ঢাকা মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩১ ভাদ্র ১৪৩৩ | বেটা ভার্সন

ভালো দাম পেয়ে দিনাজপুরে পাট চাষে ফিরছেন কৃষক

ভালো দাম পেয়ে দিনাজপুরে পাট চাষে ফিরছেন কৃষক

কয়েক বছর ধরে বাজারে পাটের দাম কম থাকায় দিনাজপুরের চাষিদের মধ্যে হতাশা দেখা দিয়েছিল। অনেকে পাট চাষও বন্ধ করে দিয়েছিলেন। তবে পরিস্থিতি বদলাতে শুরু করেছে। চলতি বছর পাটের ভালো দাম পাওয়ায় জেলার কৃষকদের মধ্যে আবারও পাট চাষে আগ্রহ বাড়ছে। এতে জেলার কৃষি অর্থনীতিতে ইতিবাচক সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, আগামীতে পাটের বাজারদর ভালো থাকলে এর উৎপাদন আরও বাড়বে। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ মো. আফজাল হোসেন জানান, চলতি বছর জেলায় ৭৬০ হেক্টর জমিতে পাট চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল। প্রতি হেক্টর জমিতে ১১ দশমিক ৯৩ বেল হিসেবে মোট উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয় ৯ হাজার ৬৬ দশমিক ৮ বেল।

কৃষিবিদ মো. আফজাল হোসেন বলেন, একসময় ‘সোনালী আঁশ’ নামে পরিচিত পাট একটি উন্নয়নশীল ফসল হিসেবে কৃষকরা চাষ করতেন। পরে পাটজাত পণ্যের চাহিদা কমে যাওয়ায় কৃষকদের আগ্রহও কমে যায়। তবে বর্তমানে পরিবেশবান্ধব পাটজাত পণ্যের কদর বাড়ছে। ফলে পাটের পর্যাপ্ত চাহিদা থাকায় এবার কৃষকরা ভালো মূল্য পেয়েছেন।

চিরিরবন্দর উপজেলার কৃষক আব্দুল জলিল বলেন, গত কয়েক বছর প্রতি মণ পাটের দাম ছিল ১ হাজার ৮০০ থেকে ২ হাজার ৫০০ টাকা। কিন্তু এ বছর পাটের চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় দাম অনেক ভালো পাওয়া যাচ্ছে। বর্তমানে প্রতি মণ পাট ৩ হাজার ৮০০ থেকে ৪ হাজার টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। ভালো দাম পাওয়ায় কৃষকেরা খুবই খুশি।

ফুলবাড়ী উপজেলার কৃষক ধীরেন্দ্র দেবনাথ জানান, পাটের ভালো দামের পাশাপাশি জ্বালানি হিসেবে পাটখড়ির দামও আশানুরূপ পাওয়া যাচ্ছে। বর্তমানে প্রতি মণ পাটখড়ি ৪০০ থেকে ৫০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এতে পাটখড়ি বিক্রি করে কৃষকেরা বাড়তি আয় করতে পারছেন। ফলে পাট চাষে তাদের আগ্রহ আরও বাড়ছে। কৃষকদের ধারণা, পাট চাষে আবারও সুদিন ফিরবে।

কৃষকদের এই আগ্রহ বাড়াতে কাজ করছে কৃষি বিভাগ। চলতি বছর মৌসুমের শুরুতে মে মাসে জেলার ১৩ উপজেলায় ৫৭২ জন কৃষককে আধুনিক পদ্ধতিতে পাট চাষের ওপর প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া পাট চাষে আগ্রহ সৃষ্টি করতে ১৩ উপজেলায় ৩ হাজার ৮৫০ জন কৃষকের মধ্যে বিনামূল্যে উন্নত জাতের পাটের বীজ ও রাসায়নিক সার বিতরণ করা হয়।

দিনাজপুর জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ আফজাল হোসেন মনে করেন, কৃষি বিভাগের সহযোগিতা ও পরামর্শের কারণেই এবার চাষিরা সফল হয়েছেন। এ বছর পাটের চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় কৃষকরা ভালো দাম পাচ্ছেন।

পাশাপাশি সরকারিভাবে বিনামূল্যে বীজ ও সার বিতরণ করায় পাট চাষে কৃষকদের আগ্রহও বাড়ছে।

চাষে ফিরছেন কৃষক,পাট চাষ,দিনাজপুর,ভালো দাম
আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত