
ফরিদপুর পৌর এলাকার নির্ধারিত রিকশা স্ট্যান্ডগুলোর অধিকাংশই দখলে চলে যাওয়ায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন ব্যাটারিচালিত রিকশা-ভ্যান চালকরা। নির্ধারিত স্ট্যান্ড ব্যবহার করতে না পেরে বাধ্য হয়ে সড়কের ওপর যানবাহন দাঁড় করাতে হচ্ছে। এতে একদিকে যেমন শহরে যানজট বাড়ছে, অন্যদিকে ট্রাফিক পুলিশের মামলা ও জরিমানার মুখেও পড়তে হচ্ছে চালকদের।
এ পরিস্থিতিতে দখলমুক্ত স্ট্যান্ড উদ্ধার, নতুন স্ট্যান্ড নির্ধারণ এবং দীর্ঘদিনের অচল তালিকা হালনাগাদের দাবিতে বুধবার জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি দিয়েছেন শ্রমিকরা।
বুধবার (২৯ জুলাই) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ফরিদপুর জেলা ব্যাটারিচালিত রিকশা-ভ্যান শ্রমিক ইউনিয়নের উদ্যোগে আলিপুর মোড় থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের হয়। মিছিলটি শহরের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে প্রধান পোস্ট অফিসের সামনে গিয়ে সমাবেশে মিলিত হয়।
সংগঠনের সভাপতি মো. সিদ্দিকুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে বক্তব্য দেন মো. সোহাগ, নুরুদ্দিন খান, আক্কাছ জমাদার, মো. রতন, মো. মুননুনসহ সংগঠনের নেতারা।
বক্তারা বলেন, পৌরসভার বিভিন্ন এলাকায় রিকশাচালকদের জন্য নির্ধারিত স্ট্যান্ড থাকলেও সেগুলোর বড় অংশ বর্তমানে বিভিন্ন ব্যবসায়ী ও প্রভাবশালীদের দখলে রয়েছে। বিশেষ করে শ্যামলী পৌর মার্কেটের সামনে, তিতুমীর বাজার ১ নম্বর গেট, থানার মোড় এবং হাজী শরীয়তউল্লাহ বাজার এলাকার স্ট্যান্ডগুলো দ্রুত দখলমুক্ত করার দাবি জানান তারা।
সমাবেশ শেষে শ্রমিকরা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে গিয়ে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. সোহরাব হোসেনের কাছে স্মারকলিপি দেন। তিনি বিষয়টি দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন।
এদিকে ফরিদপুর পৌরসভার লাইসেন্স পরিদর্শক রাশেদ বিন আহম্মেদ জানান, পৌরসভার ২০০৭ সালের নথি অনুযায়ী শহরে মোট ৩৪টি রিকশা স্ট্যান্ড রয়েছে এবং প্রতিটি স্ট্যান্ডে কতটি রিকশা দাঁড়াতে পারবে তা উল্লেখ করে সাইনবোর্ডও স্থাপন করা হয়েছিল। তবে ২০০৭ সালের পর স্ট্যান্ডের সংখ্যা বা অবস্থান নিয়ে আর কোনো হালনাগাদ করা হয়নি।
শ্রমিক নেতাদের অভিযোগ, গত ১৮ বছরে শহরের পরিধি ও ব্যাটারিচালিত রিকশার সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। কিন্তু নতুন কোনো স্ট্যান্ড নির্ধারণ করা হয়নি। একই সঙ্গে পুরোনো অনেক স্ট্যান্ড চটপটি, ফুচকা, চা ও কাপড়ের দোকানসহ বিভিন্ন স্থাপনার দখলে চলে গেছে।
স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়, একই দাবিতে চলতি বছরের ২৬ এপ্রিল পৌরসভায় আবেদন করা হয়েছিল। পরে কয়েকটি স্থানে সাইনবোর্ড পুনঃস্থাপন করা হলেও দখলমুক্ত করার কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।
সংগঠনের সভাপতি মো. সিদ্দিকুর রহমান বলেন, “আমরা রাস্তায় রিকশা রাখতে গিয়ে ট্রাফিকের মামলা ও জরিমানা দিচ্ছি। অথচ আমাদের জন্য বরাদ্দ স্ট্যান্ডেই আমরা দাঁড়াতে পারছি না। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে আরও কঠোর কর্মসূচি দিতে বাধ্য হব।”
লাইসেন্স পরিদর্শক রাশেদ বিন আহম্মেদ বলেন, বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে। প্রয়োজন হলে নতুন করে জরিপ করে রিকশা স্ট্যান্ডের তালিকা হালনাগাদের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
রিকশাচালক ও নগরবাসীর দাবি, দখলদারদের উচ্ছেদ করে নির্ধারিত স্ট্যান্ডগুলো দ্রুত উদ্ধার এবং বর্তমান বাস্তবতা অনুযায়ী নতুন স্ট্যান্ড নির্ধারণ করা হলে ফরিদপুর শহরের যানজট অনেকাংশে কমবে এবং চালকদের ভোগান্তিও লাঘব হবে।