ঢাকা মঙ্গলবার, ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৪ ভাদ্র ১৪৩৩ | বেটা ভার্সন

অফসিজন রঙ্গিলা জাতের হলুদ তরমুজ চাষে হাবিবুরের সাফল্য

অফসিজন রঙ্গিলা জাতের হলুদ তরমুজ চাষে হাবিবুরের সাফল্য

দিনাজপুর অঞ্চলের টেকসই কৃষি উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় বীরগঞ্জ উপজেলার ভোগনগর ইউনিয়নের ভাবকি গ্রামের কৃষক মো. হাবিবুর রহমান অফসিজন রঙ্গিলা জাতের হলুদ তরমুজ চাষ করে অভাবনীয় সাফল্য পেয়েছেন। তরমুজ চাষের পাশাপাশি তিনি শসা ও টমেটোও চাষ করছেন। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সার্বিক সহযোগিতা ও দিকনির্দেশনায় তিনি এই তরমুজ চাষে সফলতা পেয়েছেন।

সরেজমিনে হাবিবুর রহমানের তরমুজ খেত পরিদর্শনে দেখা যায়, মাঠজুড়ে রঙ্গিলা জাতের হলুদ তরমুজে ভরে আছে। খেত পরিদর্শনে বীরগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. শরিফুল ইসলামসহ বেশ কয়েকজন কৃষক উপস্থিত ছিলেন। পরিদর্শনে আসা কৃষকরাও তরমুজের আকার, রং ও ফলন দেখে আগ্রহ প্রকাশ করেন।

কৃষক মো. হাবিবুর রহমান জানান, তিনি অফসিজন রঙ্গিলা জাতের হলুদ তরমুজ চাষ করেছেন। এ জাতের তরমুজে সর্বাধিক ফলন পেয়েছেন তিনি। ফলের ওজন ও আকার সবাইকে আকৃষ্ট করছে। শুধু আকারেই নয়, এ তরমুজের স্বাদও অসাধারণ মিষ্টি। বাজারে এর দামও ভালো পাওয়া যাচ্ছে বলে জানান তিনি।

হাবিবুর রহমান বলেন, ২০ শতক জমিতে অফসিজন রঙ্গিলা জাতের হলুদ তরমুজ চাষে এখন পর্যন্ত তার ব্যয় হয়েছে ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকা। এ পর্যন্ত উৎপাদিত তরমুজ বিক্রি করে তিনি ৫০ হাজার টাকা আয় করেছেন। খেতে থাকা তরমুজ বিক্রি করে আরও প্রায় ৫০ হাজার টাকা আয় করতে পারবেন বলে আশা করছেন তিনি।

তিনি আরও জানান, আরও সাতজন কৃষক এ জাতের তরমুজ চাষ করেছেন। আগামীতে ব্যাপকহারে এ জাতের তরমুজ চাষ করার আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

হাবিবুর রহমানের খেতের তরমুজ ও ফলন দেখতে প্রতিদিন বিভিন্ন এলাকা থেকে মানুষ ও কৃষকরা আসছেন। আগত কৃষকরা তরমুজ চাষের কলাকৌশল সম্পর্কে তার কাছ থেকে ধারণা নিচ্ছেন এবং আগামীতে নিজেরাও এ জাতের তরমুজ চাষ করার আগ্রহ প্রকাশ করছেন।

হাবিবুর রহমান বলেন, ‘আমি এই তরমুজের পাশাপাশি শসা ও টমেটো চাষ করছি। সেখান থেকেও ভালো লাভ হবে আশা করছি।’

তিনি আরও বলেন, ‘বীরগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. শরিফুল ইসলামের সঠিক দিকনির্দেশনায় আজ বিভিন্ন ধরনের সবজি ও তরমুজ চাষ করে সফল হয়েছি।’

এক সাক্ষাৎকারে বীরগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. শরিফুল ইসলাম বলেন, এ জাতের তরমুজ খুবই সুস্বাদু। বাজারে প্রতি কেজি ৮০ টাকা দরে বিক্রি হয়ে থাকে। কৃষকরা সঠিক দাম পেলে এ জাতের তরমুজ চাষে তাদের আগ্রহ আরও বাড়বে।

দিনাজপুর জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক কৃষিবিদ মো. আফজাল হোসেন বলেন, দিনাজপুর জেলার অন্যান্য উপজেলার কৃষকদেরও এ জাতের তরমুজ চাষে উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে।

হাবিবুরের সাফল্য,হলুদ তরমুজ চাষ,রঙ্গিলা জাত,অফসিজন
আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত