ঢাকা বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৬ ভাদ্র ১৪৩৩ | বেটা ভার্সন

শিক্ষকসংকটে কাউখালীর সরকারি স্কুল, অপরাধে জড়াচ্ছে শিক্ষার্থীরা

শিক্ষকসংকটে কাউখালীর সরকারি স্কুল, অপরাধে জড়াচ্ছে শিক্ষার্থীরা

পিরোজপুরের কাউখালী উপজেলার সরকারি কাউখালী কে জি (গান্ডতা) ইউনিয়ন উচ্চ বিদ্যালয়ে তীব্র শিক্ষকসংকটের কারণে পাঠদান মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয়ে অবস্থান করলেও দিনে দু-একটির বেশি ক্লাস হচ্ছে না। এতে পড়াশোনার প্রতি শিক্ষার্থীদের আগ্রহ কমে যাচ্ছে।

পাশাপাশি বাড়ছে ক্লাসে অনুপস্থিতি এবং তৈরি হচ্ছে কিশোর গ্যাংয়ের মতো অপরাধী চক্র। শিক্ষার্থীদের অনেকে মাদক, জুয়া ও ইভটিজিংয়ের মতো সামাজিক অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে।

সরকারি একটি বিদ্যালয়ে এমন অব্যবস্থাপনায় গভীর হতাশা প্রকাশ করেছেন অভিভাবক ও স্থানীয় সচেতন মহল।

শিক্ষকসংকট নিরসনের দাবিতে গত ২৩ জুন বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও সচেতন নাগরিকরা মানববন্ধন করেন। কিন্তু চার মাস অতিবাহিত হলেও এখন পর্যন্ত কোনো নতুন শিক্ষক পদায়ন করা হয়নি।

শিক্ষার্থীরা জানায়, বিদ্যালয়ে আগে পাঁচজন শিক্ষক ছিলেন। এর মধ্যে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আমিনুল ইসলাম বদলি হয়ে ঢাকায় চলে গেছেন। বর্তমানে চারজন শিক্ষক দিয়ে চলছে পাঠদান।

শিক্ষার্থীরা প্রশ্ন তোলে, "আমরা সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত বিদ্যালয়ে অবস্থান করেও নিয়মিত ক্লাস পাই না। আমাদের একটাই দাবি—প্রতিদিন যেন অন্তত ছয়টি ক্লাসে শিক্ষক উপস্থিত থাকেন। শিক্ষকের অভাবে আমাদের ভবিষ্যৎ নষ্ট হলে তার দায় কে নেবে? আমরা নকলের বিরুদ্ধে এবং মানসম্মত শিক্ষার পক্ষে, তবে না পড়ে শুধু সনদ নিয়ে কী করব?"

অভিভাবক অ্যাডভোকেট জহিরুল ইসলাম ও কাজী মহিউদ্দিন বলেন, গৃহায়ন ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী, জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাসহ রাজনৈতিক নেতারা শিক্ষকসংকট সমাধানের আশ্বাস দিলেও বছর পার হয়ে গেছে। এখনো কোনো শিক্ষক যোগদান করেননি। উল্টো শিক্ষকসংখ্যা কমে চারজনে নেমেছে, যা হতাশাজনক।

তারা অবিলম্বে প্রধানমন্ত্রী, শিক্ষামন্ত্রী ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

আরেক অভিভাবক এনামুল হক বলেন, "বিদ্যালয়টিতে ১৭টি শিক্ষকের পদ থাকলেও মাত্র চারজন শিক্ষক দিয়ে প্রায় ৪০০ শিক্ষার্থীর পাঠদান চালানো হচ্ছে। এতে শিক্ষার মান মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। অথচ সরকারি হওয়ার আগে এই বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ডাক্তার, প্রকৌশলী, সেনা কর্মকর্তা ও উচ্চপদস্থ পুলিশ কর্মকর্তা হিসেবে দেশসেবায় অবদান রেখেছেন। বর্তমানে অনেক মেধাবী শিক্ষার্থী পড়ালেখা ছেড়ে অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে।"

বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক বিজন হালদার জানান, ২২ জন শিক্ষক-কর্মচারীর পদের বিপরীতে মাত্র পাঁচজন (বর্তমানে চারজন) দিয়ে পুরো বিদ্যালয় পরিচালনা করতে হচ্ছে। বারবার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানানো হলেও এখনো কোনো সুফল পাওয়া যায়নি।

এ বিষয়ে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা (মাউশি) বরিশাল অঞ্চলের উপপরিচালক মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর হোসাইন বলেন, "মাত্র চারজন শিক্ষক দিয়ে একটি সরকারি বিদ্যালয় পরিচালনা করা অত্যন্ত কষ্টকর। আমরা বিষয়টি অনুধাবন করছি। দ্রুত শিক্ষক পদায়নের জন্য আজ আবারও ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে অবহিত করা হবে।"

জড়াচ্ছে শিক্ষার্থীরা,অপরাধ,সরকারি স্কুল,শিক্ষকসংকটে কাউখালী
আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত