ঢাকা সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬, ২৮ আশ্বিন ১৪৩৩ | বেটা ভার্সন

কাউখালীতে ৮ বছরেও শেষ হয়নি ব্রিজ, সাঁকোয় ঝুঁকিপূর্ণ পারাপার

কাউখালীতে ৮ বছরেও শেষ হয়নি ব্রিজ, সাঁকোয় ঝুঁকিপূর্ণ পারাপার

পিরোজপুরের কাউখালীতে ১ কোটি ১৩ লাখ ৬৭ হাজার টাকা ব্যয়ে নির্মাণাধীন একটি গার্ডার ব্রিজ আট বছরেও পুরোপুরি শেষ হয়নি। নির্ধারিত সময়ের প্রায় আট বছর পরও ব্রিজটির দুই পাশে অ্যাপ্রোচ সড়ক নির্মাণ না হওয়ায় এটি পুরোপুরি ব্যবহার করতে পারছেন না স্থানীয়রা। ফলে সরকারি অর্থ ব্যয়ে নির্মিত অবকাঠামোটি মানুষের যোগাযোগের সুবিধার বদলে দুর্ভোগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

উপজেলার শিয়ালকাঠি ইউনিয়নের ফলইবুনিয়া গ্রামের পাঙ্গাসিয়া-জোলাগাতি সড়কের লক্ষণ মিস্ত্রির বাড়ির সামনে নির্মাণাধীন ব্রিজটির এমন অবস্থায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে। তাদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে নির্মাণকাজ অসম্পূর্ণ পড়ে থাকলেও তা শেষ করার কার্যকর কোনো উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না। বর্ষা মৌসুমে দুর্ভোগ আরও বেড়ে যায়।

এলজিইডি সূত্র ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) আওতায় ১ কোটি ১৩ লাখ ৬৭ হাজার ৩৩৩ টাকা ব্যয়ে ব্রিজটির নির্মাণকাজ শুরু হয় ২০১৯ সালের ৬ জানুয়ারি। কাজটি বাস্তবায়নের দায়িত্ব পায় ভান্ডারিয়ার ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স ইশান এন্টারপ্রাইজ। চুক্তি অনুযায়ী, ২০২০ সালের ৬ এপ্রিলের মধ্যে কাজ শেষ করার কথা ছিল। কিন্তু নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ হয়নি। এরপরও প্রায় ছয় বছর পেরিয়ে গেলেও ব্রিজটির নির্মাণকাজ পুরোপুরি সম্পন্ন হয়নি।

স্থানীয়দের অভিযোগ, ব্রিজের মূল কাঠামো নির্মাণের পরও দুই পাশের অ্যাপ্রোচ সড়ক তৈরি না করায় এটি কার্যত বিচ্ছিন্ন অবস্থায় রয়েছে। ব্রিজে ওঠার জন্য স্থানীয়রা সুপারি গাছ দিয়ে তৈরি অস্থায়ী সাঁকো ব্যবহার করছেন। প্রতিদিন এই ঝুঁকিপূর্ণ পথ দিয়েই চলাচল করতে হচ্ছে শিশু, শিক্ষার্থী, নারী, বয়স্কসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষকে।

স্থানীয়রা জানান, শাপলেজা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও জয়তুলিয়া দাখিল মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের একটি অংশ এই পথ ব্যবহার করে। এ ছাড়া শাপলেজা, জোলাগাতি ও পশ্চিম ফলইবুনিয়া গ্রামের শিক্ষার্থীরা কাউখালী ও পিরোজপুরের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যাতায়াতের সময়ও এ পথ ব্যবহার করে। অ্যাপ্রোচ সড়ক না থাকায় ব্রিজে ওঠানামা করতে গিয়ে প্রতিদিনই ঝুঁকি নিতে হচ্ছে তাদের।

স্থানীয় বাসিন্দাদের আশঙ্কা, অস্থায়ী সাঁকো থেকে পড়ে যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। বিশেষ করে শিশু ও শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিয়ে তাঁদের উদ্বেগ বেশি।

শিয়ালকাঠি ইউনিয়ন পরিষদের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য মো. রুবেল বলেন, “সাঁকোটি দীর্ঘদিন ধরে অসম্পূর্ণ অবস্থায় পড়ে আছে। এ কারণে এলাকাবাসী চরম দুর্ভোগে রয়েছে। বিষয়টি একাধিকবার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। দ্রুত কাজ শেষ করা হলে কয়েকটি গ্রামের মানুষের যোগাযোগব্যবস্থার উন্নতি হবে এবং শিক্ষার্থীদের ঝুঁকিপূর্ণ যাতায়াতের অবসান হবে।”

তবে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের দাবি, অর্থ পরিশোধ না হওয়ায় কাজ এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। মেসার্স ইশান এন্টারপ্রাইজের প্রতিনিধি গিয়াস উদ্দিন বলেন, “আমরা এ পর্যন্ত প্রায় ৮২ লাখ টাকার কাজ করেছি। কিন্তু এখনো কোনো বিল হাতে পাইনি। এলজিইডি অফিসে বিলসংক্রান্ত কাগজপত্র জমা দেওয়া হয়েছে। বিল পেলে বাকি কাজ দ্রুত শেষ করে দেওয়া হবে।”

এলজিইডির কাউখালী উপজেলা প্রকৌশলী ইমতিয়াজ হোসাইন রাসেল বলেন, “ব্রিজটির কাজ অসম্পূর্ণ থাকার বিষয়টি আমাদের নজরে রয়েছে। ঠিকাদার বিল না পাওয়ার বিষয়টি জানিয়েছেন। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে দ্রুত সমাধানের চেষ্টা চলছে। প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে বাকি কাজ শেষ করে ব্রিজটি জনগণের ব্যবহারের জন্য উন্মুক্ত করা হবে।”

স্থানীয়দের প্রশ্ন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ না হওয়ার পরও কেন বছরের পর বছর ব্রিজটি অসম্পূর্ণ পড়ে থাকবে। তাদের দাবি, সরকারি অর্থে নির্মিত ব্রিজটির অবশিষ্ট কাজ দ্রুত শেষ করে দুই পাশে অ্যাপ্রোচ সড়ক নির্মাণ করতে হবে এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।

ঝুঁকিপূর্ণ পারাপার,সাঁকো,শেষ হয়নি ব্রিজ,কাউখালী
আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত