ঢাকা রোববার, ০৪ অক্টোবর ২০২৬, ২০ আশ্বিন ১৪৩৩ | বেটা ভার্সন

রংপুর সদর হাসপাতালে ভুতুড়ে পরিবেশ, চালুর দাবী

রংপুর সদর হাসপাতালে ভুতুড়ে পরিবেশ, চালুর দাবী

১৯৩০ সালে প্রতিষ্ঠিত । প্রায় ১০০ বছর ।রংপুরের মানুষের চিকিৎসাসেবার অন্যতম ভরসার জায়গা ছিল রংপুর সদর হাসপাতাল। হাসপাতালটি সময়ের পরিক্রমায় হারাচ্ছে তার অস্তিত্ব। নগরীর প্রাণকেন্দ্র রংপুর সিটি কর্পোরেশনের বিপরীতে অবস্থিত হাসপাতালটির পুরোনো ভবন এখন পরিত্যক্ত পড়ে আছে। ঝোপঝাড়ে ঢেকে গেছে পুরো এলাকা। মূল ফটকে ঝুলছে তালা। ফলে একসময় রোগীদের আনাগোনায় ব্যস্ত হাসপাতালের প্রাঙ্গণ দেখলে গা ছমছমে অবস্থা তৈরি হয়। এ যেন এক ভুতুড়ে পরিবেশ।

স্থানীয়দের দাবি, নগরীর প্রাণকেন্দ্রে থাকা এই হাসপাতালটি নতুন করে চালু করে সেখানে অন্তত ২০০ শয্যার একটি আধুনিক হাসপাতাল স্থাপন করা হলে রংপুর নগরীর মানুষের চিকিৎসাসেবা অনেক উন্নত হবে। সেই সাথে রংপুর মেডিকেল কলেজ(রমেক) হাসপাতালের ওপরও রোগীর চাপ কমবে অনেকটাই কমবে।জানা গেছে, ১৯৩০ সালে রংপুর সদর হাসপাতালের যাত্রা শুরু হয়। পরবর্তী সময়ে এর কার্যক্রম ও সেবার পরিধিতে পরিবর্তন আসে। রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল চালু হওয়ার পর সদর হাসপাতালের পুরোনো ভবনটি সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালের একটি ইউনিট হিসেবে ব্যবহৃত হতো। বর্তমানে সেই কার্যক্রমও নেই। ফলে ভবনটি দীর্ঘদিন ধরে পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে রয়েছে।সরেজমিন দেখা যায়, হাসপাতালের মূল প্রবেশপথে তালা ঝুলছে। ভবনের বিভিন্ন দরজা-জানালা খুলে নিয়ে গেছে ছিছকে চোরেরা। চারপাশে জন্মেছে ঝোপঝাড়। ভবনের ওপরের অংশে এখনো লেখা রয়েছে ‘সংক্রামক ব্যাধি বিভাগ’। অথচ বাস্তবে সেখানে নেই কোনো চিকিৎসা কার্যক্রম।এদিকে রমেক হাসপাতাল এক হাজার শয্যার হলেও প্রতিদিন গড়ে প্রায় আড়াই হাজার রোগী সেখানে চিকিৎসাসেবা গ্রহণ করতে আসেন। অতিরিক্ত রোগীর চাপে চিকিৎসাসেবা দিতে হিমশিম খেতে হয় চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের।

নগরীর পশ্চিম প্রান্তে রমেক হাসপাতালের অবস্থান হওয়ায় নগরীর বিভিন্ন প্রান্ত থেকে রোগী নিয়ে সেখানে যেতে সময়ও লাগে বেশি। বিশেষ করে যানজটের কারণে গুরুতর অসুস্থ রোগীদের নিয়ে হাসপাতালে পৌঁছাতে বিড়ম্বনায় পড়তে হয় স্বজনদের।নগরবাসীর অভিযোগ, যানজটে আটকে রোগী হাসপাতালে নিতে দেরি হওয়ায় অনেক সময় পরিস্থিতি আরও সংকটাপন্ন হয়ে পড়ে। এ অবস্থায় নগরীর কেন্দ্রস্থলে সদর হাসপাতাল পুনরায় চালু করা সময়ের দাবি হয়ে উঠেছে।রংপুর মহানগর নাগরিক কমিটির সদস্য সচিব পলাশ কান্তি নাগ বলেন, রমেক হাসপাতালে কম জনবল দিয়ে এত রোগীকে চিকিৎসা সেবা দিতে যখন চিকিৎসক-নার্সরা হিমশিম খাচ্ছে, তখন সদর হাসপাতালটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারতো। কিন্তু সদর হাসপাতাল বন্ধ। এ হাসপাতালটি দ্রুত চালু করে রংপুরের মানুষদের উন্নত চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি।রংপুর বিভাগীয় স্বাস্থ্য অফিসের সহকারী পরিচালক ডাঃ মেসকাতুল আবেদ বলেন, সিলেট ও বরিশালে মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পাশাপাশি সদর হাসপাতাল রয়েছে। রংপুর বিভাগের আট জেলার বিপুলসংখ্যক মানুষের চিকিৎসার কথা বিবেচনায় নিয়ে এখানে একটি বড় পরিসরের সদর হাসপাতাল প্রয়োজন।

সদর হাসপাতাল,দাবী
আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত