
দিনাজপুরের পার্বতীপুরে নির্মাণকাজের পারিশ্রমিক ও রাস্তার জমি নিয়ে বিরোধের জেরে সংঘটিত মারামারিতে প্রধান শিক্ষক মনোরঞ্জন রায়ের মৃত্যুর ঘটনায় দুই আসামিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। রংপুর রেঞ্জ ডিআইজি মোহাম্মদ আবদুল মাবুদের নির্দেশনা ও নিবিড় তত্ত্বাবধানে দ্রুত অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়।
সোমবার (২৬ অক্টোবর) বিকেলে রংপুর রেঞ্জ ডিআইজির মিডিয়া সেল সংবাদমাধ্যমকে এ তথ্য জানায়।
মিডিয়া সেল জানায়, গত রোববার দুপুরে পার্বতীপুর থানার বেলাইচণ্ডী ইউনিয়নের নয়া মোল্লাপাড়া গ্রামে প্রয়াত শিক্ষক আজিজুল হকের বাড়ির নির্মাণকাজের পারিশ্রমিক, ইউক্যালিপটাস গাছের কাঠের গুঁড়ির হিসাব এবং শ্রমিকদের মজুরি বণ্টন নিয়ে কাঠমিস্ত্রি ফরতাজ হোসেনের সঙ্গে আজিজুল হকের ছেলে আল-রোমানের বিরোধ সৃষ্টি হয়। এ ছাড়া বাড়ির পাশের রাস্তার জমি নিয়ে আল-রোমানের পরিবারের সঙ্গে স্থানীয় আশিকুজ্জামান আলো মিয়া ও তার ভাই আসাদুজ্জামানের পূর্ববিরোধ ছিল।
প্রাথমিক তদন্তে জানা যায়, ঘটনার দিন দুপুরে ফরতাজ হোসেন, আশিকুজ্জামান আলো মিয়া ও আসাদুজ্জামান আল-রোমানদের বাড়িতে উপস্থিত হলে আল-রোমানের মা মোছা. রোমানা আক্তারের সঙ্গে তাদের বাগ্বিতণ্ডা হয়।
এ সময় বিরোধ মীমাংসার উদ্দেশ্যে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন শিক্ষক মনোরঞ্জন রায়। তিনি প্রয়াত শিক্ষক আজিজুল হকের বন্ধু ছিলেন। প্রায় ১৩ বছর আগে আজিজুল হকের মৃত্যুর পর থেকে তার পরিবারের দেখাশোনায় সহযোগিতা করে আসছিলেন মনোরঞ্জন রায়।
বাগ্বিতণ্ডার একপর্যায়ে মনোরঞ্জন রায়ের ওপর হামলা চালানো হয়। তাকে সজনে গাছের ডাল ও লাঠি দিয়ে মারধর করা হয়। তিনি ঘটনাস্থল থেকে সরে যাওয়ার চেষ্টা করলে তাকে ধাওয়া করে আবারও মারধর করা হয়।
প্রাথমিক তদন্তে জানা যায়, মারধরের ঘটনায় শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত পেয়ে তিনি পাশের ধানক্ষেতে পড়ে যান। পরে তাকে উদ্ধার করে প্রয়াত শিক্ষক আজিজুল হকের বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হলে সেখানে তার মৃত্যু হয়।
নিহত মনোরঞ্জন রায় দিনাজপুরের চিরিরবন্দর থানার চক সুকদেবপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ছিলেন। তার বাড়ি চিরিরবন্দর থানার চক সুকদেবপুর এলাকায়।
জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এর মাধ্যমে ঘটনার খবর পাওয়ার পর পার্বতীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
রংপুর রেঞ্জ ডিআইজি মোহাম্মদ আবদুল মাবুদের নিবিড় তত্ত্বাবধানে দিনাজপুরের পুলিশ সুপার মো. জেদান আল মুসা, পিপিএম এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মো. আনোয়ার হোসেন, বিপিএম-সেবা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।
পরে ডিআইজির নির্দেশনা অনুযায়ী ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেফতারে অভিযান শুরু করা হয়। পুলিশ ঘটনাস্থলে নিহত ব্যক্তির সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করে এবং ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।
ঘটনার পরপরই প্রত্যক্ষদর্শীদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পার্বতীপুর থানা পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে আসাদুজ্জামানকে গ্রেফতার করে। পরে ২৬ অক্টোবর ভোর আনুমানিক ৪টার দিকে চিরিরবন্দর থানার ফতেজংপুর ইউনিয়নের হাসিমপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে অপর আসামি আশিকুজ্জামান আলো মিয়াকে গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতার ব্যক্তিরা হলেন আশিকুজ্জামান আলো মিয়া (৩৫) ও আসাদুজ্জামান (৩২)।
পুলিশ জানায়, নিহত শিক্ষক মনোরঞ্জন রায় দীর্ঘদিন ধরে হৃদরোগে ভুগছিলেন। তার মৃত্যুর প্রকৃত কারণ ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ও তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া যাবে।
ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্য ব্যক্তিদের শনাক্ত ও গ্রেফতারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। রংপুর রেঞ্জ পুলিশ যেকোনো বিরোধ শান্তিপূর্ণ ও আইনানুগ উপায়ে নিষ্পত্তির আহ্বান জানিয়েছে।
একই সঙ্গে আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া ও সহিংস কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা অব্যাহত থাকবে বলে জানানো হয়েছে।