
মুন্সীগঞ্জের টঙ্গীবাড়ী উপজেলায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠন যুবলীগের সম্ভাব্য কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে গুঞ্জন ও বহুমুখী সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। কার্যক্রম নিষিদ্ধ সংগঠনটির খোদ নেতাকর্মীরাই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছেন।
এরই মধ্যে নতুন কমিটির একটি পত্র গণমাধ্যমের হাতে এসেছে।
৭ সদস্যের ওই কমিটিতে সভাপতি পদে আল-আমিন মোল্লা এবং সাধারণ সম্পাদক পদে পলাশ কান্তি রায়কে পদায়ন করা হয়েছে। তারা দুজনই পূর্বে উপজেলা ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন। এছাড়াও সহ-সভাপতি, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও সাংগঠনিক সম্পাদক পদে রয়েছেন আরও পাঁচজন।
এদিকে সম্ভাব্য সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদে নাম আসা দুই ব্যক্তির সাম্প্রতিক বিভিন্ন কর্মকাণ্ড ও ব্যক্তিগত বিতর্ক নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। স্থানীয় একাধিক সূত্রে জানা যায়, সম্ভাব্য সভাপতি হিসেবে আলোচনায় থাকা আল-আমিন মোল্লার বিরুদ্ধে একটি মানি লন্ডারিং (বৈদেশিক অর্থ পাচার) মামলা বিচারাধীন রয়েছে। মামলাটিতে তিনি কয়েকবার হাজতবাস করেছেন এবং সম্প্রতি জামিনে মুক্তি পেয়েছেন। বিচারাধীন হওয়ায় এ বিষয়ে আদালতের চূড়ান্ত রায় হয়নি।
শুধু মানি লন্ডারিংয়ের মামলাই নয়, কামারখাড়া এলাকার বাসিন্দা আল-আমিন মোল্লার চাচা মামুন মোল্লা বর্তমানে টঙ্গীবাড়ী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক। তার আরেক চাচা জাহাঙ্গীর মোল্লাও কামারখাড়া ইউনিয়ন বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত।
অন্যদিকে, সম্ভাব্য সাধারণ সম্পাদক হিসেবে আলোচনায় থাকা পলাশ কান্তি রায়কে ঘিরেও নানা আলোচনা রয়েছে। একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে, উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক এই নেতা দীর্ঘ সাত মাস একটি মাদক নিরাময় কেন্দ্রে (রিহ্যাব) চিকিৎসা নিয়ে সম্প্রতি ফিরেছেন। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলেও মাদক সেবন ও বিক্রির অভিযোগে তিনি পুলিশের হাতে আটক হয়েছিলেন। তবে সে সময় উপজেলা আওয়ামী লীগের এক নেতা ও জনপ্রতিনিধির মাধ্যমে গ্রেফতার এড়ান বলে অভিযোগ রয়েছে।
কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকলেও সংগঠনের শীর্ষ নেতৃত্বে তাদের নাম দেখে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অনেকেই। প্রতিক্রিয়ার বহিঃপ্রকাশ হিসেবে উপজেলা যুবলীগের ‘আত্মার মাগফিরাত’ কামনা করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্টও করেছেন কেউ কেউ।
এদিকে যুবলীগের কার্যক্রমের সঙ্গে জড়িত একাধিক নেতা জানান, বর্তমানে হামলা-মামলার মুখে সংগঠনের নেতাকর্মীরা যে যেভাবে পারছেন, কোনোমতে টিকে আছেন। অন্যান্য উপজেলার আগে টঙ্গীবাড়ীতে কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে বিপরীত প্রতিক্রিয়া তৈরি হতে পারে।
উপজেলা ছাত্রলীগের এক সাবেক নেতা জানান, থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক কিংবা উপজেলার যুবলীগের নেতৃবৃন্দ, এমনকি ইউনিয়ন পর্যায়ের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকদের কারও মতামত নেওয়া হয়নি এই প্রস্তাবিত কমিটি গঠনের ক্ষেত্রে। তিনি আরও বলেন, ৫ আগস্টের পর উপজেলার এমন কোনো নেতাকর্মী নেই, যাদের নামে রাজনৈতিক হামলা-মামলা হয়নি। শুধুমাত্র আল-আমিন মোল্লা ও পলাশ কান্তি রায় এর ব্যতিক্রম।
তিনি অভিযোগ করেন, বিতর্কিত ব্যক্তিদের সংগঠন পরিচালনার দায়িত্ব দিলে সংগঠনের কার্যক্রম ব্যাহত হবে।
যুবলীগের সঙ্গে জড়িত অন্তত তিনজন স্থানীয় নেতা দাবি করেন, সম্ভাব্য কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে আর্থিক লেনদেনের চেষ্টাও হতে পারে।
কমিটি ঘোষণাকারী জেলা কমিটি নিয়েও বিতর্ক
উপজেলা কমিটির অনুমোদন দিয়েছেন জেলা যুবলীগের সভাপতি আক্তারুজ্জামান রাজীব ও সাধারণ সম্পাদক ফেরদৌস আলম খান।
এর মধ্যে আক্তারুজ্জামান রাজীবকে পূর্বে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছিল। তবে ৫ আগস্টের পর সারাদেশে বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করা হলে তিনি পুনরায় পদে ফেরেন। অন্যদিকে জেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক ফেরদৌস আলম খান ২০২৩ সালের ৭ ফেব্রুয়ারি স্বেচ্ছায় সংগঠন থেকে পদত্যাগ করেছিলেন।
স্বেচ্ছায় পদত্যাগকারী একজন নেতার মাধ্যমে কীভাবে উপজেলা কমিটি গঠন হতে পারে, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন সংগঠন সংশ্লিষ্টরা।
এ বিষয়ে আল-আমিন মোল্লা, পলাশ কান্তি রায় ও জেলা যুবলীগের সভাপতি আক্তারুজ্জামান রাজীবের সঙ্গে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
জেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক ফেরদৌস আলম খান বলেন, “বিষয়টি আমি জানি না। আপনি কেন্দ্রীয় কমিটির সঙ্গে যোগাযোগ করেন।”
এ বিষয়ে মুন্সীগঞ্জ জেলা যুবলীগের সাংগঠনিক দায়িত্বপ্রাপ্ত কেন্দ্রীয় সহ-সম্পাদক আব্দুর রহমান জীবনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, “পূর্বে ছাত্রলীগের রাজনীতি করেছে এমন নেতাদের নিয়েই কমিটি অনুমোদন হচ্ছে।”