
সিলেটের বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়িতে নির্যাতনে নিহত রায়হান আহমদ (৩৪) হত্যা মামলায় পলাতক পুলিশের বহিষ্কৃত উপপরিদর্শক (এসআই) আকবর হোসেন ভূঁইয়াকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। এ ছাড়া পুলিশের আরও দুই সদস্য কনস্টেবল টিটু চন্দ্র দাস ও কনস্টেবল হারুন অর রশীদকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
বাকি তিন আসামি বহিষ্কৃত সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) আশেক এলাহী, এএসআই হাসান উদ্দিন ও সংবাদকর্মী আব্দুল্লাহ আল নোমানকে সাত বছর করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার বিকেলে সিলেট মহানগর দায়রা জজ আদালতের বিচারক আব্দুল মজিদ মুন্সী এ রায় ঘোষণা করেন। আদালতের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ মুমিনুল ইসলাম মোমিন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, এ মামলার ছয় আসামির মধ্যে কেবল আশেক এলাহী কারাগারে আছেন। বাকি আসামিরা পলাতক।
রায় ঘোষণার জন্য বৃহস্পতিবার দুপুরে কড়া নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে কারাগারে থাকা একমাত্র আসামি পুলিশের বহিষ্কৃত এএসআই আশেক এলাহীকে আদালতে আনা হয়। এর আগে আদালতে উপস্থিত হন রায়হান আহমদের মা সালমা বেগম।
আসামিরা জামিন পাওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করে রায় ঘোষণার আগে সালমা বেগম বলেন, ‘এই রায় শুনে আমি কী করব? আমার রায়হানকে যারা নির্যাতন করে মেরেছে, তারা তো পালিয়ে গেছে।’
তিনি আরও বলেন, আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় থাকতে একজনেরও জামিন হয়নি। কিন্তু ২০২৫ সালে মামলার যুক্তিতর্ক শেষ হওয়ার পর কীভাবে প্রথম তিন আসামি জামিন পেলেন এবং জামিন পেয়ে পালিয়ে গেলেন, তা তিনি বুঝতে পারছেন না।
সালমা বেগম বলেন, ‘আজকে তো শুধু কাগজে-কলমে রায় হবে। আসামিরা তো শাস্তি পাচ্ছে না। আসামিরা শাস্তি না পেলে আমার ছয় বছরের অপেক্ষা আর কষ্ট বিফলে গেল।’
যেভাবে হত্যা করা হয় রায়হানকে
২০২০ সালের ১০ অক্টোবর রাতে সিলেট মহানগর পুলিশের বন্দরবাজার ফাঁড়িতে তুলে নিয়ে রায়হান আহমদকে নির্মমভাবে নির্যাতন করা হয়। পরদিন ১১ অক্টোবর তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় রায়হানের স্ত্রী পুলিশি হেফাজতে মৃত্যু (নিবারণ) আইনে মামলা করেন। তদন্তে নির্যাতনের সত্যতা পাওয়া যায়।
ঘটনার পরপরই এসআই আকবরসহ চার পুলিশ সদস্যকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয় এবং তিনজনকে প্রত্যাহার করা হয়। পরবর্তী সময়ে কনস্টেবল হারুনসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। ২০২০ সালের ৯ নভেম্বর কানাইঘাট সীমান্ত থেকে প্রধান অভিযুক্ত আকবরকে আটক করা হয়।
২০২১ সালের ৫ মে পিবিআই আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেয়। এতে ছয়জনকে আসামি করা হয়। তারা হলেন এসআই আকবর হোসেন ভূঁইয়া, এএসআই আশেক এলাহী, কনস্টেবল হারুন অর রশীদ, কনস্টেবল টিটু চন্দ্র দাস, এসআই হাসান উদ্দিন ও সংবাদকর্মী আব্দুল্লাহ আল নোমান। একই বছরের ৩০ সেপ্টেম্বর মামলার বিচার কার্যক্রম শুরু হয়।
জামিন নিয়ে পলাতক প্রধান আসামি
আদালত সূত্র জানায়, হত্যা মামলার প্রধান আসামি বন্দরবাজার ফাঁড়ির সাবেক ইনচার্জ এসআই আকবর হোসেন ভূঁইয়া ৪ আগস্ট হাইকোর্ট থেকে জামিন পান এবং ১০ আগস্ট কারাগার থেকে মুক্তি পান। পরে তার জামিন স্থগিত করা হলেও তিনি নিম্ন আদালতে আত্মসমর্পণ না করে পলাতক রয়েছেন। তিনি দেশ ছেড়ে পালিয়েছেন বলে জানা গেছে।