
পাবনার ঈশ্বরদীতে ব্যতিক্রমী কৃষক সমাবেশে অতিথিদের গামছা ও মাথাল দিয়ে বরণ করে নেওয়া হয়। এরপর কৃষকদের কৃষি, সেচ ব্যবস্থা ও সার্বিক উন্নয়নে বিভিন্ন সমস্যা এবং উন্নয়ন পরিকল্পনা নিয়ে কৃষক সমাবেশ ও মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সোমবার (১১ মে) দুপুরে উপজেলার মুলাডুলি ইউনিয়নের জোয়াদ্দার মৎস্য খামারে আয়োজিত কৃষক সমাবেশ ও মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন পাবনা জেলা প্রশাসক মো. আমিনুল ইসলাম।
বাংলাদেশ কৃষক উন্নয়ন সোসাইটির আয়োজনে জোয়াদ্দার মৎস্য খামারের স্বত্বাধিকারী আবু তালেব জোয়াদ্দারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, খামারবাড়ি পাবনার উপ-পরিচালক মো. জাহাঙ্গীর আলম প্রামাণিক, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হাসান মোহাম্মাদ শোয়াইব, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার প্রণব কুমার রায়, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আসাদুজ্জামান সরকার, ঈশ্বরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আসাদুর রহমান, শিল্পপতি খাইরুল ইসলাম, উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মোছা. আকলিমা খাতুন, উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা শাম্মি শিরিন, উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা কৃষিবিদ প্রহল্লাদ কুমার কুন্ডু, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা শিহাব উদ্দিন এবং ঈশ্বরদী পৌরসভার সচিব জহুরুল ইসলাম।
আব্দুল জলিল লিচু কিতাবের সঞ্চালনায় আরও বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ কৃষক উন্নয়ন সোসাইটির কেন্দ্রীয় সভাপতি ও জাতীয় পদকপ্রাপ্ত কৃষক সিদ্দিকুর রহমান কুল ময়েজ, হাফিজুর রহমান মুকুল, রাসেল আহমেদ, রবিউল ইসলাম স্ট্রবেরি রবি, কৃষাণী বেলি বেগম, সাইদুল ইসলাম কপি বাবু, সেলিম হোসেন ও শাহিনুর রহমান শাহিন প্রমুখ।
বক্তারা বলেন, রোদ-বৃষ্টিতে ভিজে কৃষক ফসল ফলান বলেই আমরা খেয়ে বেঁচে আছি। এ দেশের প্রতিটি মানুষের জীবন অন্নের ওপর দাঁড়িয়ে, আর সেই অন্নের যোগান দিচ্ছেন কৃষক সমাজ। যদি বাংলাদেশ রাষ্ট্রের প্রাণ জনগণ হয়, তাহলে কৃষকরাই সেই প্রাণের স্পন্দন। একজন কৃষক শুধু ফসল ফলান না, তিনি স্বপ্ন ফলান। তিনি শুধু জমিতে বীজ বপন করেন না, একটি জাতির ভবিষ্যৎ গঠন করেন।
তারা আরও বলেন, রোদের আগুনে পুড়ে, বৃষ্টি-কাদায় ভিজে, ঝড়ের রাতে বুক কাঁপিয়ে যে মানুষটি মাঠে দাঁড়িয়ে থাকে, সেই মানুষটিই বাংলার নীরব সৈনিক। কৃষকরা দেশের খাদ্য নিরাপত্তার প্রহরী। কৃষকদের কখনও নিজেদের ছোট ভাবা উচিত নয়। পৃথিবীর সবচেয়ে সম্মানিত পেশাগুলোর একটি হচ্ছে কৃষিকাজ।
বক্তারা বলেন, দেশের কৃষকদের ফসলের কোনো বীমা নেই। কৃষকদের সম্মানী ভাতা ও ঝুঁকি ভাতা দিতে হবে। মাঠে কাজ করতে গিয়ে বজ্রপাতে কোনো কৃষকের মৃত্যু হলে তার পরিবারকে সহায়তা দিতে হবে। কৃষকদের বিনা সুদে ঋণ দেওয়ারও দাবি জানান তারা।
তারা আরও বলেন, কৃষিকাজে ব্যবহৃত রাসায়নিক সার ও কীটনাশকে ভেজাল এবং নকল পণ্য বাজারে সরবরাহ করা হচ্ছে। এসব বন্ধে প্রশাসনকে মাঠে সক্রিয়ভাবে কাজ করতে হবে। পাশাপাশি ঈশ্বরদীতে একটি কৃষি হিমাগার নির্মাণের দাবি জানান বক্তারা।