ঢাকা রোববার, ২৬ জুলাই ২০২৬, ১১ শ্রাবণ ১৪৩৩ | বেটা ভার্সন

নোয়াখালীতে চাষাবাদে বাধার অভিযোগ, ট্রাক্টর ভাঙচুরের প্রতিবাদে বিক্ষোভ

নোয়াখালীতে চাষাবাদে বাধার অভিযোগ, ট্রাক্টর ভাঙচুরের প্রতিবাদে বিক্ষোভ

নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলার তমরদ্দি ইউনিয়নের চরআতাউর এলাকার প্রায় এক হাজার একর জমি কয়েক বছর ধরে চাষাবাদ করে জীবিকা নির্বাহ করে আসছেন শত শত ভূমিহীন কৃষক। সম্প্রতি চরআতাউর এলাকায় জমির দখলকে কেন্দ্র করে মহিষ মালিক ও ভূমিহীন কৃষকদের মধ্যে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে।

ভূমিহীন কৃষকদের অভিযোগ, তাদের চাষাবাদের জমিতে জোরপূর্বক মহিষ ছেড়ে দিয়ে ফসল নষ্ট করা হচ্ছে এবং ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে চাষাবাদে বাধা দেওয়া হচ্ছে। ফলে এলাকায় যেকোনো সময় রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

ভুক্তভোগীদের দাবি, চরআতাউর মৌজার প্রায় এক হাজার একর জমিতে প্রায় ৪০০ থেকে ৫০০ ভূমিহীন পরিবার চাষাবাদ করে জীবিকা নির্বাহ করে আসছে। কিন্তু বাহার, রাশেদ, হাছান ও সোলাইমানসহ কয়েকজন মহিষ মালিকের বিরুদ্ধে জোরপূর্বক মহিষ ছেড়ে দিয়ে ফসলের ক্ষতি করা, কৃষকদের হুমকি দেওয়া এবং ধারালো অস্ত্র নিয়ে মহড়া দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

ভূমিহীন কৃষক মো. মোস্তফা বলেন, একটি প্রভাবশালী রাজনৈতিক গোষ্ঠীর ছত্রচ্ছায়ায় থাকা ভূমিদস্যুদের কারণে তারা চরম নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছেন। তিনি অভিযোগ করেন, প্রায় ৪০০ থেকে ৫০০ ভূমিহীন পরিবার স্বাভাবিকভাবে চাষাবাদ করতে পারছে না এবং তাদের উচ্ছেদের চেষ্টা চলছে। তাদের ট্রাক্টর ভেঙে ফেলা হয়েছে। এসব ট্রাক্টর কেনার জন্য নেওয়া ব্যাংক ঋণ কীভাবে পরিশোধ করা হবে, তা নিয়ে তারা অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছেন।

আরেক কৃষক জামাল উদ্দিন জেলা প্রশাসকের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করে বলেন, নিরাপদ পরিবেশে চাষাবাদ নিশ্চিত করা এবং কৃষকদের জীবন-জীবিকা রক্ষায় দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।

এছাড়াও কৃষকদের ভাষ্যমতে, গত ২১ জুলাই প্রশাসনের উপস্থিতিতে চাষাবাদের জন্য নেওয়া কৃষকদের চারটি ট্রাক্টর ভেঙে ফেলে মহিষ মালিক ও তাদের রাখালরা। মহিষ মালিকদের কর্মকাণ্ড এবং প্রশাসনের বিতর্কিত ভূমিকায় নথিভুক্ত ভূমিহীন কৃষকরা তাদের আংশিক চাষকৃত জমি নিয়ে চরম নিরাপত্তাহীনতা ও উৎকণ্ঠায় ভুগছেন।

এ বিষয়ে হাতিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কবির হোসেন জানান, চরআতাউরে আশ্রয়ণ প্রকল্পের বাইরে যাদের নামে নথি রয়েছে, তাদের বাইরে কেউ ভূমি দখলের চেষ্টা করলে এবং এর সঙ্গে জড়িত প্রভাবশালীদের বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে প্রতিবেদন পাঠানো হয়েছে।

হাতিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইকবাল রাসেল বলেন, বিষয়টি নিয়ে প্রশাসন কাজ করছে। জেলা প্রশাসক সফিকুল ইসলাম স্যারের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে। এছাড়া বর্তমানে উপজেলা ভূমি কর্মকর্তা না থাকায় সার্ভেয়ারকে নিয়ে এ-সংক্রান্ত বৈঠক করা হয়েছে। বর্তমানে দুই পক্ষ মুখোমুখি অবস্থানে থাকায় পরিস্থিতি অত্যন্ত স্পর্শকাতর এবং যেকোনো সময় সংঘর্ষের আশঙ্কা রয়েছে। প্রশাসন পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে এবং শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।

এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক সফিকুল ইসলামের কার্যালয়ে দুই দিন গিয়ে তাঁর বক্তব্য জানতে চাওয়া হলে তিনি ক্যামেরার সামনে কথা বলতে রাজি হননি। তবে স্থানীয় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করে বিষয়টি সম্পর্কে জানার পরামর্শ দেন। পরে তিনি ইউএনওর সঙ্গে যোগাযোগ করার কথাও বলেন।

ইউএনও ইকবাল রাসেল আরও জানান, শুধু অভিযোগ করলেই হবে না, যার যার নামে নথি রয়েছে তাদের নথিপত্র নিয়ে প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করতে হবে। বর্তমানে ২৭৩ জনের নামে বৈধ নথি রয়েছে। অন্যরা অবৈধভাবে জমি দখল করলে প্রশাসন তার দায় নিতে পারে না। সরকারের নীতিমালা অনুযায়ী পরবর্তী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে।

প্রতিবাদে বিক্ষোভ,ট্রাক্টর ভাঙচুর,বাধার অভিযোগ,নোয়াখালী
আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত