ঢাকা সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬, ২৯ আষাঢ় ১৪৩৩ | বেটা ভার্সন

দুর্গাপুরে সোমেশ্বরী নদীর বাঁধে ভাঙন, ঝুঁকিতে ২৫ হাজার মানুষ

দুর্গাপুরে সোমেশ্বরী নদীর বাঁধে ভাঙন, ঝুঁকিতে ২৫ হাজার মানুষ

নেত্রকোণার দুর্গাপুর উপজেলায় টানা বৃষ্টিপাত ও জলাবদ্ধতার মধ্যে সোমেশ্বরী নদীর বেড়িবাঁধে ভাঙন দেখা দেওয়ায় আশপাশের কয়েকটি গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যে উদ্বেগ ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। বিরিশিরি ইউনিয়নের খালিশাপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সংলগ্ন এলাকায় এ ভাঙনের ঘটনা ঘটেছে।

সোমবার (১৩ জুলাই) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে সরেজমিনে গিয়ে এমন পরিস্থিতি দেখা যায়।

স্থানীয়দের আশঙ্কা, নদীর পানি আরও বৃদ্ধি পেলে খালিশাপাড়া, পিপুলনারী, ছামারদ্বানী, বারইকান্দি, শিরবির, গুজিরকোণা ও কুমুদগঞ্জসহ আশপাশের কয়েকটি গ্রাম প্লাবিত হতে পারে। এতে প্রায় ২০ থেকে ২৫ হাজার মানুষ পানিবন্দী হওয়ার পাশাপাশি শত শত হেক্টর সবজি ক্ষেত, বীজতলা, অসংখ্য বসতঘর, গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা এবং গৃহপালিত পশুপাখির ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির শঙ্কা তৈরি হয়েছে।

এলাকাবাসী জানান, ২০২২ সালের ভয়াবহ বন্যার সময় খালিশাপাড়ায় আব্দুল লতিফের বাড়ির পাশের এলাকায় একই বাঁধ ভেঙে গিয়েছিল। সে সময় এলাকাবাসীকে ব্যাপক দুর্ভোগ ও ক্ষয়ক্ষতির সম্মুখীন হতে হয়। পরে ক্ষতিগ্রস্ত স্থানটি স্থায়ীভাবে সংস্কারের পরিবর্তে নদীর বালি দিয়ে ভরাট করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।

এছাড়া ভাঙনের ফলে সৃষ্ট গর্ত ও দুর্বল অংশগুলো দীর্ঘদিন ধরে যথাযথভাবে মেরামত না করায় বর্তমানে একই এলাকায় আবারও ভাঙন দেখা দিয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দা আশফিক রাসেল অভিযোগ করে বলেন, বরাদ্দকৃত অর্থের যথাযথ ব্যবহার না হওয়া এবং সংস্কার কাজে অনিয়মের কারণেই বারবার বাঁধ ভেঙে যাচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে একই সমস্যা চললেও টেকসই সমাধানে কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।

তিনি আরও বলেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর কয়েক দফা সংস্কারকাজ পরিচালিত হলেও কাজের মান নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। গুণগত মান নিশ্চিত না করে ব্যক্তিস্বার্থকে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

এছাড়া বাঁধ নির্মাণের সময় ভারী যন্ত্র ব্যবহার করে গোড়া থেকে অতিরিক্ত মাটি কাটার কারণেও বাঁধ দুর্বল হয়ে পড়েছে বলে দাবি করেন।

সম্ভাব্য বড় ধরনের দুর্যোগ এড়াতে সোমেশ্বরী নদীর ঝুঁকিপূর্ণ অংশে দ্রুত টেকসই ও মানসম্মত বেড়িবাঁধ নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

বিরিশিরি ইউনিয়নের প্রশাসক ডা. অমিত দত্ত বলেন, “বেড়িবাঁধ ভাঙনের খবর পেয়েছি। ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যাব এবং বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আহমেদ সাদাত বলেন, “ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।”

নেত্রকোণা জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী উসমান ফারুক বলেন, “সোমেশ্বরী নদীর বেড়িবাঁধে ভাঙনের ঘটনাটি দুঃখজনক। দ্রুত সংস্কার ও মেরামতের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

এদিকে স্থানীয়রা জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল এমপির জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তাদের মতে, দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হলে হাজারো মানুষের জীবন, জীবিকা ও সম্পদ রক্ষা করা সম্ভব হবে।

২৫ হাজার মানুষ,ঝুঁকিতে,বাঁধে ভাঙন,সোমেশ্বরী নদী,দুর্গাপুর
আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত