
সিরাজগঞ্জের যমুনা নদীর তীরবর্তী চায়না বাঁধসহ বিভিন্ন স্থানে নানা বয়সী মানুষের ভিড় বাড়ছে। বিশেষ করে পড়ন্ত বিকেলে দর্শনার্থীদের উপস্থিতিতে এসব স্থান মুখর হয়ে ওঠে। এর মধ্যে চায়না বাঁধ এলাকায় প্রেমিক-প্রেমিকাদের আনাগোনাও চোখে পড়ার মতো। এসব স্থানে ফুটপাতে মুখরোচক খাবার বিক্রি করে অনেক দোকানির আর্থিক স্বচ্ছলতাও ফিরেছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে যমুনার তীরবর্তী হার্ডপয়েন্ট, পৌর শিশু পার্ক ও ৩ নম্বর চায়না বাঁধ এলাকায় প্রায় দিনভর নানা বয়সী মানুষের ভিড় জমে। বিশেষ করে বিকেলের দিকে এসব স্থানে প্রেমিক-প্রেমিকাদের উপস্থিতি বাড়ে। তারা আনন্দঘন সময় কাটানোর পাশাপাশি সেলফি তোলেন। যমুনার চর, বাঁধ ও কাশফুলের সৌন্দর্যকে সাক্ষী রেখে অনেকে একসঙ্গে সময় কাটান।
এসব স্থানে আড্ডা ও বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের উপস্থিতিও বেশি দেখা যায়। অভিযোগ রয়েছে, অনেক শিক্ষার্থী স্কুল-কলেজে উপস্থিত না হয়ে এসব দর্শনীয় স্থানে সময় কাটায়। এমনকি তারা মধ্যরাত পর্যন্ত আড্ডা দেয় বলেও অভিযোগ উঠেছে।
এদিকে দর্শনীয় স্থানগুলোর আশপাশের ফুটপাতে ফুচকা, চটপটি, ভেলপুরি, ঝালমুড়ি, বাদাম, ছোলা, আইসক্রিম, চা, কফি, পিৎজা ও লেবুর শরবতসহ বিভিন্ন খাবারের দোকান বসেছে। পাশাপাশি রয়েছে বিয়ের আসর, নাগরদোলা ও শিশুদের বিনোদনের নানা আয়োজন। এসব দোকানে প্রেমিক-প্রেমিকাসহ বিভিন্ন বয়সী মানুষের ভিড় লেগেই থাকে।
ফুটপাতের দোকানিরা জানান, প্রতিদিন কমবেশি ভালো বেচাকেনা হয়। তবে বৃহস্পতিবার, শুক্রবার ও শনিবার বিক্রি প্রায় দ্বিগুণ হয়। যমুনার তীরবর্তী এসব স্থানে ব্যবসা করে অনেক দোকানির আর্থিক স্বচ্ছলতা ফিরেছে।
অন্যদিকে, স্কুল-কলেজ ফাঁকি দিয়ে শিক্ষার্থীদের এসব স্থানে আড্ডা দেওয়া ও বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ার অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে সিরাজগঞ্জ সদর থানা পুলিশ অভিযান শুরু করেছে। বিশেষ করে কাশফুলের ভেতরে অভিযান চালিয়ে পুলিশ বিভিন্ন বিষয় দেখতে পেয়েছে। পরে শিক্ষার্থীদের সতর্ক করে বাড়ি ফিরিয়ে দেওয়া হয়।
স্থানীয়রা জানান, আরও আগে এ ধরনের অভিযান শুরু হলে শিক্ষার্থীদের অভিভাবকেরা খুশি হতেন। পাশাপাশি স্কুল-কলেজে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতির হারও বাড়ত। পুলিশের এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন তারা।
এ বিষয়ে সিরাজগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রাকিবুল হাসান আলোকিত বাংলাদেশকে বলেন, ইতোমধ্যে চায়না বাঁধসহ এসব স্থানে অভিযান শুরু হয়েছে। এ অভিযান অব্যাহত থাকবে।