীয়দের মতে, জারিয়া-ঝাঞ্জাইল থেকে দুর্গাপুর পর্যন্ত রেললাইন বাস্তবায়ন শুধু একটি যোগাযোগ প্রকল্প নয়; এটি পুরো নেত্রকোণা অঞ্চলের অর্থনৈতিক উন্নয়ন, শিক্ষা বিস্তার, পর্যটন বিকাশ এবং শিল্পায়নের জন্য একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ হতে পারে। তাই দ্রুত এই প্রকল্প বাস্তবায়নের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) উপজেলা সভাপতি অজয় সাহা বলেন, দুর্গাপুরে রেললাইন সম্প্রসারণ নিয়ে আমরা বিভিন্ন সময়ে নানা পদক্ষেপ গ্রহণ করেছি, কিন্তু আলোর মুখ দেখেনি। বর্তমান ডেপুটি স্পিকার আমাদের অর্থনৈতিক মুক্তির কথা চিন্তা করে যে উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন, এজন্য আমরা অত্যন্ত আনন্দিত। এটি নিয়ে তিনটি উপজেলার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় মানববন্ধন ও কর্মশালার আয়োজন করা হয়েছে। হাজার হাজার মানুষের অংশগ্রহণ ছিল ওইসব কর্মসূচিতে।

প্রবীণ হাজং নেতা মতিলাল হাজং জানান, আমার বাড়ি বিজয়পুর। আমি অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক। জীবনের শেষ সময়ে এসে দুর্গাপুরে রেললাইন সম্প্রসারণ হবে—এ খবর শুনে আমি অত্যন্ত খুশি হয়েছি। কারণ, এ খুশির খবরের সঙ্গে আমার ও এ এলাকার হাজারো মানুষের প্রত্যাশা জড়িয়ে রয়েছে। ট্রেনলাইন সম্প্রসারণের কাজটি দেখে যেতে পারলে আমি শান্তি পাব।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আহমেদ সাদাত জানান, দুর্গাপুর উপজেলায় আমার যোগদানের তিন দিন হয়েছে। এর মধ্যেই সুসংবাদ পেলাম দুর্গাপুর সীমান্তবর্তী উপজেলায় রেললাইন সম্প্রসারণ হবে। এটি একটি ইতিবাচক দিক। রেললাইন চালু হলে দুর্গাপুর উপজেলা একটি নতুন অর্থনৈতিক অঞ্চল হিসেবে গড়ে উঠবে। এখানকার মানুষের প্রত্যাশা পূরণ হবে।

দুর্গাপুরের অর্থনীতি,রেললাইন সম্প্রসারণ
আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত