ঢাকা শনিবার, ১৬ মে ২০২৬, ২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ | বেটা ভার্সন

তিস্তার ভাঙনে ঝুঁকিতে স্বেচ্ছাশ্রমে নির্মিত বাঁধ

তিস্তার ভাঙনে ঝুঁকিতে স্বেচ্ছাশ্রমে নির্মিত বাঁধ

তিস্তার ভয়াবহ ভাঙনের সঙ্গে লড়াই যেন রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলার চরাঞ্চলের মানুষের প্রতিদিনের বাস্তবতা হয়ে দাঁড়িয়েছে। বছরের পর বছর ঘরবাড়ি হারিয়ে টিকে থাকার সংগ্রামে থাকা মানুষগুলো এবার নিজেদের অস্তিত্ব রক্ষায় নিজেরাই বাঁধ নির্মাণ করেছিল।

কিন্তু বর্ষা মৌসুম শুরুর আগেই সেই বাঁধে ভাঙন দেখা দেওয়ায় নতুন করে আতঙ্কে পড়েছেন পাঁচটি চর গ্রামের অন্তত ১২ হাজার পরিবার। রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলার চর নোহালী ও বাগডোহরা এলাকায় স্বেচ্ছাশ্রমে নির্মিত দুটি বাঁধ এখন স্থানীয়দের একমাত্র ভরসা।

কয়েক বছর ধরে চাঁদা তুলে এবং দিনরাত শ্রম দিয়ে স্থানীয়রাই এই বাঁধ নির্মাণ করেন। তবে চলতি বছরের ভারী বর্ষণে বাঁধের বিভিন্ন অংশে ধস ও ভাঙন শুরু হয়েছে। এতে আসন্ন বন্যা মৌসুমে পুরো এলাকা নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

তিন বছর আগে বন্যায় নদীর গতিপথ পরিবর্তন হলে তিস্তার পানি লোকালয়ে প্রবেশ করে। ওই সময় বাগডোহরা চরের নিচাপাড়া এলাকার তিন শতাধিক পরিবারের ঘরবাড়ি বিলীন হয়ে যায়। বিষয়টি নিয়ে এলাকাবাসী বারবার পানি উন্নয়ন বোর্ডের দ্বারস্থ হলেও কোনো কার্যকর ব্যবস্থা হয়নি। শেষ পর্যন্ত নিজেদের উদ্যোগেই কয়েকটি চর গ্রামের মানুষ চাঁদা তুলে বাঁধ নির্মাণ করেন।

স্থানীয়দের উদ্যোগে লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ উপজেলার বৈরাতি থেকে বাগডোহরা মিনার বাজার পর্যন্ত প্রায় পাঁচ কিলোমিটার দীর্ঘ একটি বাঁধ নির্মাণ করা হয়। পাশাপাশি চর নোহালী এলাকায় ব্রিফ বাজার থেকে কাচারিপাড়া পর্যন্ত আরও প্রায় দুই কিলোমিটার দীর্ঘ আরেকটি বাঁধ তৈরি করা হয়।

স্থানীয়রা জানান, গত বছরের বন্যা ও ভাঙনে বাগডোহরা এলাকায় দুই শতাধিক একর আবাদি জমি নদীগর্ভে বিলীন হলেও এই বাঁধের কারণে ঘরবাড়ি রক্ষা পেয়েছিল। তবে চলতি বছর বন্যার আগেই বাঁধের বিভিন্ন অংশে ভাঙন দেখা দিয়েছে। তাদের আশঙ্কা, এখনই ব্যবস্থা না নিলে আসন্ন বন্যায় গঙ্গাচড়ার নোহালী ইউনিয়নের চর নোহালী, বাগডোহরা এবং ভাটির কোলকোন্দ ইউনিয়নের চিলাখাল, মটুকপুর ও বিনবিনা এলাকার অন্তত ১২ হাজার পরিবারের ঘরবাড়িসহ কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নদীগর্ভে হারিয়ে যেতে পারে।

স্থানীয় বাসিন্দা আমজাদ আলী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, তার জন্ম বাগডোহরা এলাকায়। তিস্তার ভাঙনে এ পর্যন্ত বহুবার বাড়িঘর হারাতে হয়েছে। বর্তমানে বাঁচা-মরা নির্ভর করছে এই বাঁধ রক্ষার ওপর।

ওই এলাকার বাসিন্দা ও নোহালী ইউনিয়নের ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি মশিয়ার রহমান বলেন, এই বাঁধ রক্ষা না করতে পারলে বাগডোহরা চর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ বিস্তীর্ণ এলাকা বিলীন হয়ে যাবে। তিনি জানান, এ বিষয়ে সহযোগিতার জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরে লিখিত আবেদন করা হয়েছে।

অন্যদিকে, গত বছর নির্মিত দুই কিলোমিটার বাঁধের প্রায় ২০০ ফুট অংশ ইতোমধ্যে নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে।

এ বিষয়ে রংপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রবিউল ইসলাম বলেন, স্বেচ্ছাশ্রমে নির্মিত বাঁধে সরাসরি সরকারি হস্তক্ষেপের সুযোগ সীমিত। তবে আবেদন অনুযায়ী কিছু বালুভর্তি বস্তা সরবরাহ করা হয়েছে এবং প্রয়োজনে আরও সহায়তা দেওয়া হবে।

স্বেচ্ছাশ্রমে নির্মিত বাঁধ,তিস্তার ভাঙন
আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত