ঢাকা শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৭ ভাদ্র ১৪৩৩ | বেটা ভার্সন

সিরাজগঞ্জে করোলার বাম্পার ফলন, ভালো দামে হাসি কৃষকের মুখে

সিরাজগঞ্জে করোলার বাম্পার ফলন, ভালো দামে হাসি কৃষকের মুখে

সিরাজগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় এবার গ্রীষ্মকালীন করোলা চাষে বাম্পার ফলন হয়েছে। পাশাপাশি বাজারে করোলার দাম ভালো থাকায় কৃষকদের মুখে হাসি ফুটেছে। বিশেষ করে মাচা পদ্ধতিতে করোলা চাষে আগ্রহ বাড়ছে কৃষকদের। এতে ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক অনেক কৃষকের স্বচ্ছলতা ফিরছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, জেলার ৯টি উপজেলার চরাঞ্চলসহ বিভিন্ন স্থানে করোলাসহ নানা ধরনের সবজি চাষের জন্য ৮ হাজার ৫শ হেক্টর জমির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল। তবে কৃষকেরা লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও বেশি জমিতে এসব সবজি চাষ করেছেন। এর মধ্যে শাহজাদপুর, উল্লাপাড়া, রায়গঞ্জ, কামারখন্দ ও সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় বেশি চাষাবাদ হয়েছে। যমুনা নদীর চরাঞ্চলেও ব্যাপকভাবে করোলা চাষ করা হয়েছে।

গ্রীষ্মকালীন সবজির মধ্যে করোলা, বেগুন, ঢেঁড়স, পটোল, কুমড়া, মিষ্টি কুমড়া, লাউ, ডাঁটা, সিম ও বিভিন্ন ধরনের শাকসবজি উল্লেখযোগ্য। প্রতি বছরের মতো এবারও প্রায় তিন মাস আগে কৃষকেরা এসব সবজি চাষাবাদ শুরু করেন। এছাড়া জেলার বিভিন্ন স্থানে করোলাসহ হাইব্রিড সবজি সারা বছরই চাষ হয়ে থাকে।

শস্যভান্ডার হিসেবে পরিচিত উল্লাপাড়া উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকেরা সবজি চাষ করে বেশি লাভবান হয়েছেন। একই সঙ্গে সবজির হাট-বাজারে দাম ভালো থাকায় কৃষকদের মধ্যে স্বস্তি দেখা দিয়েছে।

স্থানীয় কৃষকেরা জানান, দফায় দফায় বর্ষণের কারণে অনেক সবজির বাগান নষ্ট হয়েছে। তবে গ্রীষ্মকালীন করোলাসহ বিভিন্ন সবজি চাষে খরচ তুলনামূলক কম এবং লাভ বেশি। এ কারণে এ অঞ্চলের কৃষকেরা লাভজনক এ চাষাবাদের প্রতি আগ্রহী হয়ে উঠেছেন।

যমুনা নদীর তীরবর্তী কাজিপুর, বেলকুচি, চৌহালী, শাহজাদপুর ও সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার চরাঞ্চলে করোলা ও বিভিন্ন সবজির বাম্পার ফলন হয়েছে। এছাড়া বাড়ির আঙিনা, পুকুরপাড় এবং গ্রামাঞ্চলের সরকারি-বেসরকারি রাস্তাঘাটের আশপাশেও বিভিন্ন সবজি চাষ করা হচ্ছে। এসব চাষাবাদের রক্ষণাবেক্ষণে গ্রামাঞ্চলের গৃহবধূরাও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।

এদিকে চরাঞ্চলসহ সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার খোকশাবাড়ি, বহুলী, রাজাপুর, জগৎগাঁতী, শিয়ালকোল, ধিতপুর, রঘুরগাতী, খাগাসহ বিভিন্ন গ্রামাঞ্চলে ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকেরা মাচা পদ্ধতিতে গ্রীষ্মকালীন করোলা চাষ করেছেন। প্রায় তিন মাস ধরে জমি থেকে করোলা উৎপাদন শুরু হয়েছে।

বর্তমানে প্রতি কেজি করোলা খুচরা বাজারে ৮০ থেকে ১০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। বিশেষ করে টিয়া করোলার চাহিদা বেশি। বাজারে ভালো দাম পাওয়ায় কৃষকেরা এ চাষে আরও বেশি ঝুঁকে পড়ছেন। কম খরচে বেশি লাভ হওয়ায় অনেক ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষক করোলা চাষে আগ্রহী হয়েছেন।

এ বিষয়ে কৃষি বিভাগের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কৃষিবিদ কর্মকর্তা আলোকিত বাংলাদেশকে বলেন, এবার প্রান্তিক কৃষকদের গ্রীষ্মকালীন বিভিন্ন সবজি চাষে বীজ ও সার দেওয়া হয়েছে। স্থানীয় কৃষি বিভাগও এ চাষাবাদে কৃষকদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিচ্ছে। বিশেষ করে চরাঞ্চলের কৃষকেরা করোলা চাষে লাভবান হয়েছেন। করোলাসহ এসব সবজির বাজার ভালো থাকায় কৃষকদের মুখে হাসি ফুটেছে।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, শীতকালীন সবজি চাষের জন্য কৃষকেরা ইতোমধ্যেই প্রস্তুতি নিয়েছেন।

ভালো দাম,বাম্পার ফলন,করোলা,সিরাজগঞ্জ
আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত