
দেশব্যাপী সারের কৃত্রিম সংকট ও অতিরিক্ত দামে সার বিক্রির অভিযোগের প্রতিবাদে গতকাল সোমবার সকাল ১১টায় রংপুর নগরীর খামার মোড় এলাকায় মানববন্ধন করেছে বাংলাদেশ কৃষিজীবী শ্রমিক ইউনিয়ন রংপুর মহানগর শাখা।
মানববন্ধনে কৃষকদের কাছে সরকারি নির্ধারিত মূল্যে পর্যাপ্ত সার সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং কৃত্রিম সংকট তৈরির সঙ্গে জড়িত সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান সংগঠনটির নেতৃবৃন্দ।
বাংলাদেশ কৃষিজীবী শ্রমিক ইউনিয়ন রংপুর মহানগর শাখার সভাপতি আব্দুল বাতেনের সভাপতিত্বে মানববন্ধনের সমাবেশে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ স্থলবন্দর শ্রমিক ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক, বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের রংপুর-দিনাজপুর অঞ্চলের সহকারী অঞ্চল পরিচালক, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য এবং সংগঠনের কেন্দ্রীয় উপদেষ্টা অধ্যাপক আবুল হাসেম বাদল, মহানগর শাখার উপদেষ্টা শাহানত মিয়া, মহানগর শাখার সহ-সভাপতি মুত্তালিব হোসাইন ও জিয়াউল হক জিয়া, সাধারণ সম্পাদক ইমরান বাবু, মাহিগঞ্জ থানা শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সভাপতি জামেদুল ইসলাম আব্দুল্লাহ। এ সময় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, দেশের বিভিন্ন এলাকায় কৃষকরা চাহিদা অনুযায়ী সার পাচ্ছেন না। কোথাও কোথাও অতিরিক্ত অর্থ দিয়েও সার সংগ্রহ করতে হচ্ছে। এতে উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় কৃষকরা আরও বেশি আর্থিক সংকটে পড়ছেন। কৃষিকাজে এমনিতেই লাভের পরিমাণ কম; এর সঙ্গে সারের কৃত্রিম সংকট ও মূল্যবৃদ্ধি যুক্ত হলে কৃষকের উৎপাদন ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
এ সময় অবিলম্বে সার সরবরাহ স্বাভাবিক করা, কৃষক পর্যায়ে সরকারি নির্ধারিত মূল্যে সার বিক্রি নিশ্চিত করা এবং ডিলার পর্যায়ে সরবরাহ ও বিতরণ ব্যবস্থায় নজরদারি বাড়ানোসহ কৃত্রিম সংকট তৈরির সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়।
এ সময় সংগঠনের কেন্দ্রীয় উপদেষ্টা আবুল হাসেম বাদল বলেন, “সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে দেশে সারের কোনো সংকট নেই। কিন্তু বাস্তব চিত্র ভিন্ন। কৃষকগণ ডিলারের কাছে গিয়ে চাহিদা অনুযায়ী সার পাচ্ছেন না। ফলে সংকট নেই বলা হলেও এর সুফল কৃষক পাচ্ছেন না। কোথাও অতিরিক্ত টাকা দিয়ে সার সংগ্রহের অভিযোগ উঠলে বিষয়টি অবশ্যই তদন্ত করে দেখতে হবে। কৃষকের উৎপাদন সচল রাখতে সরকারকে সরবরাহ ব্যবস্থার প্রতিটি স্তরে নজরদারি বাড়াতে হবে।”
সমাবেশে বক্তারা বলেন, “অতীতে সার সংকটকে কেন্দ্র করে কৃষকদের আন্দোলনে গুলি করে হত্যার ঘটনা ঘটেছে। আমরা প্রত্যাশা করি, বর্তমান সরকার সেই ধরনের পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তি হতে দেবে না। কৃষকের দাবি শান্তিপূর্ণভাবে দ্রুত সমাধান করে অবিলম্বে কৃষক পর্যায়ে ন্যায্য মূল্যে পর্যাপ্ত সার সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে। তা না হলে সারাদেশের কৃষক সমাজকে সঙ্গে নিয়ে বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।”