
চাঁদপুর সদর উপজেলার বাগাদীতে গ্রামীণ ব্যাংকের একটি ভবনে অগ্নিসংযোগ করেছে দুর্বৃত্তরা। এতে ভবনের দ্বিতীয় তলার দুটি কক্ষের আসবাবপত্র পুড়ে গেছে। তবে এ ঘটনায় কেউ হতাহত হয়নি।
শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) গভীর রাতে এ ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে চাঁদপুর ফায়ার সার্ভিসের উত্তর ইউনিটের দুটি ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।
ফায়ার সার্ভিসের দ্রুত পদক্ষেপে ব্যাংকের দুই কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ প্রতিষ্ঠানটির অন্যান্য সম্পদ বড় ধরনের ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা পায়।
শনিবার (২৪ অক্টোবর) দুপুরে এ ঘটনায় চাঁদপুর সদর মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ করেন ব্যাংকের শাখা ব্যবস্থাপক মাহমুদা আক্তার।
গ্রামীণ ব্যাংকের চাঁদপুর জোনাল ম্যানেজার তাপস আচার্য জানান, রাত আনুমানিক সোয়া ৩টার দিকে নাইট গার্ড নিত্য শাখা ব্যবস্থাপককে ঘটনাটি জানান। তার ভাষ্য অনুযায়ী, কে বা কারা জানালা দিয়ে ঢিল ছোড়ার মতো কিছু একটা নিক্ষেপ করে। পরে শাখা ব্যবস্থাপক মিজানুর রহমান তাকে আগুন লাগার বিষয়টি জানান।
তিনি ফায়ার সার্ভিসকে খবর দেওয়াসহ দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার পরামর্শ দেন। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন।
তাপস আচার্য আরও জানান, পূজার ছুটিতে তিনি ঢাকায় ছিলেন। অগ্নিকাণ্ডের খবর পেয়ে ছুটি বাতিল করে চাঁদপুরে ফিরে আসছেন। এ ঘটনায় ভবনের দ্বিতীয় তলার আসবাবপত্র পুড়ে গেছে। এটি পেট্রোল বোমা কি না, তা আইনগত তদন্তের পর জানা যাবে। তবে কোনো হতাহত বা নথিপত্রের ক্ষয়ক্ষতি হয়নি বলে জানান তিনি।
চাঁদপুর ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা যায়, তাদের তাৎক্ষণিক প্রচেষ্টায় ভোর ৩টা ৫৫ মিনিটে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। পরে ভোর ৪টা ১০ মিনিটে আগুন সম্পূর্ণভাবে নির্বাপণ করা হয়। এতে আগুনের বিস্তার রোধ করা সম্ভব হয় এবং ব্যাংকের অন্যান্য সম্পদ বড় ধরনের ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা পায়।
অগ্নিকাণ্ডে প্রতিষ্ঠানটির আনুমানিক লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে জানানো হয়। তবে ক্ষয়ক্ষতির সুনির্দিষ্ট পরিমাণ উল্লেখ করা হয়নি।
এদিকে শনিবার বিকেলে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন চাঁদপুরের পুলিশ সুপার (এসপি) মো. মিজানুর রহমান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) খায়রুল কবির এবং সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফয়েজ আহমেদ।
চাঁদপুর সদর মডেল থানার ওসি ফয়েজ আহমেদ বলেন, ঘটনাটি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।