
আগামীকাল ৯ সেপ্টেম্বর। পার্বত্য চট্টগ্রামের ইতিহাসে বহুল আলোচিত ও শোকাবহ একটি দিন ‘পাকুয়াখালী ট্র্যাজেডি দিবস’। ১৯৯৬ সালের এই দিনে রাঙামাটির লংগদু উপজেলার পাকুয়াখালী নামক দুর্গম অরণ্যে ৩৫ জন বাঙালি কাঠুরিয়াকে হত্যা করে তৎকালীন বিচ্ছিন্নতাবাদী উপজাতীয় সংগঠন জেএসএস নেতৃত্বাধীন শান্তি বাহিনী। তিন দশক পার হলেও এ হত্যাকাণ্ডের বিচার হয়নি। এ নিয়ে চরম ক্ষোভ ও হতাশায় রয়েছেন নিহতদের স্বজনরা।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ১৯৯৬ সালের ৯ সেপ্টেম্বর লংগদু ও বাঘাইছড়ি উপজেলার সীমান্তবর্তী পাকুয়াখালীর গহীন অরণ্যে কাঠ কাটতে যাওয়া শ্রমিকদের ধরে নিয়ে যায় শান্তি বাহিনীর সন্ত্রাসীরা।
সন্ত্রাসীরা কাঠুরিয়াদের একটি অংশকে কয়েক দিন আটকে রেখে নির্যাতনের পর হত্যা করে। পরে ঘটনাস্থল থেকে ২৮ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। বাকি সাতজনের মরদেহ পাওয়া যায়নি।
ঘটনার পর তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের শীর্ষ কয়েকজন মন্ত্রী লংগদু উপজেলায় সফর করে তদন্ত ও বিচারের আশ্বাস দিলেও তিন দশকে মামলা, বিচার ও ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসনের কোনো কুল-কিনারা হয়নি।
প্রতি বছর ৯ সেপ্টেম্বর এলে ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয় বাঙালি সংগঠনগুলো এ ঘটনাকে ঘিরে ‘পাকুয়াখালী ট্র্যাজেডি দিবস’ পালন করে। এ সময় হত্যাকাণ্ডের বিচার, পুনর্বাসন এবং ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্তের দাবি তোলা হয়।
সূত্রে জানা যায়, ঘটনার পর বাঘাইছড়ি থানায় পুলিশ বাদী হয়ে একটি মামলা দায়ের করে। পরবর্তীতে উচ্চতর তদন্তের জন্য সেটি পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)-এর কাছে হস্তান্তর করা হয়। কিন্তু তিন দশক পরেও আলোর মুখ দেখেনি তদন্ত প্রতিবেদন।
বাঘাইছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নাছির উদ্দিন মজুমদার জানান, দীর্ঘদিনের পুরোনো মামলাটির পরিণতি কী, তা এ মুহূর্তে দেওয়ার মতো কোনো তথ্য নেই। সিআইডির প্রতিবেদন সম্পর্কেও তিনি কিছু জানাতে পারেননি।
এদিকে দীর্ঘদিনেও এমন ভয়ঙ্কর হত্যাকাণ্ডের তদন্ত না হওয়া এবং বিচারের ব্যবস্থা না করায় ক্ষোভ জানিয়েছে পার্বত্য চট্টগ্রামের আঞ্চলিক সংগঠন পার্বত্য চট্টগ্রাম নাগরিক পরিষদ।
সংগঠনের কেন্দ্রীয় চেয়ারম্যান মো. আবদুল হামিদ রানা বলেন, নিরীহ-নিরপরাধ ৩৫ জন কাঠুরিয়াকে নির্মমভাবে হত্যার পর ৩০ বছরেও বিচার না হওয়া অত্যন্ত দুঃখজনক।
তিনি অভিযোগ করে বলেন, এসব হত্যাকাণ্ডের মূল হোতা সন্তু লারমার বিচার না করে উল্টো রাষ্ট্রীয় চেয়ারে বসিয়ে পুরস্কৃত করা হয়েছে। এতে বিচারহীনতা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। ফলে সন্তু লারমা এখনো খুন-সন্ত্রাস চালিয়ে যাচ্ছে।